পাওয়ার অন, নিশ্চিত করল জিওর্দিনো।
পাওয়ার অন, নিশ্চিত করল পিট।
রেডিও?
আমাদের সাড়া পাচ্ছ, রুডি? জিজ্ঞেস করল পিট।
লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার, জবাব দিল রুডি গান।
অক্সিজেন?
টোয়েনটি-ওয়ান-পয়েন্ট-ফাইভ পার্সেন্ট।
সব কিছু চেক করার পর জিওর্দিনো জানাল, আমরা তৈরি, সাউন্ডার।
টেকঅফের অনুমতি দেয়া গেল, ডিপ রোভার, স্বভাবসুলভ কর্কশ গলায় বলল স্কিপার ফ্রাঙ্ক স্টুয়ার্ট। মি, পিট, পুরস্কার জিততে হলে গোটা কয়েক গলদা চিংড়ি আনতে হবে।
ডিপ রোভারের পাশে দু’জন ডাইভার সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল, তাদেরকে নিয়েই ধীরে ধীরে সাগরে নামল প্ল্যাটফর্ম। ঘিরে ধরল পারি, তারপর ডেকে ফেলল বাহনটাকে। মুখ তুলে তাকাল পিট, মুন পুল-এর কাঁপা কাঁপা আলোয় ব্যালকনিতে দাঁড়ানো মূর্তিগুলোকে ভাঙাচোরা লাগল চোখে। ওশেনোগ্রাফারদের গোটা দলটা রুডি গান-এর চারদিকে ভিড় জমিয়েছে, ডিপ রোভার থেকে পাঠানো রিপোর্ট শোনার আশায়। অ্যাকুয়ারিয়ামের ভেতর পিট যেন একটা মাছ।
গোলকটা পুরোপুরি ডুবে যাবার পর ক্রেডল থেকে সেটাকে মুক্ত করল ডাইভাররা। তাদের একজন হাত তুলে ও.কে, সঙ্কেত দিল। হাত নেড়ে সাড়া দিল পিট। থ্রাস্টার ঠেলে নাম বরাবর সামনে ত্রিশ ফুটের মতো সরিয়ে আনল ডিপ রোভারকে। দিক নির্ণয়ের জন্য কমপাস বেয়ারিং অ্যাডজাস্ট করার পর থ্রাস্টার ঠেলে নামতে শুরু করল নিচের দিকে।
ক্ষীণ আলো থাকায় চারদিকের পানি নীলচে সবুজ দেখল, আরও গভীরে নামার পর বদলে গিয়ে ছাই আর সীসা হয়ে উঠল পানির রং। ছোটো একটা নীল হাঙর, লম্বায় এক মিটার হবে, নির্ভয়ে এগিয়ে এল সাব-এর দিকে, ওটাকে ঘিরে একবার চক্কর দিল, আকর্ষণীয় কিছু না দেখে নিঃসঙ্গ অভিযানে হারিয়ে গেল কাছের গভীরতায়।
ওরা কোনো গতি অনুভব করছে না। শব্দ বলতে শুধু রেডিওর ঘড়ঘড় আওয়াজ। ডিপ রোভারের নিজস্ব আলোর বাইরে ঘোর অন্ধকার।
চারশো মিটার পেরিয়ে যাচ্ছি, রিপোর্ট করল পিট।
চারশো মিটার, রুডি আওড়াল। সাধারণত গোলকের ভেতর হাসি-ঠাট্টার জোয়ার বয়ে যায়, সময় কীভাবে কেটে যায় টেরই পায় না ওরা। আজকের কথা আলাদা, ডার্ক বা জিওর্দিনো একদম চুপ। প্রয়োজনেও দুএকটা শব্দ ছাড়া কেউ কথা বলছে না।
দেখছ? জিজ্ঞেস করল জিওর্দিনো।
দু’জন একইসাথে দেখতে পেয়েছে মাছটাকে। পানির গভীরতায় যারা বসবাস করে তাদের মধ্যে সবচেয়ে কুৎসিত দর্শন প্রাণী। লম্বা, ঈল আকৃতির শরীর, কাঠামোর কিনারায় নিওন সাইনের মতো আলো জ্বলছে। হাঁ করা স্থির চোয়াল কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হয় না, ভেতরে এবড়োখেবড়ো দাঁত। চোয়ালের ভেতর তোমার একটা হাত ঢুকে গেলে কেমন লাগবে?
