হাদীস নং ১৫১৬
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠে (আরোহণ করে) বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন, যখনই তিনি হজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখনই কোন কিছু দিয়ে তার প্রতি ইশারা করতেন।
হাদীস নং ১৫১৭
মুসাদ্দাদ রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠে আরোহণ করে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন, যখনই তিনি হজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখনই কোন কিছু দিয়ে তার প্রতি ইশারা করতেন। ইবরাহীম ইবনে তাহমান রহ. খালিদ হাযযা রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।
হাদীস নং ১৫১৮
আসবাগ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম উযূ করে তাওয়াফ সম্পন্ন করেন। (রাবী) উরওয়া রহ. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই তাওয়াফটি উমরার তাওয়াফ ছিল না। তারপর আবু বকর ও উমর রা. অনুরূপভাবে হজ্জ করেছেন। এরপর আমার পিতা যুবাইর রা.-এর সাথে আমি হজ্জ করেছি তাতেও দেখেছি যে, সর্বপ্রথম তিনি তাওয়াফ করেছেন। এরপর মুহাজির, আনসার সকল সাহাবা রা. খে এরূপ করতে দেখেছি। আমার মা আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি তাঁর বোন এবং যুবাইর ও অমুক অমুক ব্যক্তি উমরার ইহরাম বেঁধেছেন, যখন তাঁরা তাওয়াফ সমাধা করেছেন, হালাল হয়ে গেছেন।
হাদীস নং ১৫১৯
ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় উপনীত হয়ে হজ্জ বা উমরা উভয় অবস্থায় সর্বপ্রথম যে তাওয়াফ করতেন, তাঁর প্রথম তিন চক্করে রমল করতেন এবং পরবর্তী চার চক্করে স্বাভাবিকভাবে হেটে চলতেন। তাওয়াফ শেষে দু’ রাকআত সালাত আদায় করে সাফা ও মারওয়ায় সায়ী করতেন।
হাদীস নং ১৫২০
ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহ পৌছে প্রথম তাওয়াফ করার সময় প্রথম তিন চক্করে রমল করতেন এবং পরবর্তী চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে হেটে চলতেন। সাফা ও মারওয়ায় সায়ী করার সময় উভয় টিলার মধ্যবর্তী নিচু স্থানটুকু দ্রুতগতিতে চলতেন।
হাদীস নং ১৫২১
ইসমাঈল রহ…….নবী সহধর্মিণী উম্মু সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেন : বাহনে আরোহণ করে মানুষের পেছনে পেছনে থেকে তাওয়াফ কর। আমি মানুষের পেছনে পেছনে থেকে তাওয়াফ করছিলাম, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবাঘরের পার্শ্বে সালাত আদায় করছিলেন এবং তাঁতে তিনি والطور وكتاب مسطور এই (সূরাটি) তিলাওয়াত করেছিলেন।
হাদীস নং ১৫২২
ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর তাওয়াফের সময় এক ব্যাক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, সে চামড়ার ফিতা বা সূতা অথবা অন্য কিছু দ্বারা আপন হাত অপর এক ব্যক্তির সাথে বেঁধে দিয়েছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে তার বাঁধন ছিন্ন করে দিয়ে বললেন : হাত ধরে টেনে নাও।
হাদীস নং ১৫২৩
আবু আসিম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কাবাঘর তাওয়াফ করতে দেখতে পেলেন এ অবস্থায় যে, চাবুকের ফিতা বা অন্য কিছু দিয়ে তখন তিনি তা ছিন্ন করে দিলেন।
হাদীস নং ১৫২৪
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের পূর্বে যে হজ্জে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর রা.-কে আমীর নিযুক্ত করেন, সে হজ্জে কুরবানীর দিন (আবু বকর রা.) আমাকে একদল লোকের সঙ্গে পাঠালেন, যারা লোকদের কাছে ঘোষণা করবে যে, এ বছরের পর থেকে কোন মুশরিক হজ্জ করবে না এবং বিবস্ত্র হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবে না।
হাদীস নং ১৫২৫
কুতাইবা রহ………আমর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবনে উমর রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, উমরাকারীর জন্য সাফা ও মারওয়া সায়ী করার পূর্বে স্ত্রী সহবাস বৈধ হবে কি ? তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় উপনীত হয়ে সাত চক্করে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সমাপ্ত করে মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু’ রাকআত সালাত আদায় করেন, তারপর সাফা ও মারওয়া সায়ী করেন। এরপর ইবনে উমর রা. তিলাওয়াত করেন, “তোমাদের জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে”। (রাবী) আমর রহ. বলেন, আমি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, সাফা ও মারওয়া সায়ী করার পূর্বে স্ত্রী সহবাস বৈধ নয়।
হাদীস নং ১৫২৬
মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় উপনীত হয়ে সাত চক্করে তাওয়াফ করে, সাফা ও মারওয়া সায়ী করেন, এরপর (প্রথম) তাওয়াফের পরে আরাফা থেকে ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত বায়তুল্লাহর নিকটবর্তী হন নি (তাওয়াফ করেননি)।
