চমৎকার, কৃতজ্ঞচিত্তে বলল পিট। ঠিক পথেই এগোচ্ছ তুমি।
কিন্তু এখান থেকে কোথায়? জিজ্ঞেস করল লিলি।
আমি দক্ষিণ দিকেই যেতে থাকি, বলল ইয়েজার। সেই সাথে আমার সহকারীরা কম্পিউটরের সাহায্যে স্পেন থেকে পশ্চিম দিকে ভেনাটরের আনুমানিক কোর্স নির্ধারণ করার চেষ্টা করুক। ভূমধ্যসাগর ত্যাগ করার পর, ধরে নেয়া চলে, জাহাজের বহরটা প্রথম নোঙর ফেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজে। নিউ জার্সি থেকে সেরাপিসের পথ, আর স্পেন থেকে আমেরিকার দিকে ভেনাটরের পথ, দুটো কোথাও এক জায়গায় ক্রস করবে, তার পাঁচশো মাইলের মধ্যে রয়েছে আমাদের সাধনার নদীটি।
সন্দেহ প্রকাশ করল লিলি, ভেনাটরের পথ আপনি কীভাবে খুঁজে পাবার আশা করেন তিনি তো দিক, স্রোত, বাতা ও দূরত্বের কোনো হিসাবই রাখতে দেননি।
ওটা কোনো সমস্যাই নয়, হেসে উঠে বলল ইয়েজার। কলম্বাসের নিউ ওয়ার্ল্ড অভিযানের লগ ডাটা ব্যবহার করব আমি। তার জাহাজ আর হাজার বছরের পুরনো বাইজানটাইন জাহাজের খোল, রিগিং, সেইল আলাদা ছিল, সব মনে রেখে হিসাব করলেই বেরিয়ে আসবে…?
শুনে মনে হচ্ছে পানির মতো সহজ একটা কাজ?
বিশ্বাস করো, তা নয়। আমরা হয়তো লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছি, তবে সেখানে পৌঁছাতে নিরেট আরও চারটে দিন গাধার খাটনি খাটতে হবে।
তাহলে শুরু করো, বলল পিট। খুঁজে বের করো লাইব্রেরিটা।
.
সাক্ষাৎ করার অনুরোধ পেয়ে পিট ভাবল, অ্যাডমিরাল স্যানডেকার বোধ হয় তল্লাশির খবর জানতে চান। কিন্তু চেম্বারে পর থমথমে চেহারা দেখে বুঝল, গুরুতর কিছু ঘটে গেছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করে তুলল ভদ্রলোকের ভোতা ও কোমল দৃষ্টি, তার চোখে সাধারণত কাঠিন্য মেশানো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিই দেখা যায়।
ডেস্কের পেছন থেকে ছেড়ে এগিয়ে এলেন স্যানডেকার, পিটের সামনে দাঁড়িয়ে ভারী হাত দুটো এর কাঁধে তুলে দিলেন। মুখ তুলে তাকাল পিট, অন্যদিকে ফিরলেন অ্যাডমিরাল, যেন মুখ লুকাতে চান, তারপর ওকে টেনে নিয়ে গিয়ে একটা কাউচে বসালেন, নিজেও বসলেন পাশেরটায়। সাহসে বুক বাঁধল পিট, জানে খারাপ কিছু শুনতে হবে।
এইমাত্র হোয়াইট হাউস থেকে খবরটা পেলাম, অ্যাডমিরাল বলেলন। বুঝতেই পারছ, পিট, মাই বয়, তোমাকে আমি কোনো সুখবর দিতে যাচ্ছি না। প্রমোদতরী লেডি ফ্ল্যামবোরো হাইজ্যাক হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নাদাভ হাসান ও প্রেসিডেন্ট দো লরেঞ্জো আছেন জাহাজে। ওরা উরুগুয়ের পাল্টা ডেল এসটে-তে ছিলেন, ওখানে অর্থনৈতিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এটা খবরের একটা অংশ মাত্র, উপলব্ধ করল পিট। শুনে দুঃখ পেলাম, বলল ও। তবে ব্যাপারটা নুমা-র কোনো মাথাব্যথা নয়, তাই না? আর আমি তো আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি নিয়ে এতো ব্যস্ত যে নতুন কোনো অ্যাসাইনমেন্টের কথা ভাববারও সময় নেই।
হে’লা কামিলও রয়েছেন জাহাজটায়।
সর্বনাশ!