জিওর্দিনো কিছু বলার আগে রুডি গান বলল, বিজ্ঞানীদের একজন জানতে চাইছেন, কী নিয়ে কথা বলছ তোমরা?
ড্রাগন ফিশ, বলল পিট।
উনি বর্ণনা পেলে খুশি হন।
ওপরে উঠে এঁকে দেখাব, অসহিষ্ণু ভঙ্গিতে বলল পিট। আটশো মিটার ছাড়িয়ে যাচ্ছি।
সাবধান, তলার সাথে আবার ধাক্কা খেয়ো না। তোমাদের অক্সিজেনের কী অবস্থা?
সব ঠিক আছে।
কাছাকাছি পৌঁছে গেছ, তাই না?
অধোগতি কমিয়ে আনল পিট। সামনের দিকে ঝুঁকে নিচে তাকাল জিওর্দিনো, পাথর খুঁছে। নিচে নেমে এসেছি আমরা, গোষণা করল সে। গভীরতা, ওয়ান থাউজেন্ড ফিফটিন মিটারস।
সাগরতলের পাথুরে মেঝে তিন মিটার দূরে তাকতে ডিপ রোভারকে থামাল পিট। সোনার ঘুরছে।
ওয়ান-ওয়ান-জিরো ডিগ্রি বা কাছাকাছি কোথাও পাবে জাহাজটা, বলল।
তিন সেকেন্ড পর জবাব দিল পিট, দুশো বিশ মিটার দূরে সোনার টার্গেট, বেয়ারিং ওয়ান ওয়ান টু ডিগ্রি।
আমি শুনছি, ডিপ রোভার।
অ্যালের দিকে ফিরল পিট। চলো দেখা যাক।
কম্পাসে চোখ রেখে দিক নির্দেশ দিল জিওর্দিনো, পাওয়ার বাড়িয়ে সামনে এগোল পিট।
বাম দিকে দুপয়েন্ট সরো, বেশি হয়ে গেল….হ্যাঁ, ঠিক আছে সোজা এগোও।
ভাবাবেগের লেশমাত্র নেই পিটের চোখে। ওর মুখ যেন পাথর কেটে তৈরি করা হয়েছে। বুক ভরা ভয়, না জানি কী দেখতে হবে। মনে মনে প্রার্থনা করছে, বাপের লাশ পানিতে ভাসছে, এই দৃশ্যটা যেন ওকে দেখতে না হয়। শিউরে উঠে এক সেকেন্ডের জন্য চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলল ও।
ডান দিকে কী যেন দেখতে পাচ্ছি, বলল জিওর্দিনো।
সামনের দিকে ঝুঁকল পিট। একটা ড্রাম। দুশ লিটারের। আরও কয়েকটা রয়েছে, ওটার বাম পাশে।
চারদিকে শুধু ড্রাম আর ড্রাম, বলল জিওর্দিনো।
গায়ে কোনো মার্কিং নেই? জানতে চাইল রুডি।
স্প্যানিশ ভাষায় স্টেনসিল করা। সম্ভবত ওজন আর ভলিউম সম্পর্কে তথ্য।
সামনের একটার কাছাকাছি যাচ্ছি, বলল পিট। ভেতরে যা-ই থাকুক, বেরিয়ে ওপর দিকে উঠে যাচ্ছে। ড্রামটার কয়েক ইঞ্চি দূরে থামল ডিপ রোভার। উজ্জ্বল আলোয় ওরা দেখল, ড্রেইন হোল থেকে গাঢ় কী যেন একটা জিনিস বেরিয়ে আসছে।
তেল? জিজ্ঞেস করল জিওর্দিনো।
মাথা নাড়ল পিট। অন্য কিছু মনে হচ্ছে। তেল লাল হয় না। মাই গড! তেল নয় রং!
পাশে ওটা কী, সিলিন্ডার আকৃতির?
তুমি বলো।
আমার ধারণা, প্লাস্টিক শিটের রোল ওটা।
বোধ হয় ঠিকই ধরেছ।
পরীক্ষার জন্য সাউন্ডারে তোলা যেতে পারে, কী বলল? স্থির হও। ম্যানিপুলেটর দিয়ে ধরি।
ডিপ রোভারকে স্থির করল পিট। গুটানো পাস্টিক যান্ত্রিক দুই হাতের মধ্যে চলে এল। ডিপ রোভার নিয়ে পরিষ্কার পানিতে উঠে এল পিট। কয়েক সেকেন্ড পর জিওর্দিনো বলল, জাহাজটা আমরা দেখতে পাচ্ছি।
