হাদীস নং ১৬১৭
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………হাফসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! লোকদের কি হল যে, তারা উমরা করে হালাল হয়ে গেল অথচ আপনি উমরা থেকে হালাল হননি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি তো আমার মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি এবং পশুর গলায় কিলাদা ঝুলিয়েছি। তাই কুরবানী না করে আমি হালাল হতে পারিনা।
হাদীস নং ১৬১৮
আবুল ইয়ামান রহ…….নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর রা. বলতেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের সময় তাঁর মাথা কামিয়েছিলেন।
হাদীস নং ১৬১৯
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ইয়া আল্লাহ ! মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি রহম করুন। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! যারা মাথার চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ইয়া আল্লাহ ! মাথা মুণ্ডন কারীদের প্রতি রহম করুন। সাহবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। এবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। লায়স রহ. বলেন, আমাকে নাফি রহ. বলেছেন, আল্লাহ মাথামুণ্ডনকারীদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, এ কথাটি তিনি একবার অথবা দু’ বার বলেছেন। রাবী বলেন, উবাদুল্লাহ রহ. নাফি রহ. থেকে বর্ণনা করেন, চতুর্থবার বলেছেন : চুল যারা ছোট করেছে তাদের প্রতিও।
হাদীস নং ১৬২০
আয়্যাশ ইবনে ওয়ালীদ রহ……আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ইয়া আল্লাহ ! মাথা মুণ্ডন কারীদের ক্ষমা করুন। সাহাবীগণ বললেন, যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ইয়া আল্লাহ ! মাথা মুণ্ডন কারীদের ক্ষমা করুন। সাহাবীগণ বললেন, যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাটি তিনবার বলেন, এরপর বললেন : যারা চুল ছোট করেছে তাদেরকেও।
হাদীস নং ১৬২১
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসমা রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা কামালেন এবং সাহাবীদের এক দলও। আর অন্য একটি দল চুল ছোট করলেন।
হাদীস নং ১৬২২
আবু আসিম রহ………ইবনে আব্বাস রা. ও মুআবিয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একটি কাঁচি দিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুল ছোট করে দিয়েছিলাম।
হাদীস নং ১৬২৩
মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় এসে সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন, তারা যেন বায়তুল্লাহ এবং সাফা ও মারওয়ার তাওয়াফ করে। এরপর মাথার চুল মুড়িয়ে বা চুল ছেটে হালাল হয়ে যায়।
হাদীস নং ১৬২৪
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে হজ্জ আদায় করে কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারত করলাম। এ সময় সাফিয়্যা রা.-এর হায়েয দেখা দিল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে তা ইচ্ছা করছিলেন যা একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সঙ্গে ইচ্ছা করে থাকে। আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তিনি তো হায়েযা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তবে তো সে আমাদের আটকিয়ে ফেলবে। তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সাফিয়্যা রা. তো কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারত করে নিয়েছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তবে রওয়ানা হও। কাসিম, উরওয়া ও আসাদ রহ. সূত্রে আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, সাফিয়্যা কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করেছেন।
হাদীস নং ১৬২৫
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যবেহ করা, মাথা কামান ও কংকর মারা এবং (এ কাজগুলো) আগে-পিছে করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন : কোন দোষ নেই।
হাদীস নং ১৬২৬
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিনাতে কুরবানীর দিন জিজ্ঞাসা করা হত, তখন তিনি বলতেন : কোন দোষ নেই। তাকে এক সাহাবী জিজ্ঞাসা করে বললেন, আমি যবেহ করার আগেই মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেন : যবেহ করে নাও, এতে দোষ নেই। সাহাবী আরো বললেন, আমি সন্ধ্যার পর কংকর মেরেছি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : কোন দোষ নেই।
হাদীস নং ১৬২৭
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত যে, বিদায় হজ্জের সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাওয়ারীতে) অবস্থান করছিলেন, তখন সাহাবীগণ তাকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন : একজন জিজ্ঞাসা করলেন, আমি জানতাম না, তাই কুরবানী করার আগেই (মাথা) কামিয়ে ফেলেছি। তিনি ইরশাদ করলেন : তুমি কুরবানী করে নাও, কোন দোষ নেই। তারপর অপর একজন এসে বললেন, আমি না জেনে কংকর মারার পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি ইরশাদ করলেন : কংকর মেরে নাও, কোন দোষ নেই। সেদিন যে কোন কাজ আগে পিছে করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, করে নাও, কোন দোষ নেই।
