দৃঢ়, ঋজু ভঙ্গিতে সামনে এক পা বাড়াল সে, অভিবাদনের পর বলল, ওয়েলকাম টু উরুগুয়ে, জেন্টলম্যান। কর্নেল হোসে রোয়েস অ্যাট ইওর সার্ভিস। এর দীর্ঘদেহী তরুণের সামনে দাঁড়াল সে, বিশুদ্ধ ইংরেজিতে বলল, ফোনে কথা হওয়ার পর থেকে আপনার সাথে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছি, মি. পিট।
এগিয়ে এসে দুই বন্ধুর মাঝখানে দাঁড়াল পিট, করমর্দন করল কর্নেলের সাথে। আমাদের জন্য সময় দিতে পেরেছেন, সেজন্য ধন্যবাদ। চশমা পরা লোকটার দিকে ফিরে পরিচয় করিয়ে দিল ও। রুডি গান। আর আমার ডান দিকে ক্রিমিনাল বলে মনে হচ্ছে যাকে, সে হলো অ্যাল জিওর্দিনো।
সামান্য বাউ করল কর্নেল, নিখুঁতভাবে ভাজ করা প্যান্টের পায়ায় ছড়ি দিয়ে মৃদু আঘাত করছে। আগোছাল পরিবেশের জন্য ক্ষমা করবেন, প্লিজ। আসলে হাইজ্যাকিংয়ের পর আমাদের দেশে হামলা চালিয়েছে দুনিয়ার সাংবাদিকরা। ওরা আপনাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে ভেবে পথ দেখিয়ে এখানে আনা হয়েছে আপনাদেরকে।
ভালো করেছন, বলল পিট, অপ্রয়োজনীয় কথায় সময় নষ্ট হচ্ছে দেখে মনে মনে বিরক্তি বোধ করল। এখন যদি আপনি…
হ্যাঁ, অবশ্যই। আপনাদের বিশ্রাম দরকার, এই তত? সব ব্যবস্থা করা আছে।
বিশ্রাম? আকাশ থেকে পড়ল পিট। আমরা পরিস্থিতি স্পর্কে জানতে চাই, কর্নেল-অ্যাট দিস মোমেন্ট!
তাহলে এদিকে আসুন, আপনাদের আমি সার্চ অপারেশন সম্পর্কে ব্রিফ করব।
অফিসে ঢুকে ক্যাপটেন ফোরেসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল সে। বড় একটা টেবিলে বসাল ওদেরকে, টেবিলের ওপর গাদা হয়ে রয়েছে নটিক্যাল চার্ট আর স্যাটেলাইট ফটো। ব্রিফিং শুরু করার আগে কর্নেল বলল, জাহাজে আপনার বাবা রয়েছেন শুনে সত্যি আমি দুঃখিত, মি. পিট। ফোনে কথা বলার সময় সম্পর্কটার কথা আপনি কিছু বলেননি।
কিন্তু তবু আপনি জেনেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার প্রতি ঘণ্টার যোগাযোগ করছেন।
আপনি শুনে খুশি হবেন, ওয়াশিংটনে যারা আমাকে ব্রিফ করেছে, আপনার প্রশংসায় তারা পঞ্চমুখ।
খুশিটা গোপন রাখতে হিমশিম খেয়ে গেল কর্নেল। কিন্তু দুঃখিত, আপনাকে আমি কোনো ভালো খরব শোনাতে পারছি না। আপনি আমেরিকা ছাড়ার পর নতুন কোনো তথ্য এখনও আমরা হাতে পাইনি। কফি, নাকি ব্র্যান্ডি, মি. পিট?
আমার জন্য কফি।
জিওর্দিনো আর রুডি ব্র্যান্ডি চাইল। টেবিল ছেড়ে উঠে গেল ক্যাপটেন ফোরেস। স্যাটেলাইট ফটোগুলো সাজিয়ে মোজাইকসদৃশ একটা নকশা তৈরি, করল কর্নেল, উপকূলের তিনশো কিলোমিটার এক নজরে ধরা পড়ল ওদের চোখে।
প্রথম মন্তব্য এল রুডির কাছ থেকে, আপনারা দেখছি আর্থ রিসোর্সের টেক স্যাটেলাইট ব্যবহার করেছেন।
হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন-ল্যান্ডস্যাট।
সাগরে জাহাজ দেখানো জন্য ব্যবহর করেছেন পাওয়ারফুল গ্রাফিক সিস্টেম।
বলতে পারেন, ভাগ্যগুণে, জবাব দিল কর্নেল। প্রতি ষোল দিনে একবার পোলার কক্ষপথ পাড়ি দেয় ল্যান্ডস্যাট, উরুগুয়ের সাগর ওটার পথেই পড়ে। এবার ওটা ঠিক সময়মতো এসে পড়েছে?
