হাদীস নং ১৫৩৮
ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ……..নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর রা. তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ-এর নিকট গেলেন, যখন তাঁর বাহন প্রস্তুত, তখন তাঁর ছেলে বললেন, আমার আশংকা হয় এ বছর মানুষের মধ্যে লড়াই হবে, তারা আপনাকে কাবায় যেতে বাঁধা দিবে। কাজেই এবার নিবৃত্ত হওয়াটাই উত্তম। তখন ইবনে উমর রা. বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএকবার রওনা হয়েছিলেন, কুরাইশ কাফিররা তাকে বায়তুল্লাহয় যেতে বাঁধা দিয়েছিল। আমাকেও যদি বায়তুল্লাহয় বাঁধা দেওয়া হয়, তবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন, আমিও তাই করব। কেননা, আমি উমরার সাথে হজ্জ-এর সংকল্প করছি। (রাবী) নাফি রহ. বলেন, তিনি মক্কায় উপনীত হয়ে উভয়টির জন্য মাত্র একটি তাওয়াফ করলেন।
হাদীস নং ১৫৩৯
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, যে বছর হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা.-এর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য মক্কায় আসেন, ঐ বছর ইবনে উমর রা. হজ্জের এরাদা করেন। তখন তাকে বলা হল, মানুষের মধ্যে যুদ্ধ হতে পারে। আমাদের আশংকা হচ্ছে যে, আপনাকে তারা বাঁধা দিবে। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। কাজেই এমন কিছু হলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন আমিও তাই করব। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি উমরার সংকল্প করলাম। এরপর তিনি বের হলেন এবং বায়দার উচু অঞ্চলে পৌছার পর তিনি বললেন, হজ্জ ও উমরার বিধান একই, তোমরা সাক্ষী থেকো, আমি উমরার সঙ্গে হজ্জেরও নিয়্যাত করলাম এবং তিনি কুদায়দ থেকে ক্রয় করা একটি হাদী পাঠালেন, এর অতিরিক্ত কিছু করেন নি। এরপর তিনি কুরবানী করেন নি এবং ইহরামও ত্যাগ করেননি এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাটা কোনটাই করেননি। অবশেষে কুরবানীর দিন এলে তিনি কুরবানী করলেন, মাথা মুণ্ডালেন। তাঁর অভিমত হল, প্রথম তাওয়াফের মাধ্যমেই তিনি হজ্জ ও উমরার উভয়ের তাওয়াফ সেরে নিয়েছেন। ইবনে উমর রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনই করেছেন।
হাদীস নং ১৫৪০
আহমদ ইবনে ঈসা রহ………মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে নাওফাল কুরাশী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি উরওয়া ইবনে যুবাইর রহ.-কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হজ্জ সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হজ্জ-এর বিষয়টি আয়িশা রা. আমাকে এইরূপে বর্ণনা দিয়েছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম উযূ করে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন। তা উমরার তাওয়াফ ছিল না। পরে আবু বকর রা. হজ্জ করেছেন, তিনিও হজ্জের প্রথম কাজ বায়তুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতেন, তা উমরার তাওয়াফ ছিল না। তারপর উমর রা.-ও অনুরূপ করতেন। এরপর উসমান রা. হজ্জ করেন। আমি তাকেও বায়তুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতে দেখেছি, তাঁর এই তাওয়াফও উমরার তাওয়াফ ছিল না। মুআবিয়া এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. (অনুরূপ করেন)। এরপর আমি আমার পিতা যুবাইর ইবনে আওয়াম রা.-এর সঙ্গে হজ্জ করলাম। তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ থেকেই শুরু করেন, আর তাঁর এ তাওয়াফ উমরার তাওয়াফ ছিল না। মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ রা.