আমি ওর কাঁধে হাত রাখলাম। নরম এবং গরম। ও গুঙিয়ে উঠল। না… এখন না।
তারপর হাসল স্যালি, সিরিয়াস গলায় বলল, চলো, নিচে যাই, ড্যান।
আমরা হাত ধরাধরি করে ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে নিচে, পিয়েরে যেখানে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে, সেখানে চলে এলাম।
তুমি এ বেচারাকে ভয়ে আধমরা করে ফেলেছ, জোর করে মুখে হাসি ফোঁটালাম আমি। আমি তোমাকে যেভাবে সামাল দিতে পারি ও তা পারে না।
তুমি সবসময়ই বড় অধীর আর ব্যাকুল, ড্যান । কিন্তু ও আমার কাছে কিছুতেই ধরা দিতে চায় না। সবসময় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা। অন্যমনস্কভাবে বলল স্যালি, ফিরিয়ে দিল না আমার হাসি। বাড়ির পেছন দিকটায় ফিরল। ওখানে মাতামাতি করছে ঝড়। স্যালি যখন কথা বলল, গলার স্বর খসখসে। শোনাল, আরেকবার বলো আমার জন্য তুমি কতটা ফিল কর, ড্যান।
আমি তোমাকে ভালবাসি, স্যালি। ভালবাসব সবসময়। একদম সত্যি কথা!
স্যালি আবার পিটপিট করল চোখ, তারপর যেন একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, এমন ভঙ্গিতে হাঁটা দিল সদর দরজায়। এদিকে এসো, আদেশ করল ও। আমি ওর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। খোলো এটা।
অবাক আমি তবু ওর হুকুম পালন করলাম। দরজাটি সহজেই খুলে গেল। শটগানের গুলির মত বৃষ্টির ধারাল ফোঁটাগুলো আঘাত হানল আমার মুখে, ভারসাম্য প্রায় হারিয়ে ফেলছিলাম। বাইরের ধ্বংসযজ্ঞের দিকে নজর বুলালাম। খুবই ভয়াবহ অবস্থা। স্যালির গলার স্বর ভেসে এল পেছন থেকে, আশ্চর্য করুণ এবং একাকি, বিদায়, ড্যান। তারপরই দরজা বন্ধ করে দিল সে।
স্যালি, আমাকে ভেতরে ঢুকতে দাও, চেঁচালাম আমি।
জবাবে আর্তনাদ ছাড়ল বাতাস।
স্যালি, পিয়েরের কী হবে?
পাগলের মত এক দৌড়ে বাড়ির পেছনে চলে এলাম, ভেতরে ঢুকবার রাস্তা খুঁজছি। কোনও লাভ নেই। এ বাড়ি ফোর্ট নক্সের চেয়েও দুর্ভেদ্য। ঢোকার কিছু উপায় নেই।
আবছা মনে পড়ে জলকাদা, মাটিতে পড়ে থাকা গাছপালা, বেড়া ইত্যাদির মাঝে হামাগুড়ি দিয়ে অবশেষে হাইওয়েতে উঠে পড়ি আমি। তখন প্রায় মাঝরাত। হোঁচট খেতে খেতে রওনা হই বেটসভিলের দিকে।
টডকে ওর অফিসেই পেয়ে গেলাম; সে অপ্রত্যাশিত হারিকেন ঝড় নিয়ে প্রথম পৃষ্ঠায় বিস্তারিত একটি লেখা লিখবে ঠিক করেছিল। আমি বললাম আমার এক বন্ধু সিঁড়ি থেকে পড়ে গেছে। ওকে একা সরিয়ে নিতে ভয় পাচ্ছি পাছে ইন্টারনাল কোনও ইনজুরি হয়। টড অবশ্য আমার চোখমুখ দেখেই বুঝে ফেলেছিল আমি মিথ্যা বলছি। আমার মিথ্যাচারিতার সঙ্গে ভৌতিক কোনও বিষয় জড়িত।
টড, একজন ডেপুটি শেরিফ এবং একজন অ্যাম্বুলেন্স অ্যাটেনডেন্টকে নিয়ে আমি ফিরে এলাম মরগান ম্যানসনে। চার মাইল রাস্তা পার হতে প্রায় এক ঘণ্টা লাগল।
