হাদীস নং ১৫০৬
আবু মামার রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (মক্কা) এলেন, তখন কাবাঘরে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানান। কেননা কাবাঘরের ভিতরে মূর্তি ছিল। তিনি নির্দেশ দিলেন এবং মূর্তিগুলো বের করে ফেলা হল। (এক পর্যায়ে) ইবরাহীম ও ইসমাঈল আ.-এর প্রতিকৃতি বের করে আনা হয়-তাদের উভয়ের হাতে জুয়া খেলার তীর ছিল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আল্লাহ ! (মুশরিকদের) ধ্বংস করুন। আল্লাহর কসম ! অবশ্যই তারা জানে যে, (ইবরাহীম ও ইসমাঈল আ.) তীর দিয়ে অংশ নির্ধারণের ভাগ্য পরীক্ষা কখনো করেননি। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবাঘরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের চারদিকে তাকবীর বলেন। কিন্তু ঘরের ভিতরে সালাত আদায় করেননি।
হাদীস নং ১৫০৭
সুলাইমান ইবনে হারব রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণকে নিয়ে মক্কা আগমন করলে মুশরিকরা মন্তব্য করল, এমন একদল লোক আসছে যাদেরকে ইয়াসরিব-এর জ্বর দূর্বল করে দিয়েছে (এ কথা শুনে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণকে তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল করতে (উভয় কাঁধ হেলেদুলে জোর কদমে চলতে) এবং উভয় রুকনের মধ্যবর্তী স্থানটুকু স্বাভাবিক গতিতে চলতে নির্দেশ দিলেন, সাহাবাদের প্রতি দয়াবশত সব কয়টি চক্করে রমল করতে আদেশ করেননি।
হাদীস নং ১৫০৮
আসবাগ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মক্কায় উপনীত হয়ে তাওয়াফের শুরুতে হজরে আসওয়াদ ইস্তিলাম করতে এবং সাত চক্করের মধ্যে প্রথম তিন চক্করে রমল করতে দেখেছি।
হাদীস নং ১৫০৯
মুহাম্মদ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ এবং উমরার তাওয়াফে (প্রথম) তিন চক্করে রমল করেছেন, অবশিষ্ট চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে চলেছেন। লাইস রহ. হাদীস বর্ণনায় সুরাইজ ইবনে নুমান রহ.-এর অনুসরণ করে বলেন, কাসীর ইবনে ফারকাদ রহ……….ইবনে উমর রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ১৫১০
সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ…….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনে খাত্তাব রা. হাজরে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে ! আল্লাহর কসম ! আমি নিশ্চিত রূপে জানি তুমি একটি পাথর, তুমি কারও কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না। এরপর তিনি চুম্বন করলেন। পরে বললেন, আমাদের রমল করার উদ্দেশ্যে কি ছিল? আমরা তো রমল করে মুশরিকদেরকে আমাদের শক্তি প্রদর্শন করেছিলাম। আল্লাহ এখন তাদের ধ্বংস করে দিয়েছেন। এরপর বললেন, যেহেতু এই (রমল) কাজটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন, তাই তা পরিত্যাগ করা পছন্দ করি না।
হাদীস নং ১৫১১
মুসাদ্দাদ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (তাওয়াফ করার সময়) এ দুটি রুকন ইস্তিলাম করতে দেখেছি, তখন থেকে ভীড় থাকুক বা নাই থাকুক কোন অবস্থাতেই এ দুইয়ের ইস্তিলাম করা বাদ দেইনি। (রাবী উবায়দুল্লাহ রহ. বলেন) আমি নাফিকে রহ. জিজ্ঞাসা করলাম, ইবনে উমর রা. কি ঐ রুকনের মধ্যবর্তী স্থানে স্বাভাবিক গতিতে চলতেন ? তিনি বললেন, সহজে ইস্তিলাম করার উদ্দেশ্যে তিনি (এতদূভয়ের মাঝে) স্বাভাবিকভাবে চলতেন।
হাদীস নং ১৫১২
আহমদ ইবনে সালিহ ও ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠে আরোহণ করে তাওয়াফ করার সময় ছড়ির মাধ্যমে হাজরে আসওয়াদ ইস্তিলাম করেন। দারাওয়ার্দী রহ. হাদীস বর্ণনায় ইউনুস রহ.-এর অনুসরণ করে ইবনে আবিয যুহরী রহ. সূত্রে তার চাচা (যুহরী) রহ. থেকে রিওয়ায়েত করেছেন।
হাদীস নং ১৫১৩
আবুল ওয়ালীদ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কেবল ইয়ামানী দু’ রুকনকে ইস্তিলাম করতে দেখেছি।
হাদীস নং ১৫১৪
আহমদ ইবনে সিনান রহ……….আসলাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর ইবনে খাত্তাব রা.-কে হজরে আসওয়াদ চুম্বন করতে দেখেছি। আর তিনি বললেন, যদি আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখতাম তাহলে আমিও তোমায় চুম্বন করতাম ন।
হাদীস নং ১৫১৫
মুসাদ্দাদ রহ…….যুবাইর ইবনে আরাবী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি হজরে আসওয়াদ সম্পর্কে ইবনে উমর রা.-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। সে ব্যক্তি বলল, যদি ভীড়ে আটকে যাই বা অপারগ হই তাহলে আপনার অভিমত কি ? তিনি বললেন, আপনার অভিমত কি ? এ কথাটি ইয়ামনে রেখে দাও। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ফেরেবরী রহ. বলেন, আমি আবু জাফর রহ.-এর কিতাবে পেয়েছি তিনি বলেছেন, আবু আবদুল্লাহ যুবাইর ইবনে আদী রহ. তিনি হলেন কুফী আর যাবাইর ইবনে আরাবী রহ .তিনি হলেন বসরী।
