হাদীস নং ১৪৯৫
হুমাইদী রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরবানীর দিনে মিনায় অবস্থানকালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমরা আগামীকাল (ইনশাআল্লাহ) খায়ফ বনী কিনানায় অবতরণ করব, যেখানে তারা কুফরীর উপরে শপথ নিয়েছিল। (রাবী বলেন) খায়ফ বনী কিনানাই হল মুহাসসাব। কুরাইশ ও কিনানা গোত্র বনূ হাশিম ও বনূ আবদুল মুত্তালিবের বিরুদ্ধে এই বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল, যে পর্যন্ত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাদের হাতে সমর্পণ করবে না সে পর্যন্ত তাদের সাথে বিয়ে-শাদী ও বেচা-কেনা বন্ধ থাকবে। সালাম রহ. উকাইল রহ. সূত্রে এবং ইয়াহইয়া ইবনে যাহহাক রহ. আওযায়ী রহ. সূত্রে ইবনে শিহাব যুহরী রহ. থেকে বর্ণিত, এবং তাঁরা উভয়ে বনূ হাশিম ও বনূ মুত্তালিব বলে উল্লেখ করেছেন। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) রহ. বলেন, বনূ মুত্তালিব হওয়াই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হাদীস নং ১৪৯৬
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন : হাবশার অধিবাসী পায়ের সরু নলা বিশিষ্ট লোকেরা কাবাঘর ধ্বংস করবে।
হাদীস নং ১৪৯৭
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর এবং মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমযানের সাওম ফরয হওয়ার পূর্বে মুসলিমগণ আশুরার সাওম পালন করতেন। সে দিনই কাবাঘর (গিলাফে) আবৃত করা হত। তারপর আল্লাহ যখন রমযানের সাওম ফরয করলেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আশুরার সাওম যার ইচ্ছা পালন করবে আর যার ইচ্ছা সে ছেড়ে দিবে।
হাদীস নং ১৪৯৮
আহমদ ইবনে হাফস রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়াজুজ ও মাজুজ বের হওয়ার পরও বায়তুল্লাহর হজ্জ ও উমরা পালিত হবে । আবান ও ইমরান রহ. কাতাদা রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় হাজ্জাজ ইবনে হাজ্জাজের অনুসরণ করেছেন। আবদুর রহমান রহ. শুবা রহ. থেকে বর্ণনা করেন, বায়তুল্লাহর হজ্জ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। প্রথম রিওয়ায়াতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) রহ. বলেন, কাতাদা রহ. রিওয়ায়েতটি আবদুল্লাহ রহ. থেকে এবং আবদুল্লাহ রহ. আবু সাঈদ রা. থেকে শুনেছেন।
হাদীস নং ১৪৯৯
আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব এবং কাবীসা রহ………..আবু ওয়াইল রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কাবার সামনে আমি শায়বার সাথে কুরসীতে বসলাম। তখন তিনি বললেন, উমর রা. এখানে বসেই বলেছিলেন, আমি কাবাঘরে রক্ষিত সোনা ও রূপা বন্টন করে দেওয়ার ইচ্ছা করেছি। (শায়বা বলেন) আমি বললাম, আপনার উভয় সঙ্গী (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর রা.) তো এরূপ করেননি। তিনি বললেন, তাঁরা এমন দু’ ব্যক্তিত্ব যাদের অনুসরণ আমি করব।
হাদীস নং ১৫০০
আমর ইবনে আলী রহ…………ইবনে আব্বাস রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি যেন দেখতে পাচ্ছি কাল বর্ণের বাঁকা পা বিশিষ্ট লোকেরা (কাবাঘরের) একটি একটি করে পাথর খুলে এর মূল উৎপাটন করে দিচ্ছে।
হাদীস নং ১৫০১
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : হাবশার অধিবাসী পায়ের সরু নলা বিশিষ্ট লোকেরা কাবাঘর ধ্বংস করবে।
হাদীস নং ১৫০২
মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……….উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে এসে তা চুম্বন করে বললেন, আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একখানা পাথর মাত্র, তুমি কারো কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে কখনো আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।
হাদীস নং ১৫০৩
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উসামা ইবনে যায়েদ, বিলাল ও উসমান ইবনে তালহা রা. বায়তুল্লাহর ভিতরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিলেন। যখন খুলে দিলেন তখন প্রথম আমিই প্রবেশ করলাম এবং বিলালের সাক্ষাত পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কাবার ভিতরে সালাত আদায় করেছেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, ইয়ামানের দিকের দুটি স্তম্ভের মাঝখানে।
হাদীস নং ১৫০৪
আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ…….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, যখন তিনি কাবা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতেন, তখন দরজা পিছনে রেখে সোজা সম্মুখের দিকে চলে যেতেন, এতদূর অগ্রসর হতেন যে, সম্মুখের দেওয়ালটি মাত্র তিন হাত পরিমাণ দূরে থাকত এবং বিলাল রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে সালাত আদায় করেছেন বলে বর্ণনা করেছেন, সেখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে তিনি সালাত আদায় করতেন। অবশ্য কাবার ভিতরে যে কোন স্থানে সালাত আদায় করাতে কোন দোষ নেই।
হাদীস নং ১৫০৫
মুসাদ্দাদ রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরা করতে গিয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন ও মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু’ রাকআত সালাত আদায় করলেন এবং তাঁর সাথে ঐ সকল সাহাবী ছিলেন যারা তাকে লোকদের থেকে আড়াল করে ছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার ভিতরে প্রবেশ করেছিলেন কি না — জনৈক ব্যক্তি আবু আওফা রা.-এর নিকট তা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, না।
