হাদীস নং ১৫৬০
আলী ইবনে আবদুল্লাহ ও মুসাদ্দাদ রহ………যুবাইর ইবনে মুতঈম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার একটি উট হারিয়ে আরাফার দিনে তা তালাশ করতে লাগলাম। তখন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আরাফায় ওকুফ করতে দেখলাম এবং বললাম, আল্লাহর কসম ! তিনি তো কুরাইশ বংশীয়। এখানে তিনি কি করছেন ?
হাদীস নং ১৫৬১
ফারওয়া ইবনে আবু মাগরা রহ………উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত যে, জাহিলী যুগে হুমস ব্যতীত অন্য লোকেরা উলঙ্গ অবস্থায় (বায়তুল্লাহর) তাওয়াফ করত। আর হুমস হল কুরাইশ এবং তাদের ঔরসজাত সন্তান-সন্তুতি। হুমসরা লোকদের সেবা করে সাওয়াবের আশায় পুরুষ পুরুষকে কাপড় দিত এবং সে তা পরে তাওয়াফ করত। আর স্ত্রীলোক স্ত্রীলোককে কাপড় দিত এবং কাপড়ে সে তাওয়াফ করত। হুমসরা যাকে কাপড় না দিত সে উলঙ্গ অবস্থায় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করত। সব লোক আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন করত আর হুমসরা প্রত্যাবর্তন করত মুযদালিফা থেকে। রাবী হিশাম রহ .বলেন, আমার পিতা আমার নিকট আয়িশা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এই আয়াতটি হুমস সম্পর্কে নযিল হয়েছে : “এরপর যেখান থেকে অন্য লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে” রাবী বলেন, তারা মুযদালিফা থেকে প্রত্যাবর্তন করত, এতে তাদের আরাফা পর্যন্ত যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল।
হাদীস নং ১৫৬২
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উসামা রা. কে জিজ্ঞাসা করা হল, তখন আমিও সেখানে বসা ছিলাম, বিদায় হজ্জের সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আরাফা থেকে ফিরতেন তখন তাঁর চলার গতি কি ছিল ? তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুতগতিতে চলতেন এবং যখন পথ মুক্ত পেতেন তখন তার চাইতেও দ্রুতগতিতে চলতেন। রাবী হিশাম রহ. বলেন, عنق থেকেও দ্রুতগতির ভ্রমণকে نص বলা হয়। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, فجوة অর্থ متسع খোলা পথ, এর বহুবচন হল فجوات ও فجاء- ركوة ও ركاء শব্দদ্বয়ও অনুরূপ। (কুরআনে বর্ণিত) ولات حين مناص এর অর্থ হল, পরিত্রাণের কোন উপায়-অবকাশ নেই।
হাদীস নং ১৫৬৩
মুসাদ্দাদ রহ………উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন তখন তিনি একটি গিরিপথের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন মিটিয়ে উযূ করলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি সালাত আদায় করবেন ? তিনি বললেন : সালাত তোমার আরো সামনে।
হাদীস নং ১৫৬৪
মূসা ইবেন ইসমাঈল রহ…….নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লহ ইবনে উমর রা. মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার সালাত এক সাথে আদায় করতেন। এ ছাড়া তিনি সেই গিরিপথ দিয়ে অতিক্রম করতেন যে দিকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিয়েছিলেন। আর সেখানে প্রবেশ করে তিনি ইসতিনজা করতেন এবং উযূ করতেন কিন্তু সালাত আদায় করতেন না। অবশেষে তিনি মুযদালিফায় পৌছে সালাত আদায় করতেন।
হাদীস নং ১৫৬৫
কুতাইবা রহ………উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরাফা থেকে সওয়ারীতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পেছনে আরোহণ করলাম। মুযদালিফার নিকটবর্তী বামপার্শ্বের গিরিপথে পৌঁছলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটটি বসালেন। এরপর পেশাব করে আসলেন। আমি তাকে উযূর পানি ঢেলে দিলাম। আর তিনি হাল্কাভাবে উযূ করে নিলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সালাত ? তিনি বললেন : সালাত তোমার আরো সামনে। এ কথা বলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরোহণ করে মুযদালিফা আসলেন এবং সালাত আদায় করলেন। মুযদালিফার ভোরে ফযল (ইবনে আব্বাস রা.) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে আরোহণ করলেন। কুরাইব রহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ফযল রা. থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় পৌছা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকেন।
হাদীস নং ১৫৬৬
সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি আরাফার দিনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ফিরে আসছিলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছনের দিকে খুব হাকডাক ও উট পেটানোর শব্দ শুনতে উট দ্রুত হাকানোর মধ্যে কোন কল্যাণ নেই (হাদীসে উল্লেখিত إيضاع এর প্রসঙ্গে ইমাম বুখারী রহ. কুরআনে উদ্ধৃত কয়েকটি শব্দের মর্মার্থ দেন) (কুরআনে উদ্ধৃত) أوضعوا তারা দ্রুত চলত। خلالكم তোমাদের ফাঁকে ঢুকে فجرنا خلالهما উভয়টির মধ্যে প্রবাহিত করেছি।
হাদীস নং ১৫৬৭
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফা থেকে ফেরার সময় গিরিপথে অবতরণ করে পেশাব করলেন এবং উযু করলেন। তবে পূর্ণাঙ্গ উযু করলেন না। আমি তাকে বললাম সালাত ? তিনি বললেন : সালাত তো তোমার সামনে। তারপর তিনি মুযদালিফায় এসে উযু করলেন এবং পূর্ণাঙ্গ উযু করলেন। তারপর সালাতের ইকামত হলে তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। এরপর প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে নিজ নিজ উট দাঁড় করিয়ে রাখার পর সালাতের ইকামত দেওয়া হল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায় করলেন। ইশা ও মাগরিবের মধ্যে তিনি আর কোন সালাত পড়েননি।
