ট্রেতে করে কফি আর ব্র্যান্ডি নিয়ে হাজির হলো কর্নেলের এইড।
কাপে চুমুক দিল পিট। এত ছোট, কোন দিকে মুখ বুঝতে পারছি না।
পান্টা ডেল এসটে থেকে বেরিয়ে পূর্বদিকে রওনা হয় লেডি ফ্ল্যামবোরো।
বাকি জাহাজ দুটোর সাথে আপনি যোগাযোগ করেছেন?
মাথা ঝাঁকাল ক্যাপটেন। ওরা কেউ জাহাজটাকে দেখেনি।
স্যাটেলাইট কখন গেছে?
কাটায় কাঁটায় ০৩: ১০ ঘন্টায়।
তল্লাশি চালাবার জন্য প্লেগুলো আকাশে উঠল কখন?
ভোরের প্রথম আলোয়। দুপুরে ল্যান্ডস্যাট ফটো পাই আমরা। লেডি ফ্ল্যামবোরোর কোর্স আর স্পিড় হিসাব করে জাহাজ আর প্লেনগুলোকে সেদিকে পাঠাই।
কিন্তু তারা ওটাকে খুঁজে পায়নি?
না।
ভাঙা কোনো অংশও নয়?
জবাব দিল ক্যাপটেন ফোরেস, আমাদের পেট্রল বোট কিছু আবর্জনা দেখতে পায়।
শনাক্ত করা গেছে?
পানি থেকে তুলে পরীক্ষা করা হয়েছে। জিনিসগুলো প্রমোদতরী থেকে আসেনি, এসেছে কোনো কার্গো শিপ থেকে।
কী করে বুঝলেন?
একটা ব্রিফকেস টেনে নিয়ে খুলল ক্যাপটেন, ভেতর থেকে মোটা একটা ফাইল বের করল। সার্চ ভেসেলের ক্যাপটেন আমাকে একটা তালিকা দিয়েছে। একটা মান্ধাতা আমলের চেয়ার, পুরনো একজোড়া লাইফ জ্যাকেট, কাঠের কয়েকটা বক্স, একটাতেও কিছু লেখা নেই, ফুড কন্টেইনার, তিনটে খবরের কাগজ-একটা মেক্সিকোর, আরেকটা ব্রাজিলের
তারিখ? বাধা দিল পিট।
চোখে প্রশ্ন নিয়ে পিটের দিকে এক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকল ফ্লোরেস, তারপর ওর দৃষ্টি এড়াবার চেষ্টা করল। তারিখ তো দেয়নি।
ভুল হয়ে গেছে, তবে সংশোধন করা হবে, তাড়াতাড়ি বলল কর্নেল।
এগুলো ভাঙা জাহাজের অংশ হতে পারে না, বলল ক্যাপটেন। আবর্জনাই বলা যায়।
নটিক্যাল চার্টে জাহাজগুলোকে সাজাতে পারেন? জিজ্ঞেস করল পিট। যেমন দেখা যাচ্ছে স্যাটেলাইট ফটোতে?
মাথা ঝাঁকিয়ে কাজ শুরু করল ক্যাপটেন। এক মিনিট পর হাতের ডিভাইড়া রখে দিয়ে চার্টের ওপর পেন্সিলের উল্টো দিকটা ঠুকল সে। কাল সকাল ০৩: ১০ ঘণ্টায় এই তিন অবস্থানে ছিল জাহাজগুলো।
টেবিলের সামনে সরে এসে চার্টের ওপর ঝুঁকে পড়ল সবাই।
কোর্স দেখে বোঝা যায়, তিনটে জাহাজই একসময় পরস্পরের কাছাকাছি চলে আসবে, বলল রুডি গান। পকেট থেকে ছোটো একটা ক্যালকুলেটর বের করে বোম টিপতে শুরু করল সে। আনুমানিক স্পিড় ধরতে পারি-লেডি ফ্ল্যামবোরোর ত্রিশ নট, ক্যাবো গালাগাস-এর আঠারো নট আর জেনারেল ব্রাভোর বাইশ নট…, কণ্ঠস্বর নিস্তে জ হয়ে এল, চার্টের ওপর হিসাবটা লিখছে সে। কয়েক মিনিট পর সিধে হয়ে পিছিয়ে এল এক পা। কয়লা নিয়ে চিলিয়ান জাহাজটা লেডি ফ্ল্যামবোরোকে দেখতে পায়নি, পাবার কথাও নয়। প্রমোদতরীর বো-র চৌষট্টি কিলোমিটার সামনে দিয়ে পুব দিতে চলে গেছে ওটা।
চার্টের গায়ে আঁকা রেখাগুলোর দিকে চিন্তিতভাবে তাকিয়ে আছে পিট। তবে মেক্সিকান কন্টেইনার জাহাজটা লেডি ফ্ল্যামবোরোর তিন কি চার কিলোমিটার কাছ দিয়ে গেছে।
তবু দেখতে পায়নি, কারণ লেডি ফ্ল্যামবোয়োয় কোনো আলো ছিল না।
ক্যাপটেন ফোরেসের দিকে ফিরল পিট। চাঁদের আকৃতি মনে পড়ে?
