হাদীস নং ১৫৫০
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……..আবদুল আযীয ইবনে রুফাইয় রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আপনি যা উত্তমরূপে স্মরণ রেখেছেন তার কিছুটা বলুন। বলুন, যিলহজ্জ মাসের আট তারিখ যুহর ও আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করতেন ? তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম, মিনা থেকে ফিরারদিন আসলের সালাত তিনি কোথায় আদায় করেছেন ? তিনি বললেন, মুহাসসাবে। এরপর আনাস রা. বললেন, তোমাদের আমীরগণ যেরূপ করবে, তোমরাও অনুরূপ কর।
হাদীস নং ১৫৫১
আলী ও ইসমাঈল ইবনে আবান রহ………আবদুল আযীয রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিলহজ্জ মাসের আট তারিখ মিনার দিকে বের হলাম তখন আনাস রা.-এর সাক্ষাত লাভ করি, তিনি গাধার পিঠে আরোহণ করে যাচ্ছিলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এ দিনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় যুহরের সালাত আদায় করেছিলেন ? তিনি বললেন, তুমি লক্ষ্য রাখবে যেখানে তোমার আমীরগণ সালাত আদায় করবে, তুমিও সেখানেই সালাত আদায় করবে।
হাদীস নং ১৫৫২
ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় দু’ রাকআত সালাত আদায় করেছেন, এবং আবু বকর উমর রা.ও । আর উসমান রা. তাঁর খিলাফতের প্রথম ভাগেও দু’ রাকআত আদায় করেছেন।
হাদীস নং ১৫৫৩
আদম রহ……..হারিসা ইবনে ওয়াহব খুযায় রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে মিনাতে দু’ রাকআত সালাত আদায় করেছেন। এ সময় আমরা আগের তুলনায় সংখ্যায় বেশী ছিলাম এবং অতি নিরাপদে ছিলাম।
হাদীস নং ১৫৫৪
কাবীসা ইবনে উকরা রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (মিনায়) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে দু’ রাকআত সালাত আদায় করেছি। আবু বকর রা.-এর সাথে দু’ রাকআত এবং উমর -এর সাথেও দু’ রাকআত আদায় করেছি। এরপর তোমাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে (অর্থাৎ উসমান রা.-এর সময় থেকে চার রাকআত সালাত আদায় করা শুরু হয়েছে) হায় ! যদি চার রাকআতের পরিবর্তে মকবুল দু’ রাকআতই আমার ভাগ্যে জুটত।
হাদীস নং ১৫৫৫
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..উম্মে ফাযল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আরাফার দিনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাওমের ব্যাপারে লোকজন সন্দেহ করতে লাগলেন। তাই আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শরবত পাঠিয়ে দিলাম। তিনি তা পান করলেন।
হাদীস নং ১৫৫৬
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আশ-শামী রহ………মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সাকাফী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তাঁরা উভয়ে সকাল বেলায় মিনা থেকে আরাফার দিকে যাচ্ছিলেন, আপনারা এ দিনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে থেকে কিরূপ করতেন ? তিনি বললেন, আমাদের মধ্যে যারা তালবিয়া পড়তে চাইত তারা পড়ত, তাঁতে বাঁধা দেয়া হত না এবং তাকবীর পড়তে চাইত তারা তাকবীর পড়ত, এতেও বাঁধা দেয়া হত না।
হাদীস নং ১৫৫৭
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আশ-শামী রহ………সালিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল মালিক (মক্কার গভর্নর) হাজ্জাজের নিকট লিখে পাঠালেন যে, হজ্জের ব্যাপারে ইবনে উমরের বিরোধিতা করবে না। আরাফার দিনে সূর্য ঢলে যাবার পর ইবনে উমর রা. হাজ্জাজের তাঁবুর কাছে গিয়ে উচ্চস্বরে ডাকলেন। আমি তখন তাঁর সাথেই ছিলাম, হাজ্জাজ হলুদ রঙের চাদর পরিহিত অবস্থায় বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন, কি ব্যাপার, হে আবু আবদুর রাহমান ? ইবনে উমর রা. বললেন, যদি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চাও তাহলে চল। হাজ্জাজ জিজ্ঞাসা করলেন, এ মুহূর্তেই ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। হাজ্জাজ বললেন, সামান্য অবকাশ দিন, মাথায় পানি ঢেলে বের হয়ে আসি। তখন তিনি তার সওয়ারী থেকে নেমে পড়লেন। অবশেষে হাজ্জাজ বেরিয়ে এলেন। এরপর হাজ্জাজ চলতে লাগলেন, আমি ও আমার পিতার মাঝে তিনি চললেন, আমি তাকে বললাম, যদি আপনি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চান তাহলে খুতবা সংক্ষিপ্ত করবেন এবং উকুফে জলদি করবেন। হাজ্জাজ আবদুল্লাহর দিকে তাকাতে লাগলেন। আবদুল্লাহ রা. যখন তাকে দেখলেন তখন বললেন, সে ঠিকই বলছে।
হাদীস নং ১৫৫৮
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……..উম্মে ফাযল বিনতে হারিস রা. থেকে বর্ণিত যে, লোকজন তাঁর সামনে আরাফার দিনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাওম সম্পর্কে মতভেদ করছিলেন। কেউ বলছিলেন তিনি সায়িম আবার কেউ বলছিলেন তিনি সায়িম নন। তারপর আমি তাঁর কাছে এক পিয়ালা দুধ পাঠিয়ে দিলাম, তিনি তখন উটের উপর ছিলেন, তিনি তা পান করে নিলেন।
হাদীস নং ১৫৫৯
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….সালিম ইবনে আবদুল্লাহ রহ. থেকে বর্ণিত যে, (খলীফা) আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে লিখে পাঠালেন, তিনি যেন হজ্জের ব্যাপারে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-কে অনুসরণ করেন। যখন আরাফার দিন হল, তখন সূর্য হেলে যাওয়ার পর ইবনে উমর রা. আসলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তাঁর তাঁবুর কাছে এসে উচ্চস্বরে ডাকলেন, ও কোথায় ? হাজ্জাজ বেরিয়ে আসলেন। ইবনে উমর রা. বললেন, চল। হাজ্জাজ বললেন, এখনই ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। হাজ্জাজ বললেন, আমাকে সামান্য অবকাশ দিন, মাথায় পানি ঢেলে বের হয়ে আসি। তখন তিনি তার সওয়ারী থেকে নেমে পড়লেন। অবশেষে হাজ্জাজ বেরিয়ে এলেন। এরপর হাজ্জাজ চলতে লাগলেন, আমি ও আমার পিতার মাঝে তিনি চললেন, আমি তাকে বললাম, যদি আপনি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চান তাহলে খুতবা সংক্ষিপ্ত করবেন এবং উকুফে জলদি করবেন। ইবনে উমর রা. বললেন, সে (সালিম) ঠিকই বলেছে।