-কে আমি এরূপ করতে দেখেছি। তাদের সে তাওয়াফও উমরার তাওয়াফ ছিল না। সবশেষে আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-কেও অনুরূপ করতে দেখেছি। তিনিও সে তাওয়া উমরার তাওয়াফ হিসাবে করেননি। ইবনে উমর রা. তো তাদের নিকটেই আছেন তাঁর কাছে জেনে নিন না কেন ? সাহাবীগণের মধ্যে যারা অতীত হয়ে গেছেন তাদের কেউই মসজিদে হারামে প্রবেশ করে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সমাধা করার পূর্বে অন্য কোন কাজ করতেন না এবং তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করতেন না। আমার মা ও খালা রা.কে দেখেছি। তাঁরা উভয়ে মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম তাওয়াফ সমাধা করেন, কিন্তু তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করেন নি। আমার মা আমাকে বলেছেন যে, তিনি তাঁর বোন (আয়িশা রা. ও (আমার পিতা) যুবাইর রা. এবং অমুক অমুক উমরার নিয়্যাতে ইহরাম বাঁধেন। এরপর তাওয়াফ শেষে হালাল হয়ে যান।
হাদীস নং ১৫৪১
আবুল ইয়ামান রহ……….উরওয়া রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, মহান আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কি ? (অনুবাদ) সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্যতম। কাজেই যে কেউ কাবাঘরে হজ্জ বা উমরা সম্পন্ন করে, এ দুটির মাঝে যাতায়াতে করলে তার কোন দোষ নেই। (২ : ১৫৮) (আমার ধারণা যে,) সাফা-মারওয়ার মাঝে কেউ সায়ী না করলে তার কোন দোষ নেই। তখন তিনি (আয়িশা রা.) বললেন, হে ভাতিজা ! তুমি যা বললে, তা ঠিক নয়। কেননা, যা তুমি তাফসীর করলে, যদি আয়াতের মর্ম তাই হত, তাহলে আয়াতের শব্দবিন্যাস এভাবে لا جناح عليه أن لا يتطوف بهما হত দুটোর মাঝে সায়ী না করায় কোন দোষ নেই। কিন্তু আয়াতটি আনসারদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মুশাল্লাল নামক স্থানে স্থাপিত মানাত নামের মূর্তির পূজা করত, তার নামেই তারা ইহরাম বাঁধত। সে মূর্তির নামে যারা ইহরাম বাঁধত তার সাফা-মারওয়া সায়ী করাকে দোষ মনে করত। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! পূর্বে আমরা সাফা ও মারওয়া সায়ী করাকে দূষণীয় মনে করতাম। (এখন কি করব ?) এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ পাক إن الصفا والمروة من شعائر الله الآية অবতীর্ণ করেন। আয়িশা রা. বলেন, (সাফা ও মারওয়ার মাঝে) উভয় পাহাড়ের মাঝে সায়ী করা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিধান দিয়েছেন। কাজেই কারো পক্ষে এ দুয়ের সায়ী পরিত্যাগ করা ঠিক নয়। (রাবী বলেন) এ বছর আবু বকর ইবনে আবদুর রাহমান রা.-কে ঘটনাটি জানালাম। তখন তিনি বললেন, আমি তো এ কথা শুনিনি, তবে আয়িশা রা. ব্যতীত বহু আলিমকে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, মানাতের নামে যার ইহরাম বাঁধত তার সকলেই সাফা মাওয়া সায়ী করত, যখন আল্লাহ কুরআনে বায়তুল্লাহ তাওয়াফের কথা উল্লেখ করলেন, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার আলোচনা তাঁতে হল না, তখন সাহাবাগণ বলতে লাগলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা সাফা ও মারওয়া সায়ী করতাম, এখন দেখি আল্লাহ কেবল বায়তুল্লাহ তাওয়াফের কথা অবতীর্ণ করেছেন, সাফার উল্লেখ করেননি। কাজেই সাফা ও মারওয়া মাঝে সায়ী করলে আমাদের দোষ হবে কি ? এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক إن الصفا والمروة من شعائر الله الآية অবতীর্ণ করেন আবু বকর রা. আরো বলেন, আমি শুনতে পেয়েছি, আয়াতটি দু’ প্রকার লোকদের উভয়ের প্রতি লক্ষ্য করেই অবতীর্ণ হয়েছে, অর্থাৎ যারা জাহিলী যুগে সাফা ও মারওয়া সায়ী করা হতে বিরত থাকতেন, আর যারা তৎকালে সায়ী করত বটে, কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর সায়ী করার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাদের দ্বিধার কারণ ছিল আল্লাহ বায়তুল্লাহ তাওয়াফের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার কথা উল্লেখ করেননি ? অবশেষে বায়তুল্লাহ তাওয়াফের কথা আলোচনা করার পর আল্লাহ সাফা ও মারওয়া সায়ী করার কথা উল্লেখ করেন।
