হাদীস নং ১৬০৮
মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠালেন, আমি কুরবানীর পশুর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম, তারপর তিনি আমাকে আদেশ করলেন। আমি এর পিঠের আবরণ এবং চামড়াগুলোও বিতরণ করে দিলাম। সুফিয়ান রহ. আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ করলেন কুরবানীর পশুর পাশে দাঁড়াতে এবং এর থেকে পারিশ্রমিক হিসাবে কাসাইকে কিছু না দিতে।
হাদীস নং ১৬০৯
মুসাদ্দাদ রহ………আলী রা. থেকে বর্ণিত যে, তাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের কুরবানীর জানোয়ারের পাশে দাঁড়াতে আর এগুলোর সমুদয় গোশত, চামড়া এবং পিঠের আবরণ সমূহ বিতরণ করতে নির্দেশ দেন এবং এর থেকে যেন কসাইকে পারিশ্রমিক হিসাবে কিছুই না দেওয়া হয়।
হাদীস নং ১৬১০
আবু নুআইম রহ……..আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর একশ উট পাঠান এবং আমাকে গোশত সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন। আমি তা বন্টন করে দিলাম। এরপর তিনি তার পিঠের আবরণ সম্বন্ধে আমাকে নির্দেশ দিলেন, আমি তা বন্টন করে দিলাম। তারপর তিনি আমাকে চামড়া সম্বন্ধে নির্দেশ দেন, আমি তা বন্টন করে দিলাম।
হাদীস নং ১৬১১
মুসাদ্দাদ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আমাদের কুরবানীর গোশত মিনার তিন দিনের বেশি খেতাম না। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অনুমতি দিলেন এবং বললেন : খাও এবং সঞ্চয় করে রাখ। তাই আমরা খেলাম এবং সঞ্চয়ও করলাম। রাবী বলেন, আমি আতা রহ.-কে বললাম, জাবির রা. কি বলেছেন আমরা মদীনায় আসা পর্যন্ত ? তিনি বললেন, না।
হাদীস নং ১৬১২
খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যুল-কুদার পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হজ্জ ছাড়া আমরা অন্য কিছু উদ্দেশ্য করিনি, অবশেষে আমরা যখন মক্কার নিকটে পৌঁছলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলেন : যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই সে যেন বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে হালাল হয়ে যায়। আয়িশা রা. বলেন, এরপর কুরবানীর দিন আমাদের কাছে গুরুর গোশত পাঠানো হল। আমি বললাম, এ কি ? বলা হয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের তরফ থেকে কুরবানী করেছেন। ইয়াহইয়া রহ. বলেন, আমি কাসিম রহ.-এর নিকট হাদীসটি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আমরা রহ. হাদীসটি ঠিকভাবেই তোমার নিকট বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ১৬১৩
মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাওশাব রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সে ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, যে মাথা কামানোর আগে কুরবানী অথবা অনুরূপ কোন কাজ করেছে। তিনি বললেন : এতে কোন দোষ নেই, এত কোন দোষ নেই।
হাদীস নং ১৬১৪
আহমদ ইবনে ইউনুস রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক বাহাবী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আমি কংকর মারার আগেই তাওয়াফে যিয়ারত করে ফেলেছি। তিনি বললেন : কোন দোষ নেই। সাহাবী পুনরায় বললেন, আমি যবেহ করার আগেই মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেন : কোন দোষ নেই। সাহাবী আবারও বললেন, আমি কংকর মারার আগেই কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি বললেন : কোন দোষ নেই। আবদুর রহীম ইবনে সুলাইমান রাযী, কাসিম ইবনে ইয়াইইয়া ও আফফান রহ………ইবনে আব্বাস রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। হাম্মাদ রহ…….জাবির রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন।
হাদীস নং ১৬১৫
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল, সন্ধ্যার পর আমি কংকর মেরেছি। তিনি বললেন : কোন দোষ নেই। সে আবার বলল, কুরবানী করার আগেই আমি মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেন : এতে কোন দোষ নেই।
হাদীস নং ১৬১৫
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল, সন্ধ্যার পর আমি কংকর মেরেছি। তিনি বললেন : কোন দোষ নেই। সে আবার বলল, কুরবানী করার আগেই আমি মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেন : এতে কোন দোষ নেই।
হাদীস নং ১৬১৫
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল, সন্ধ্যার পর আমি কংকর মেরেছি। তিনি বললেন : কোন দোষ নেই। সে আবার বলল, কুরবানী করার আগেই আমি মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেন : এতে কোন দোষ নেই।
হাদীস নং ১৬১৬
আবদান রহ………আবূ মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বাতহা নামক স্থানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। তিনি বললেন : হজ্জ সমাধা করেছ ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন : কিসের জন্য ইহরাম বেঁধেছিলে ? আমি বললাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মত ইহরাম বেঁধে আমি তালবিয়া পাঠ করেছি। তিনি বললেন : ভালই করেছ। যাও বায়তুল্লাহর তাওয়াফ কর এবং সাফা-মারওয়ার সায়ী কর। এরপর আমি বনূ কায়স গোত্রের এক মহিলার নিকট এলাম। তিনি আমার মাথার উকুন বেছে দিলেন। তারপর আমি হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। (তখন থেকে) উমর রা.-এর খিলাফতকালে পর্যন্ত এ ভাবেই আমি লোকদের (হজ্জ এবং উমরা সম্পর্কে) ফতোয়া দিতাম। তারপর তাঁর সঙ্গে আমি এ বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি বললেন, আমরা যদি আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করি তাহলে তা তো আমাদের পূর্ণ করার নির্দেশ দেয়। আর যদি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের অনুসরণ করি তাহলে তো (দেখি যে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর পশু যথাস্থানে পৌঁছার আগে হালাল হননি।