গাড়ির হেডলাইটের আলোয় ধ্বংসপ্রাপ্ত জায়গাটিতে একবার চোখ বুলিয়ে টড ফিসফিস করে বলল, মাই গড! আমার মুখে তখন কোনও রা নেই। বাড়িটিকে দেখে মনে হচ্ছে যেন পাঁচশ বছর ধরে এর গায়ে কোনও রঙের প্রলেপ পড়েনি। প্রলয়ংকরী বাতাসে জানালা ভেঙে কজার সঙ্গে ঝুলে আছে, বাড়ির পশ্চিম অংশের ছাদ পুরোটাই ধসে গেছে, যেখানে লন আর বাগান ছিল সেখানে এক পুকুর কাদাজল থই থই… আর সদর দরজাটা ভেঙে বাতাসের বাড়িতে ডানে-বামে শুধু মুখ নাড়ছে।
পিয়েরের কোনও চিহ্নই নেই… তখনও পেলাম না, পরেও নয়।
ডেপুটি এবং করোনার বলল তাদের ধারণা পিয়েরে ঝড়ো বাতাসে বেরিয়ে পড়েছিল এবং দুর্ঘটনাবশতঃ ডুবে মরেছে।
কিন্তু আমার ধারণা আসল সত্যটি আমি জানি আসলে কী হয়েছে পিয়েরের সম্ভবতঃ টডও কিছু সন্দেহ করেছে তবে সে মুখ বুজে রইল।
আমি একটা প্রবাদে খুব বিশ্বাস করি কারও পৌষ মাস কারও সর্বনাশ। আমি স্যালির ওই ছোট্ট সেক্সি স্বর্গে সুখেই থাকতে পারতাম।
ও ছিল দারুণ কামুকী এক নারী –একটু হিংস্র তবে চমৎকার –ওর চাহিদাও ছিল প্রচুর। তবে আমার চাহিদা ছিল আরও বেশি।
বিকৃত কিছু কারণে ও হয়তো আমার প্রেমেও পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু স্যালি তার কামনার নেশা মেটাতে পিয়েরেকে ধরে নিয়ে গেছে ভূত প্রেতদের প্রেতলোকে যেখান থেকে বেচারা কোনদিন ফিরে আসতে পারবে না। ওখানে সে থাকবে ভূতপেত্নীদের খেলার সঙ্গী হয়ে।
ব্যাপারটি আমার কাছে মস্ত একটা ঠাট্টার মতো লাগছে। ঠাট্টাটির কথা মনে হলেই আমি হাসতে শুরু করি, উন্মাদের মতো হাসতেই থাকি কেবল সে হাসি আর থামে না। ও আমাকে… নিজেকে এবং পিয়েরেকে নিয়ে দারুণ একটি ঠাট্টা করেছে।
স্যালি-উষ্ণ, যৌনাবেদনময়ী স্যালি চেয়েছিল কেউ তার সঙ্গে প্রেম করবে… সবসময়! তাই সে দুর্ভাগা পিয়েরেকে বাছাই করেছে। দেখুন, আবারও আমি হাসতে লেগেছি!
স্যালি ভেবেছে পিয়েরে তার খেলার পুতুল হবে কিন্তু ছোট ফরাসী মানুষটিকে সে কিছুতেই হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারছিল না। সেজন্যই শোধ নিতে হয়তো…
আর স্যালির সবসময়ের ভালবাসার খিদে মেটাতে গিয়ে পিয়েরে বেচারার যে কী দশা হবে তা-ই ভাবছি এখন! এবং কেবলই হাসি পেয়ে যাচ্ছে।
–অ্যাডোবি জেমস
ফাঁসি
এক
পরীক্ষার দিন ঘনিয়ে এলে ম্যালকম ম্যালকমসন ঠিক করল কোথাও নিরিবিলিতে গিয়ে পড়াশোনা করবে। তবে সাগর সৈকতের ধারে কিংবা গ্রামের কোনো সম্পূর্ণ নির্জন বাড়িতে বসে পড়ার কোনো খায়েশ তার নেই। জানে এসব জায়গাগুলো বেশ আকর্ষণীয়। তাই লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তার চেয়ে বরং কোনো অচেনা-অজানা মফস্বল শহরে যাওয়া যেতে পারে যেখানে তার মনোসংযোগ বিঘ্নিত হওয়ার সুযোগ নেই। বন্ধুদের কাছ থেকে কোনোরকম পরামর্শ চাওয়া থেকে বিরত রইল সে। কারণ এরা হয়তো এমন কোনো জায়গার নাম বলবে যা ম্যালকমের চেনা বা জানা এবং সে হয়তো ওসব স্থানে আগেই ঢু মেরেছে। তাই নিজেই নিজের জায়গা খুঁজে নিতে মনস্থির করল সে। সুটকেসে কিছু জামাকাপড় এবং প্রয়োজনীয় বইপত্তর ভরে নিয়ে লোকাল টাইম টেবিলে প্রথম যে জায়গাটির নাম দেখল সেখানকার একটি টিকিট কিনে ফেলল। ওই জায়গার নাম সে কস্মিনকালেও শোনে নি।
