লেডি ফ্ল্যামবোরোকে যদি পানির ওপর পাওয়া না যায়, পানির তলায় খুঁজব আমি।
তোমাকে সম্ভবত এক হাজার বর্গমাইল চষে ফেলতে হবে। কিংবা তারো বেশি।
সাউন্ডারের সোনার গিয়ার দুমাইলের বেশি নাগাল পায়, বলল পিট। সাথে একটা সাবমার্সিবলও থাকছে। আপনি আপত্তি না করলে আমি ওটার কমান্ড নিতে পারি।
দুএকজনের সাহায্য লাগবে তোমার।
জিওর্দিনো আর রুডি গান। আমাদের দলটা দারুণ।
ডিপ-সি মাইনিং অপারেশনে ক্যানারি দ্বীপে রয়েছে রুডি।
আঠারো ঘণ্টার মধ্যে উরুগুয়েতে পৌঁছানো তার জন্য কোনো সমস্যা হবে না।
মাথার পেছনে দুহাত এক করে সিলিংয়ের দিকে তাকালেন অ্যাডমিরাল স্যানডেকার। অন্তরের গভীরে তিনি উপলব্ধি করলেন, মরীচিৎকার পেছনে ছুটতে চাইছে। পিট। একটা দীর্ঘশ্বাস চাপলেন তিনি, বললেন, সমস্ত ক্ষমতা দেয়া হলো তোমাকে। দেখো চেষ্টা করে।
ধন্যবাদ, অ্যাডমিরাল, বলল পিট। আমি কৃতজ্ঞ।
তার পরও প্রশ্ন থেকে যায়। আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির কী হবে?
ইয়েজার আর ডক্টর শার্প সমাধানের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, আমরা থাকলে ওদের কাজে বরং বাধা সৃষ্টি করব।
দাঁড়ালেন অ্যাডমিরাল, এগিয়ে এসে পিটের দুকাঁধে হাত রাখলেন আবার। উনি না-ও মারা যেতে পারে, বুঝতে পারছ তো?
মারা না গেলেই ভালো করবে বাবা, গম্ভীর ক্ষীণ হাসির সাথে বলল পিট। এভাবে চলে গেলে তাকে আমি কোনো দিন ক্ষমা করতে পারব না।
৪০. ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রেসিডেন্ট
৪০.
ধুত্তোরি, মার্টিন ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রেসিডেন্ট। লেডি ফ্ল্যামবোরোকে হাইজ্যাক করা হবে, খবরটা আগে আগে জানতে পারেনি সি.আই.এ?।
সি.আই.এ ডিরেক্টর মারটিন ব্রোগান বিচলিত হলেন না। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বড় ধরনের আতঙ্কবাদী হামলা হলেই অভিযোগটা শুনতে হয় তাঁকে। শান্ত ভাবে, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলেন তিনি। দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সিকিউরিটি এজেন্টদের নাকের সামনে থেকে প্যাসেঞ্জার আর কুসহ হাইজ্যাক করা হয়েছে জাহাজটাকে। যার মাথা থেকেই প্ল্যানটা বেরিয়ে থাকুক, সে যে একটা প্রতিভা তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে সে, যে পদ্ধতির সাথে কারও কোন পরিচয় নেই।
তাকে সমর্থন করে মুখ খুললেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অ্যালান মারসিয়ার
আমাদের আড়িপাতা নেটওয়ার্কও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগাম কোনো খবর সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সিনেটর জর্জ পিটকে তাহলে নিজে মৃত্যুর মুখে পাঠিয়েছি আমি, অনুতাপের সাথে বললেন প্রেসিডেন্ট। টেবিলে আবার ঘুষি মারলেন প্রেসিডেন্ট।
নিশ্চিতভাবে এখনও আমরা কিছু জানতে পারিনি, অ্যালান মারসিয়ার বললেন।
