হাদীস নং ১৫৪২
মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফে কুদূমের সময় প্রথম তিন চক্করে রমল করতেন ও পরবর্তী চার চক্কর স্বাভাবিক গতিতে হেটে চলতেন এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ীর সময় বাতনে মসীরে দ্রুত চলতেন। আমি (উবাইদুল্লাহ) নাফি কে বললাম, আবদুল্লাহ রা. কি রুকন ইয়ামানীতে পৌছে হেটে চলতেন ? তিনি বললেন, না । তবে হজরে আসওয়াদের নিকট ভীড় হলে (একটুখানি মন্থর গতিতে চলতেন) কারণ তিনি তা চুম্বন না করে সরে যেতেন না।
হাদীস নং ১৫৪৩
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আমর ইবনে দীনার রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবনে উমর রা.-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, কোন ব্যক্তি যদি উমরা করতে গিয়ে শুধু বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে, আর সাফা ও মারওয়া সায়ী না করে, তার পক্ষে কি স্ত্রী সহবাস বৈধ হবে ? তখন তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কায়) উপনীত হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সাত চক্করে সমাধা করে মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু’ রাকআত সালাত আদায় করলেন, এরপরে সাত চক্করে সাফা ও মারওয়া সায়ী করলেন। (এতটুকু বলে ইবনে উমর রা. বলেন) তেমাদের জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। আমরা জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা.-কে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, সাফা ও মারওয়ার সায়ী করার পূর্বে কারো পক্ষে স্ত্রী সহবাস করা মোটেই বৈধ হবে না।
হাদীস নং ১৫৪৪
মক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় উপনীত হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করলেন। এরপর দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। এরপর সাফা ও মারওয়া সায়ী করলেন। এরপর তিনি (ইবনে উমর) তিলাওয়াত করলেন : “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ”।
হাদীস নং ১৫৪৫
আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ………আসিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে বললাম, আপনার কি সাফা ও মারওয়া সায়ী করতে অপছন্দ করতেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। কেননা তা ছিল জাহিলী যুগের নিদর্শন। অবশেষে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেন : “নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন। কাজই হজ্জ বা উমরাকারীদের জন্য এ দুইয়ের মধ্যে সায়ী করায় কোন দোষ নেই”। (২ : ১৫৮)
হাদীস নং ১৫৪৬
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের নিজ শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহর তাওয়াফে ও সাফা ও মারওয়ার মধ্যকার সায়ীতে দ্রুত চলে ছিলেন।
হাদীস নং ১৫৪৭
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মক্কায় আসার পর ঋতুবতী হওয়ার কারণে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা ও মারওয়া সায়ী করতে পারিনি। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অসুবিধার কথা জানালে তিনি বললেন : পবিত্র হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত অন্য সকল কাজ অপর হাজীদের ন্যায় সম্পন্ন করে নাও।
হাদীস নং ১৫৪৮
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না ও খলীফা রহ…….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ হজ্জ-এর ইহরাম বাঁধেন, তাদের মাঝে কেবল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তালহা রা. ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিলনা, আলী রা. ইয়ামান থেকে আগমন করেন, তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও সেরূপ ইহরাম বেঁধেছি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের মধ্যে যাদের নিকট কুরবানীর পশু ছিলনা, তাদের ইহরামকে উমরায় পরিণত করার নির্দেশ দিলেন, তারা যেন তাওয়াফ করে, চুল ছেটে অথবা মাথা মুণ্ডিয়ে হালাল হয়ে যায়। তাঁরা বলাবলি করতে লাগলেন, (যদি হালাল হয়ে যাই তাহলে) স্ত্রীর সাথে মিলনের পরপরই আমাদের পক্ষে মিনায় যাওয়াটা কেমন হবে ! তা অবগত হয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি পরে যা জানতে পেরেছি তা যদি আগে জানতে পারতাম, তাহলে কুরবানীর পশু সাথে আনতাম না। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে অবশ্যই ইহরাম ভঙ্গ করতাম। (হজ্জের সফরে) আয়িশা রা. ঋতুবতী হওয়ার কারণে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হজ্জের জন্য অন্য সকল কাজ সম্পন্ন করে নেন। পবিত্র হওয়ার পর তাওয়াফ আদায় করেন, (ফিরার পথে) আয়িশা রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সকলেই হজ্জ ও উমরা উভয়টি আদায় করে ফিরছে, আর আমি কেবল হজ্জ আদায় করে ফিরছি, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রা.-কে নির্দেশ দিলেন, যেন আয়িশা রা.-কে নিয়ে তানঈমে চলে যান, (যেখানে যেয়ে উমরার ইহরাম বাঁধবেন) আয়িশা রা. হজ্জের পর উমরা আদায় করে নিলেন।
হাদীস নং ১৫৪৯
মুআম্মাল ইবনে হিশাম রহ………হাফসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আমাদের যুবতীদেরকে বের হতে নিষেধ করতাম। এক মহিলা বনূ খালীফা-এর দুর্গে এলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, তাঁর বোন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক সাহাবী সহধর্মিণী ছিলেন। যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বারটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, ছয়টি যুদ্ধে আমার আমার বোনও স্বামীর সঙ্গে ছিলেন। তাঁর বোন বলেন, আমরা আহত যোদ্ধা ও অসুস্থ সৈনিকদের সেবা করতাম। আমার বোন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমাদের মধ্যে যার চাদর নেই, সে বের না হলে অন্যায় হবে কি ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমাদের একজন অপরজনকে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাদরটি দিয়ে দেওয়া উচিত এবং কল্যাণমূলক কাজে ও মুমিনদের দু’আয় বের হওয়া উচিত। উম্মে আতিয়্যা রা. আসলে এ বিষয়ে তাঁর নিকট আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক কথা (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আমার পিতা উৎসর্গ হউন) ব্যতীত কখনও উচ্চারণ করতেন না। আমি তাকে বললাম, আপনি কি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শুনেছেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। আমার পিতা উৎসর্গ হউন। তিনি বললেন : যুবতী ও পর্দানশিন মহিলাদেরও বের হওয়া উচিত। অথবা বললেন : পর্দানশিন যুবতী ও ঋতুবতীদেরও বের হওয়া উচিত। তারা কল্যাণমূলক কাজে এবং মুসলমানদের দু’আয় যথাস্থানে উপস্থিত হবে। তবে ঋতুবতী মহিলাগণ সালাতের স্থানে উপস্থিত হবে না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ঋতুবতী মহিলাও কি ? তিনি বললেন : (কেন উপস্থিত হবে না?) তারা কি আরাফার ময়দানে এবং অমুক অমুক স্থানে উপস্থিত হবে না ?