ল্যান্ডস্যাট সাধারণত জিওলজিক্যাল সার্ভের কাজ করে, বলল রুডি। সাগরের ওপর দিয়ে যাবার সময় ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়, এনার্জি বাঁচাবার জন্য। ফটোগুলো পেলেন কীভাবে?
আমেরিকানরা কি আর এমনি আমার প্রশংসা করেছে! হেসে উঠল কর্নেল। গর্ব করছি মনে হলে ক্ষমা করবেন, প্লিজ। তল্লাশির নির্দেশ পেয়ে কাজ শুরু করলাম, হঠাৎ আমার মনে পড়ল ল্যান্ডস্যাটের কথা। খোঁজ নিতেই জানলাম, ওটার আসার সময় হয়েছে। মার্কিন সরকারকে ফোনে অনুরোধ করলাম, ল্যান্ডস্যাটের ক্যামেরাগুলো যেন চালু করা হয়। স্পটে পৌঁছানোর এক ঘণ্টা আগে চালু হয়ে যায় ক্যামেরা, বুয়েনস আয়ার্সের রিসিভিং সেন্টারে সিগন্যাল পাঠায়।
লেডি ফ্ল্যামবোরো আকারের একটা টার্গেট কি ল্যান্ডস্যাট ইমেজে ধরা পড়বে? জানতে চাইল জিওর্দিনো।
ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স স্যাটেলাইট যেমন বিশদ দেখাতে পারে, ল্যান্ডস্যাট তা পারবে না, বলল পিট। তবে দেখা যাবে।
নিজেদের চোখেই দেখুন না, বলল কর্নেল, ল্যান্ডস্যাট ফটো মোজাইকের খুদে একটা অংশের ওপর ম্যাগনিফায়েড ভিউইং লেন্স ধরল সে।
প্রথমে তাকাল পিট। দুটো… না, তিনটে জাহাজ দেখতে পাচ্ছি।
তিনটেকেই আমরা শনাক্ত করেছি।
ঘাড় ফিরিয়ে ক্যাপটেন ফোরেসের দিকে ফিরল কর্নেল, একটা কাগজ থেকে সশব্দে পড়তে শুরু করল সে, ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে। বড় জাহাজটা চিলির, ওর ক্যারিয়ার, নাম ক্যাবো গ্যালাগোস, পাল্টা আরেনাস থেকে ডাকার যাচ্ছে, কয়লা নিয়ে।
উত্তরমুখো জাহাজটা? জিজ্ঞেস করল পিট। ফটোর কিনারায় স্রেফ দেখা দিতে শুরু করেছে?
হ্যা, বলল ফ্লোরেস এরকম হলেন। ওটাই ক্যাবো গ্যালাগোস। উল্টোদিকে, মাথার কাজে, দক্ষিণমুখো জাহাজটা জেনারেল ব্রাভো। মেক্সিকোতে রেজিস্ট্রি করা ওটা, কন্টেইনার শিপ, সান পারল-তে সাপ্লাই আর অয়েল-ড্রিলিং ইকুইপমেন্ট নিয়ে যাচ্ছে।
সান পাবলো কোথায়? প্রশ্ন করল জিওর্দিনো।
আর্জেন্টিনার ডগায় ছোট্ট একটা বন্দর নগরী, জবাব দিল কর্নেল। খবরের কাগজে পড়েননি, গত বছর ওখানে তেল খনির শ্রমিকরা ধর্মঘট করেছিল?
ক্যাপটেন ফোরেস বলল, ও-দুটো মাঝখানে, তীরের কাছাকাছি জাহাজটা, লেডি ফ্ল্যামবোরো।
