হাদীস নং ১৫৮৬
আবু নুমান রহ……..নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর পুত্র আবদুল্লাহ রা. তাঁর পিতাকে বললেন, আপনি (এবার বাড়িতেই) অবস্থান করুন। কেননা, বায়তুল্লাহ থেকে আপনার বাঁধাপ্রাপ্ত হওয়ার ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। আবদুল্লাহ রা. বললেন, তাহলে আমি তাই করব যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন। তিনি আরা বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। সুতরাং আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, (এবার) উমরা আদায় করা আমি আমার উপর ওয়াজিব করে নিয়েছি। তাই তিনি উমরার জন্য ইহরাম বাঁধলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি রওয়ানা হলেন, যখন বায়দা নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন তিনি হজ্জ এবং উমরা উভয়টির জন্য ইহরাম বেঁধে বললেন, হজ্জে এবং উমরার ব্যাপার তো একই। এরপর তিনি কুদাইদ নামক স্থান থেকে কুরবানীর জানোয়ার কিনলেন এবং মক্কা পৌছে (হজ্জ ও উমরা) উভয়টির জন্য একটি তাওয়াফ করলেন। উভয়ের সব কাজ শেষ করা পর্যন্ত তিনি ইহরাম খুললেন না।
হাদীস নং ১৫৮৭
আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ………মিসওয়ার ইবনে মাখরামা ও মারওয়ান রহ. থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ই বলেছেন, হুদাইবিয়ার সন্ধির পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাজারেরও অধিক সাহাবী নিয়ে মদীনা থেকে বের হয়ে যুল-হুলাইফা পৌছে কুরবানীর পশুটিকে কিলাদা পরালেন এবং ইশআর করলেন। এরপর তিনি উমরার ইহরাম বাঁধলেন।
হাদীস নং ১৫৮৮
আবু নুআইম রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নিজ হাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি। এরপর তিনি তাকে কিলাদা পরিয়ে ইশআর করার পর পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর যা হালাল ছিল এতে তা হারাম হয়নি।
হাদীস নং ১৫৮৯
মুসাদ্দাদ রহ……….হাফসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! লোকদের কি হল তারা হালাল হয়ে গেল আর আপনি হালাল হলেন না? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি তো আমার মাথার তালবিদ করেছি এবং আমার কুরবানীর জানোয়ারকে কিলাদা পরিয়ে দিয়েছি, তাই হজ্জ সমাধা না করা পর্যন্ত আমি হালাল হতে পারি না।
হাদীস নং ১৫৯০
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা থেকে কুরবানীর পশু পাঠাতেন, আমি তার গলায় কিলাদার মালা পাকিয়ে দিতাম। এরপর মুহরিম যে কাজ বর্জন করে, তিনি তার কিছু বর্জন করতেন না।
হাদীস নং ১৫৯১
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রা……… আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিলাম। এরপর তিনি তার ইশআর করলেন এবং তাকে কিলাদা পরিয়ে দিলেন অথবা আমি একে কিলাদা পরিয়ে দিলাম। এরপর তিনি তা বায়তুল্লাহর দিকে পাঠালেন এবং নিজে মদীনায় থাকলেন এবং তাঁর জন্য যা হালাল ছিল তা থেকে কিছুই তাঁর জন্য হারাম হয়নি।
হাদীস নং ১৫৯২
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…….যিয়াদ ইবনে আবু সুফিয়ান রহ. থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশা রা.-এর নিকট পত্র লিখলেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরবানীর পশু (মক্কা) পাঠায় তা যবেহ না করা পর্যন্ত তার জন্য ঐ সমস্ত কাজ হারাম হয়ে যায়, যা হাজীদের জন্য হারাম। (বর্ণনাকারিণী) আমরা রহ. বলেন, আয়িশা রা. বললেন, ইবনে আব্বাস রা. যেমন বলেছেন, ব্যাপারে তেমন নয়। আমি নিজ হাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি আর তিনি নিজ হাতে তাকে কিলাদা পরিয়ে দিন। এরপর আমার পিতার সংগে তা পাঠান। সে জানোয়ার যবেহ করা পর্যন্ত আল্লাহ কর্তৃক হালাল করা কোন বস্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি হারাম হয়নি।
হাদীস নং ১৫৯৩
আবু নুআইম রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর জন্য বকরী পাঠান।
হাদীস নং ১৫৯৪
আবু নুমান রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (কুরবানীর পশুর) কিলাদাগুলো পাকিয়ে দিতাম আর তিনি তা বকরীর গলায় পরিয়ে দিতেন। এরপর তিনি নিজ পরিবারে হালাল অবস্থায় থেকে যেতেন।
হাদীস নং ১৫৯৫
আবু নুমান রহ. ও মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বকরীর কিলাদা পাকিয়ে দিতাম আর তিনি সেগুলো পাঠিয়ে দিয়ে হালাল অবস্থায় থেকে যেতেন।
হাদীস নং ১৫৯৬
আবু নুআইম রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি, তাঁর ইহরাম বাঁধার আগে।
হাদীস নং ১৫৯৭
আমর ইবনে আলী রহ………উম্মুল মু’মিনীন (আয়িশা রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে যে পশম ছিল আমি তা দিয়ে কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি।
হাদীস নং ১৫৯৮
মুহাম্মদ রহ…….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটি কুরবানীর উট হাকিয়ে নিতে দেখে বললেন : এর উপর সাওয়ার হয়ে যাও। লোকটি বলল, এটি কুরবানীর উট। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এর উপর সাওয়ার হয়ে যাও। বর্ণনাকারী বলেন, আমি লোকটিকে দেখেছি যে, সে ঐ পশুটির পিঠি চড়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাথে চলছিল আর পশুটির গলায় জুতার মালা ঝুলান ছিল। মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ. এ বর্ণনার অনুসরণ করেছেন। উসমান ইবনে উমর রহ……….আবু হুরায়রা রা. সুত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