এবং তোমার বাবা।
বাবা? থ মেরে গেল পিট, অনুভব করল গায়ের রোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। বিড়বিড় করে বলল, পরশু রাতে বাবার সাথে ফোনে কথা হয়েছে আমার, উরুগুয়েতে যাবার কথা কিছু বলেননি তো।
প্রেসিডেন্ট হাসান দেখা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। শোনা যাচ্ছে, মিসরীয় প্রেসিডেন্টের জন্য আমাদের প্রেসিডেন্টের একটা মেসেজও নাকি সাথে করে নিয়ে গেছেন জর্জ।
কাউচ ছেড়ে পায়চারি শুরু করল পিট। খানিক পর আবার বসে পড়ল। পরিস্থিতিটা ব্যাখ্যা করবেন, প্লিজ?
কাল রাতে লেডি ফ্ল্যামবোরো, ব্রিটিশ প্রমোদরী, পাল্টা ডেল এসটে বন্দর থেকে নিখোঁজ হয়েছে।
নিখোঁজ হয়েছে?
আমরা ধারণা করছি, হাইজ্যাক করার পর ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে, পিটের চোখে চোখ রেখে মৃদুকণ্ঠে বললেন অ্যাডমিরাল। এয়ার সার্চ কোনো সন্ধান দিতে পারেনি। উদ্ধারকর্মীদের বিশ্বাস, পানির ওপরে ওটা নেই।
নিশ্চিতভাবে প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আমি তা মানব না।
আমি তোমার দলে।
আবহাওয়া?
শান্ত-বাতাস, শান্ত সাগর।
জাহাজ নিখোঁজ হয় ঝড়ে, বলল পিট। শান্ত সাগরে হয় না বললেই চলে।
অসহায় ভঙ্গিতে হাত নাড়লেন অ্যাডমিরাল। আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় থাকতে হবে।
বাবা মারা গেছেন, ভাবতেই পারল না পিট। ঘটনার আবছা বর্ণনা থেকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। হোয়াইট হাউস এ ব্যাপারে কিছু করছে কি?
ইচ্ছে থাকলেও করার কিছু নেই প্রেসিডেন্টের, গম্ভীর সুরে জানালেন অ্যাডিমরাল। বর্তমানে ওদিকে কোনো ট্রেনিং অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, তাই দক্ষিণ আটলান্টিকে আমাদের একটাও ন্যাভাল ইউনিট নেই।
আবার দাঁড়াল পিট, জানালা দিয়ে আলো ঝলমলে ওয়াশিংটনের দিকে তাকাল হঠাৎ দ্রুতবেগে আধপাক ঘুরল, অন্তর্ভেদী দৃষ্টি স্থির হলো অ্যাডমিরালের মুখের ওপর। আপনি আমাকে বলছেন, মার্কিন সরকার তল্লাশির সাথে জড়িত হচ্ছে না?
সে রকমই দেখাচ্ছে ব্যাপারটা।
কিন্তু নুমার তল্লাশি চালাতে বাধা কোথায়?
আমাদের কোস্ট গার্ড বিমান কিংবা জাহাজ নেই।
আমাদের সাউন্ডার রয়েছে, বলল পিট।
কয়েক সেকেন্ড চিন্তা করলেন অ্যাডমিরাল। তারপর জানতে চাইলেন, আমাদের একটা রিসার্চ ভেসেলের কথা বলছ?
দক্ষিণ ব্রাজিলের খানিক দূরে রয়েছে ওটা, বলল পিট। কন্টিনেন্টাল শেলফের সোনার ম্যাপিং প্রজেক্টে কাজ করছে।
মনে পড়ল অ্যাডমিরালের। মাথা ঝাঁকালেন তিনি। ঠিক আছে। তবে, সাউন্ডার অত্যন্ত মন্থরগতি। কী কাজে লাগবে ওটা?
