হাদীস নং ১৫২৭
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..উম্মু সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট অসুস্থতার কথা জানালাম, অন্য সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে হারব রহ……..নবী সহধর্মিণী উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্ক থেকে প্রস্থান করার ইচ্ছা করলে উম্মে সালামা রা.-ও মক্কা ত্যাগের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন, অথচ তিনি তখনও বায়তুল্লাহ তওয়াফ করতে পারেননি। (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন তাকে বললেন : যখন ফজরের সালাতের ইকামত দেওয়া হবে আর লোকেরা সালাত আদায় করতে থাকবে, তখন তোমার উটে আরোহণ করে তুমি তাওয়াফ আদায় করে নিবে। তিনি তাই করলেন। এরপর সালাত আদায় করার পূর্বেই মক্কা ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন।
হাদীস নং ১৫২৮
আদম রহ…..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় উপনীত হয়ে সাত চক্করে তাওয়াফ সম্পন্ন করে মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু’ রাকআত সালাত আদায় করলেন। তারপর সাফার দিকে বেরিয়ে গেলেন। (ইবনে উমর রা. বলেন) মহান আল্লাহ বলেছেন : “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ”।
হাদীস নং ১৫২৯
হাসান ইবনে উমর বাসরী রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, কিছু লোক ফজরের সালাতের পর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করল। তারপর তার নসীহতকারীর (নসীহত শোনার জন্য) বসে গেল। অবশেষে সূর্যোদয় হলে তারা দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করল। তখন আয়িশা রা. বললেন, তারা বসে রইল আর যে সময়টিতে সালাত আদায় করা মাকরূহ তখন তারা সালাতে দাঁড়িয়ে গেল।
হাদীস নং ১৫৩০
ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……..আবদুল্লাহ (ইবনে উমর) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি, তিনি সূর্যোদয়ের সময় এবং সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।
হাদীস নং ১৫৩১
হাসান ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবদুল আযীয ইবনে রূফায়ই রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা.-কে ফজরের সালাতের পর তাওয়াফ করতে এবং দু’ রাকআত সালাত আদায় করতে দেখেছি। আবদুল আযীয রহ. আরও বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রহ.-কে আসরের সালাতের পর দু’ রাকআত সালাত আদায় করতে দেখেছি এবং তিনি বলেছেন আয়িশা রা. তাকে বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আসরের সালাতের পরের) এই দু’ রাকআত সালাত আদায় করা ব্যতীত তাঁর ঘরে প্রবেশ করতেন না।
হাদীস নং ১৫৩২
ইসহাক ওয়াসিতী রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠে সাওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন, যখনই তিনি হজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখন তাঁর হাতের বস্তু (লাঠি) দিয়ে তার দিকে ইশারা করতেন ও তাকবীর বলতেন।
হাদীস নং ১৫৩৩
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ…….উম্মে সালামা রাপ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমার অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেন : তুমি সাওয়ার হয়ে লোকদের পিছন দিক দিয়ে তাওয়াফ করে নাও। তাই আমি তাওয়াফ করছিলাম এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার পাশে সালাত আদায় করছিলেন ও সূরা والطور وكتاب مسطور তিলাওয়াত করছিলেন।
হাদীস নং ১৫৩৪
আবদুল্লাহ ইবনে আবুল আসওয়াদ রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পানি পান করানোর উদ্দেশ্যে মিনায় অবস্থানের রাতগুলো মক্কায় কাটানোর অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দেন।
হাদীস নং ১৫৩৫
ইসহাক ইবনে শাহীন রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি পান করার স্থানে এসে পানি চাইলেন, আব্বাস রা. বললেন, হে ফাযল ! তোমার মার নিকট যাও। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য তার নিকট থেকে পানীয় নিয়ে এস। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এখান থেকেই পান করান। আব্বাস রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! লোকেরা এই পানিতে হাতে রাখে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এখান থেকেই দিন এবং এই পানি থেকেই পান করলেন। এরপর যমযম কূপের নিকট এলেন। লোকেরা পানি তুলে (হাজীদের) পান করচ্ছিল, তখন তিনি বললেন : তোমরা কাজ করে যাও। তেমরা নেক কাজে রত আছ। এরপর তিনি বললেন : তোমরা পরাভূত হয়ে যাবে এ আশংকা না থাকলে আমি নিজেই নেমে (বালতির) রজ্জু এখানে নিতাম; এ বলে তিনি আপন কাঁধের প্রতি ইশারা করেন।
হাদীস নং ১৫৩৬
মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যমযমের পানি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করলাম। তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করলেন। (রাবী) আসিম বলেন, ইকরিমা রা. হলফ করে বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উটের পিঠে আরোহী অবস্থায়ই ছিলেন।
হাদীস নং ১৫৩৭
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজ্জে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বের হলাম এবং উমরার ইহরাম বাঁধলাম। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যার সাথে হাদী-এর জানোয়ার আছে সে যেন হজ্জ ও উমরা উভয়ের ইহরাম বেঁধে নেয়। তারপর উভয় কাজ সমাপ্ত না করা পর্যন্ত সে হালাল হবে না। আমি মক্কায় উপনীত হয়ে ঋতুবতী হলাম। যখন আমরা হজ্জ সমাপ্ত করলাম, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রাহমান রা.-এর সঙ্গে আমাকে তানঈম প্রেরণ করলেন। এরপর আমি উমরা পালন করলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এ হল তোমার পূর্ববর্তী উমরার স্থলবর্তী। ঐ হজ্জের সময় যারা (কেবল) উমরার নিয়্যাতে ইহরাম বেঁধে এসেছিলেন, তারা তাওয়াফ করে হালাল হয়ে গেলেন। এরপর তাঁরা মিনা হতে প্রত্যাবর্তন করে দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন। আর যারা একসাথে উমরা ও হজ্জের নিয়ত করেছিলেন, তাঁরা একবার তাওয়াফ করলেন।
