হাদীস নং ১৫৬৮
আদম রহ……..উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশা একসাথে আদায় করেন। প্রত্যেকটির জন্য আলাদা ইকামত দেওয়া হয়। তবে উভয়ের মধ্যে বা পরে তিনি কোন নফল সালাত আদায় করেননি।
হাদীস নং ১৫৬৯
খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ………আবু আইয়্যূব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জের সময় মুযদালিফায় মাগরিব এবং ইশা একত্রে আদায় করেছেন।
হাদীস নং ১৫৭০
আমর ইবনে খালিদ রহ………আবদুর ইবনে ইয়াযিদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ রা. হজ্জ আদায় করলেন। তখন ইশার আযানের সময় বা তার কাছাকাছি সময় আমরা মুযদালিফা পৌঁছলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে আদেশ দিলেন। সে আযান দিল এবং ইকামত বলল। তিনি মাগরিব আদায় করলেন এবং এরপর আরো দু’ রাকআত আদায় করলেন। তারপর তিনি রাতের খাবার আনলেন এবং তা খেয়ে নিলেন। (রাবী বলেন) তারপর তিনি একজনকে আদেশ দিলেন। আমার মনে হয়, লোকটি আযান দিল এবং ইকামত বলল। আমর রহ. বলেন, আমার বিশ্বাস এ সন্দেহ যুহাইর রহ. থেকেই হয়েছে। তারপর তিনি দু’ রাকআত ইশার সালাত আদায় করলেন। ফজর হওয়া মাত্রই তিনি বললেন : এ সময়, এ দিনে, এ স্থানে, এ সালাত ব্যতীত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কোন সালাত আদায় করেননি। আবদুল্লাহ রা. বলেন, এ দুটি সালাত তাদের প্রচলিত ওয়াক্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই লোকেরা মুযদালিফা পৌঁছার পর মাগরিব আদায় করেন এবং ফজরের সময় হওয়া মাত্রই ফজরের সালাত আদায় করেন। আবদুল্লাহ রা. বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এইরূপ করতে দেখেছি।
হাদীস নং ১৫৭১
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………সালিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. তাঁর পরিবারের দুর্বল লোকদের আগেই পাঠিয়ে দিয়ে রাতে মুযদালিফাতে মাশআরে হারামের নিকট ওকুফ করতেন এবং সাধ্যমত আল্লাহর যিকির করতেন। তারপর ইমাম ওকুফ করার ও রওয়ানা হওয়ার আগেই তাঁরা (মিনায়) ফিরে যেতেন। তাদের থেকে কেউ মিনাতে আগমন করতেন ফজরের সালাতের সময় আর কেউ এরপরে আসতেন, মিনাতে এসে তাঁরা কংকর মারতেন। ইবনে উমর রা. বলতেন, তাদের জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এ ব্যাপারে কড়াকড়ি শিথিল করে সহজ করে দিয়েছেন।
হাদীস নং ১৫৭২
সুলাইমান ইবনে হারব রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রাতে মুযদালিফা থেকে পাঠিয়েছেন।
হাদীস নং ১৫৭৩
আলী রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফার রাতে তাঁর পরিবারের যে সব লোককে এখানে পাঠিয়েছিলেন, আমি তাদের একজন।
হাদীস নং ১৫৭৪
মুসাদ্দাদ রহ……….আসমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি মুযদালিফার রাতে মুযদালিফার কাছেকাছি স্থানে পৌছে সালাতে দাঁড়ালেন এবং কিছুক্ষণ সালাত আদায় করেন। তারপর বলেন, হে বৎস ! চাঁদ কি অস্তমিত হয়েছে ? আমি বললাম, না। তিনি আরো কিছুক্ষণ সালাত আদায় করলেন। তারপর বললেন, হে বৎস ! চাঁদ কি ডুবেছে ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, চল। আমরা রওয়ানা হলাম এবং চললাম। পরিশেষে তিনি জামরায় কংকর মারলেন এবং ফিরে এসে নিজের অবস্থানের জায়গায় ফজরের সালাত আদায় করলেন। তারপর আমি তাকে বললাম, হে ! আমার মনে হয়, আমরা বেশী অন্ধকার থাকতেই আদায় করে ফেলেছি। তিনি বললেন, বৎস ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের জন্য এর অনুমতি দিয়েছেন।
হাদীস নং ১৫৭৫
মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাওদা রা. মুযদালিফার রাতে (মিনা যাওয়ার জন্য) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুমতি চাইলেন, তিনি তাকে অনুমতি দেন। সাওদা রা. ছিলেন ভারী ও ধীরগতি মহিলা।
হাদীস নং ১৫৭৬
আবু নুআইম রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মুযদালিফায় অবতরণ করলাম। মানুষের ভিড়ের আগেই রওয়ানা হওয়ার জন্য সাওদা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি চাইলেন। আর তিনি ছিলেন ধীরগতি মহিলা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন। তাই তিনি লোকের ভিড়ের আগেই রওয়ানা হলেন। আর আমরা সকাল পর্যন্ত সেখানেই থেকে গেলাম। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওয়ানা হলেন, আমরা তাঁর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। সাওদার মত আমিও যদি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট অনুমতি চেয়ে নিতাম তাহলে তা আমার জন্য যে কোন খুশির কারণ থেকে অধিক সন্তুষ্টির ব্যাপার হত।
হাদীস নং ১৫৭৭
আমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দুটি সালাত ছাড়া কোন সালাত তার নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত আদায় করতে দেখিনি। তিনি মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেছেন এবং ফজরের সালাত তার (নিয়মিত) ওয়াক্তের আগে আদায় করেছেন।
হাদীস নং ১৫৭৮
আবদুল্লাহ ইবনে রাজা রহ………..আবদুর রাহমান ইবনে ইয়াযীদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ রা.-এর সঙ্গে মক্কা রওয়ানা হলাম। এরপর আমরা মুযদালিফায় পৌঁছলাম। তখন তিনি পৃথক পৃথক আযান ও ইকামতের সাথে উভয় সালাত আদায় করলেন এবং এই দু’ সালাতের মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নিলেন। তারপর ফজর হতেই তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন। কেউ কেউ বলছিল যে, ফজরের সময় হয়ে গেছে, আবার কেউ বলছিল যে, এখনো ফজরের সময় আসেনি। এরপর আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ দু’ সালাত অর্থাৎ মাগরিব ও ইশা এ স্থানে তাদের নিজ সময় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই ইশার ওয়াক্তের আগে কেউ যেন মুযদালিফায় না আসে। আর ফজরের সালাত এই মুহূর্তে। এরপর তিনি ফর্সা হওয়া পর্যন্ত সেখানে ওকুফ করেন। এরপর বললেন, আমীরুল মু’মিনীন যদি এখন রওয়ানা হন তাহলে তিনি সুন্নাত মুতাবিক কাজ করলেন। (রাবী বলেন) আমার জানা নেই, তাঁর কথা দ্রুত ছিল, না উসমান রা-এর রওয়ানা হওয়াটা। এরপর তিনি তালবিয়া পাঠ করতে থাকলেন, কুরবানীর দিন জামরায়ে আকাবাতে কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত।