চাঁদ ছিল আধখানা।
মাথা নাড়ল জিওর্দিনো। সরাসরি না তাকালে এই আলোয় দেখতে পাবার কথা নয়।
ধরে নিচ্ছি, এই পয়েন্ট থেকে তল্লাশি শুরু করেন আপনারা? জিজ্ঞেস করল পিট।
হ্যাঁ, বলল ক্যাপটেন। পুব, উত্তর আর দক্ষিণ দিকে দুশো মাইল জুড়ে তল্লাশি চালিয়েছে পাইলটরা।
কোনো হদিশ নেই?
শুধু কন্টেইনার শিপ আর ওর ক্যারিয়ারকে পাওয়া গেছে।
ফিরতি পথে কিছুদূর এসে, তারপর আবার দক্ষিণ বা উত্তর দিকে যেতে পারে লেডি ফ্ল্যামবোরো।
কথাটা আমরাও ভেবেছি, বলল ক্যাপটেন। ফুয়েল নিতে আসার সময় পাইলটরা সেদিকও খোঁজ করেছে।
তাহলে ধরে নিতে হবে, স্নান গলায় বলল রুডি, নিচের দিকে তলিয়ে গেছে। লেডি ফ্ল্যামবোরো।
শেষ অবস্থান জেনে নাও, রুডি, তাকে নির্দেশ দিল পিট। সার্চ প্লেন আসার আগে কতদূর যেতে পারে হিসাব করো।
কর্নেলের চেহারায় আগ্রহ ফুটে উঠল। কি করতে চান বলবেন আমাকে, মি. পিট? তল্লাশি চালিয়ে আর তো কোনো লাভ নেই।
কর্নেল যেন একটা স্বচ্ছ বস্তু, ভেদ করে গেল পিটের দষ্টি। রুডি যেমন বলল, ধরে নিতে হয় পানির তলায় তলিয়ে গেছে লেডি ফ্ল্যামবোরো। ওখানেই আমরা খুঁজব।
আমি কীভাবে সাহায্যে আসতে পারি?
নুমার রিসার্চ ভেসেল সাউন্ডার-এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিল পিট, তারপর বলল, আজ সন্ধ্যায় আসছে ওটা। খুব সুবিধা হয় আপনি যদি একটা হেলিকপ্টারে করে জাহাজে পৌঁছে দেন আমাদের।
মাথা ঝাঁকিয়ে রাজি হলো কর্নেল। তারপর বলল, নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, দশ হাজার বর্গ কিলোমিটার সাগর থেকে নির্দিষ্ট একটা মাছকে খুঁজে পাবার চেষ্টা করছেন আপনি। এতে আপনার সারাটা জীবন লেগে যেতে পারে।
না, শান্ত দৃঢ়তার সাথে বলল পিট। খুব বেশি হলে বিশ ঘন্টা লাগবে।
কর্নেল রোয়েস বাস্তববাদী মানুষ, লাগাম ছাড়া কল্পনাকে প্রশ্রয় দেয় না। জিওর্দিনো আর রুডির দিকে তাকায় সে, আশা, ওদের চেহারায় সন্দেহ দেখতে পাবে। সন্দেহ নয়, সমর্থন লক্ষ করে অবাক হলো সে। বলল, আপনারা নিশ্চয়ই এই সময়সীমা বিশ্বাস করেন না?
চোখের সামনে একটা হাত তুলে নখগুলো মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করল জিওর্দিনো। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, সময়সীমা বাড়িয়ে ধরেছে ডার্ক।