ক্রু ও প্যাসেঞ্জারসহ একটা প্রমোদতরীকে গায়েব করে দেয়া সম্ভব নয়, অ্যালান।
এখনও সম্ভাবনা আছে।
মিথ্যে সান্ত্বনা পাবার চেষ্টা কোরো না! কিসের সম্ভাবনা? বোঝাই তো যাচ্ছে, সুইসাইড মিশন ছিল ওটা। জাহাজ যখন ডোবে, প্যাসেঞ্জাররা সম্ভবত কেবিনের ভেতর বন্দি ছিলেন। সন্ত্রাসবাদীরা পালাবার কোনো চেষ্টা করেনি। তারাও স্বেচ্ছায় ডুবে মরেছে।
অ্যালান মারসিয়ার তবু আশা ছাড়তে রাজি নন। এখনও সমস্ত তথ্য আমরা পাইনি।
ঠিক কতটুকু জানি আমরা? প্রশ্ন করলেন প্রেসিডেন্ট।
উত্তর দিলেন সিআইএ প্রধান মারটিন ব্রোগান। সিআইএ এজেন্টরা পাল্টা ডেল এসটে-তে উরুগুয়ে সিকিউরিট এজেন্টদের সাথে যোগ দিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে রহস্যের সমাধান পাওয়া যায়নি। তবে, ধারণা করা হচ্ছে হাইজ্যাকের জন্য আরব একটা গ্রুপ দায়ী। দু’জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য পাওয়া গেছে, ল্যান্ডিং বার্জ থেকে লেডি ফ্ল্যামবোরোকে কার্গো গ্রহণ করতে দেখেছে তারা। দুই জাহাজের ক্রুদেরই আরবিতে কথা বলতে শুনেছে। তল্লাশি চালিয়ে ল্যাল্ডিং বাৰ্জটাকে কোথাও পাওয়া যায়নি, সন্দেহ করা হচ্ছে বন্দরে কোথাও ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে সেটাকে।
কার্গো সম্পর্কে কিছু জানা গেছে? জিজ্ঞেস করলেন অ্যালান মারসিয়ার।
অনেকগুলো ড্রাম দেখেছে তারা, সিআইএ প্রধান জানালেন। আরেকটা তথ্য পেয়েছি আমরা। লেডি ফ্ল্যামবোরা থেকে বন্দর মাস্টারকে জানানো হয়, জাহাজের মেইন জেনারেটরে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছে, মেরামত না হওয়া পর্যন্ত তারা শুধু নেভিগেশন লাইট জ্বালাবে। এরপর কী ঘটেছে আন্দাজ করে নিতে পারি আমরা। সন্ধ্যের অন্ধকারে নোঙর তোলে লেডি ফ্ল্যামবোরো, চ্যানেল থেকে বেরোবার সময় ছোট একটা ইয়টকে ধাক্কা দেয়। ইয়টে দক্ষিণ আমেরিকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী ও কূটনীতিক ছিলেন। আতঙ্কবাদীদের গোটা পরিকল্পনায় এটাই একমাত্র খুঁত। ইয়টটাকে ডুবিয়ে দেয়ার পর লেডি ফ্ল্যামবোরার কী হয়েছে, কোথায় গেছে বা আছে, কিছুই আমরা জানতে পারিনি।
হে’লা কামিলের ওপর দ্বিতীয়বার হামলা চালিয়ে ব্যর্থ হয় সন্ত্রাসবাদীরা, অ্যালান মারসিয়ার বললেন। অত্যন্ত কাঁচা ছিল অপারেশনটা। সেটার সাথে এটার কোনো সাদৃশ্য দেখছি না।
সিআইএ প্রধান মাথা ঝাঁকিয়ে তাকে সমর্থন করলেন। দুটো আলাদা গ্রুপ।
এই প্রথম মুখ খুললেন ডেইল নিকোলাস, দ্বিতীয় হামলার জন্য সরাসরি আখমত ইয়াজিদকে দায়ী করেছিলে তুমি।
হ্যাঁ। আততায়ীরা খুব একটা সতর্ক ছিল না। লাশের সাথে মিসরীয় পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। লিভারের লাশটা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, সে একজন মোল্লা, ইয়াজিদের ফ্যানাটিক অনুসারী।
