হাদীস নং ১৫৭৯
হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ………আমর ইবনে মায়মুন রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর রা.-এর সাথে ছিলাম। তিনি মুযদালিফাতে ফজরের সালাত আদায় করে (মাশআরে হারামে) উকুফ করলেন এবং তিনি বললেন, মুশরিকরা সূর্য না উঠা পর্যন্ত রওয়ানা হত না। তারা বলত, হে সাবীর ! আলোকিত হও। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিপরীত করলেন এবং তিনি সূর্য উঠার আগেই রওয়ানা হলেন।
হাদীস নং ১৫৮০
আবু আসিম যাহহাক ইবনে মাখলাদ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযল রা.-কে তাঁর সওয়ারীর পেছনে বসিয়েছিলেন। সেই ফযল রা. বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় পৌছে কংকর নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করছিলেন।
হাদীস নং ১৫৮১
যুহাইর ইবনে হারব রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, আরাফা থেকে মুযদালিফা আসার পথে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সওয়ারীর পেছনে উসামা রা. বসা ছিলেন। এরপর মুযদালিফা থেকে মিনার পথে তিনি ফযলকে সওয়ারীর পেছনে বসালেন। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, তারা উভয়ই বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায়ে আকাবতে কংকর না মারা পর্যন্ত অনবরত তালবিয়া পাঠ করছিলেন।
হাদীস নং ১৫৮২
ইসহাক ইবনে মানসূর রহ………..আবু জামরা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রা.-কে তামাত্তু হজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে তা আদায় করতে আদেশ দিলেন। এরপর আমি তাকে কুরবানী সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তামাত্তুর কুরবানী হল একটি উট, গরু বা বকরী অথবা এক কুরবানীর পশুর মধ্যে শরীকানা এক অংশ। আবু জামরা রহ. বলেন, লোকেরা তামাত্তু হজ্জকে যেন অপছন্দ করত। একবার আমি ঘুমালাম তখন দেখলাম, একটি লোক যেন (আমাকে লক্ষ্য করে) ঘোষণা দিচ্ছে, উত্তম হজ্জ এবং মাকবুল তামাত্তু। এরপর আমি ইবনে আব্বাস রা.- এর কাছে এসে স্বপ্নের কথা বললাম। তিনি আল্লাহ আকবার উচ্চারণ করে বললেন, এটাই তো আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত। আদম, ওয়াহাব ইবনে জারীর এবং গুনদর রহ. শুবা রহ. থেকে মাকবুল উমরা এবং উত্তম এবং উত্তম হজ্জ বলে উল্লেখ করেছেন।
হাদীস নং ১৫৮৩
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট হাকিয়ে নিতে দেখে বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর। সে বলল, এ তো কুরবানীর উট। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর পিঠে সওয়ার হয়ে চল। এবারও লোকটি বলল, এতো কুরবানীর উট। এরপরও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর, তোমার সর্বনাশ ! এ কথাটি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারে বলেছেন।
হাদীস নং ১৫৮৪
মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট হাকিয়ে নিতে দেখে বললেন, এর উপর সাওয়ার হয়ে যাও। সে বলল, এ তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন, এর উপর সাওয়ার হয়ে যাও। লোকটি এ তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন, এর উপর সাওয়ার হয়ে যাও। এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন।
হাদীস নং ১৫৮৫
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ ও উমরা একসাথে পালন করেছেন। তিনি হাদী পাঠান অর্থাৎ যুল-হুলাইফা থেকে কুরবানীর জানোয়ার সাথে নিয়ে নেন। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে উমরার ইহরাম বাঁধেন, এরপর হজ্জের ইহরাম বাঁধেন সাহাবীগণ তাঁর সঙ্গে উমরার ও হজ্জের নিয়্যাতে তামাত্তু করলেন। সাহাবীগণের কতেক হাদী সাথে নিয়ে চললেন, আর কেউ কেউ হাদী সাথে নেননি। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা পৌছে সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করে বললেন : তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে এসেছ, তাদের জন্য হজ্জ সমাপ্ত করা পর্যন্ত কোন নিষিদ্ধ জিনিস হালাল হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে আসনি, তারা বায়তুল্লাহর এবং সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ করে চুল কেটে হালাল হয়ে যাবে। এরপর হজ্জের ইহরাম বাঁধবে। তবে যারা কুরবানী করতে পারবে না তারা হজ্জের সময় তিনদিন এবং বাড়িতে ফিরে গিয়ে সাতদিন সাওম পালন করবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা পৌঁছেই তাওয়াফ করলেন। প্রথমে হজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং তিন চক্কর রমল করে আর চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেটে তাওয়াফ করলেন। বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করে তিনি মাকামে ইবরাহীমের নিকট দু’ রাকআত সালাত আদায় করলেন, সালাম ফিরিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফায় আসলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর সায়ী করলেন। হজ্জ সমাধা করা পর্যন্ত তিনি যা কিছু হারাম ছিল তা থেকে হালাল হননি। তিনি কুরবানীর দিনে হাদী কুরবানী করলেন, সেখান থেকে এসে তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। তারপর তাঁর উপর যা হারাম ছিল সে সবকিছু থেকে তিনি হালাল হয়ে গেলেন। সাহাবীগণের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা সেরূপ করলেন, যেরূপ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন। উরওয়া রহ. আয়িশা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের সাথে উমরা পালন করেন এবং তাঁর সঙ্গে সাহাবীগণও তামাত্তু করেন, যেমনি বর্ণনা করেছেন সালিম রহ .ইবনে উমর রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ।
