তাড়াতাড়ি করো ঠাণ্ডায় কাপ ধরে যাচ্ছে। কী রকম বুঝছ?
সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচজন গার্ড। তিনজন বাড়ির ভেতর, দু’জন গাড়িতে। মাত্র একজন লোক বাড়িটাকে ঘিরে চক্কর দিয়ে আসছে ত্রিশ মিনিট পরপর। ঠাণ্ডা বলে কেউই বেশিক্ষণ বাইরে থাকছে না। তুষারের ওপর দিয়ে প্রতিবার একই পথ ধরে টহল দিচ্ছে ওরা। টিভি ক্যামেরার কোনো চিহ্ন দেখছি না। তবে, ভ্যানের ভেতর থাকতে পারে একটা, বাড়ির ভেতর নজর রাখছে।
হামলাটা করা হবে দুদিক থেকে, মোহাম্মদ ইসমাইল প্ল্যান দিল। একদল বাড়িটা দখল করবে, দ্বিতীয় দলটা টহল গার্ড আর ভ্যানটাকে সামলাবে-হামলা হবে পেছন থেকে, যেদিক থেকে বিপদের সবচেয়ে কম সম্ভাবনা।
আপনি কি আজ রাতেই হামলা করার চিন্তা করছেন? চোখ থেকে বাইনোকুলার নামিয়ে জিজ্ঞেস করল লোকটা।
না, কাল। সকালে যখন আমেরিকান শুয়োরগুলো নাস্তা খাবে।
কিন্তু দিনের বেলা…বিপদ হতে পারে।
আমরা কাপুরুষ নই যে অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে কাজ সারব, রেগে গেল মোহাম্মদ ইসমাইল।
কিন্তু এয়ারপোর্টে ফেরার সময় শহরের মাঝখান দিয়ে যেতে হবে, প্রতিবাদ জানাল লোকটা। ট্রাফিক আর কয়েকশো স্কিয়ার থাকবে রাস্তায়। এ ধরনের অহেতুক ঝুঁকি নিতে রাজি হবেন না সুলেমান আজিজ।
চরকির মতো আধপাক ঘুরে ঠাস করে লোকটার গালে চড় কষাল মোহাম্মদ ইসমাইল। এখানে নেতৃত্ব দিচ্ছি আমি! চাপা গলায় গর্জে উঠল সে। আমার সামনে ফের যদি তার নাম মুখে এনেছ তো খুন করে ফেলব! তার মাতব্বরি করার দিন শেষ হয়ে গেছে!
লোকটা ভয়ও পেল না, নতও হলো না। তার কালো চোখে ঘৃণা ফুটে উঠল। আপনি আমাদের সবাইকে খুন করবেন! শান্তভাবে বলল সে।
বিনিময়ে যদি হে’লা কামিল খুন হয়, তাতেও আমার আপত্তি নেই! হিস হিস করে বলল মোহাম্মদ ইসমাইল।
.
২৬.
অসাধারণ! পিট বলে।
অভিজাত, সত্যি অভিজাত, বিড়বিড় করে বলে লিলি।
মাথা নাড়িয়ে সায় দেয় জিওর্দিনো, একটা জিনিস!
দুর্লভ গাড়ির একটা রিস্টোরেশন শপে দাঁড়িয়ে ওরা।
গাড়িটা দর্শনীয় বটে। উনিশশো ত্রিশ সালে তৈরি, এল-টোয়েনটি নাইন কর্ড টাউন করে শোফারের জন্য গাড়ির সামনের অংশটা খোলা। রক্তবর্ণ শরীর, ফেন্ডার হালকা হলুদ, প্যাসেঞ্জার কমপার্টমেন্টের ওপর চামড়ার তৈরি ছাদও তাই। গাড়িটা লম্বা, সুন্দর অভিজত চেহারা ফ্রন্ট হুইল ড্রাইভ। আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মিটার লম্বা পিটের কার্ড। প্রায় অর্ধেকটাই হুড দিয়ে ঢাকা, শুরু হয়েছে রেস-কার-টাইপ গ্রিল দিয়ে আর শেষ হয়েছে সরু উইন্ডশিল্ড দিয়ে।
ট্যাক্সি ছেড়ে দিয়ে কর্ডে চেপে বসল ওরা তিনজন। পিট ড্রাইভিং সিটে, ছাদের নিচে প্যাসেঞ্জার কমপার্টমেন্টে লিলিকে নিয়ে জিওর্দিনো। ইন্টারস্টেট সেভেনটিতে বেরিয়ে এল অ্যান্টিক কার কর্ড। তুষার ঢাকা রকি পাহাড়ের দিকে যাচ্ছে ওরা। হুড ফেলে নিজেকে ঢাকল না পিট, মুখে ঠাণ্ডা বাতাসের ঝাঁপটা ভালো লাগছে। আট সিলিন্ডার ইঞ্জিনের আওয়াজ শুনছে ও, শুনছে এগজস্টের শব্দ। মেরামত করার পর কোথাও কোনো ত্রুটি নেই। মনটা খুশি হয়ে উঠল ওর। জানে না অদূর ভবিষ্যতে কি অপেক্ষা করছে ওদের জন্য। জানলে, সোজা গাড়ি ঘুরিয়ে ডেনভারের পথ ধরত।
.
হোটেলে পৌঁছে রিসেপশন থেকে দুটো মেসেজ পেল পিট। পড়ে পকেটে রেখে দিল।
ড. রোথবার্গ তার বাড়িতে ডিনার খাবার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রাস্তার ওপারেই তার বাড়ি।
কখন? পেটে হাত বুলিয়ে আগ্রহের সাথে জানতে চাইল জিওর্দিনো।
সাড়ে সাতটায়।
হাত ঘড়িতে চোখ বুলালো লিলি। শাওয়ার নিয়ে চুল ঠিক করতে মাত্র চল্লিশ মিনিট সময় পাচ্ছি, আমি বরং কামরায় ঢুকি।
পোর্টারের পিছু নিয়ে লিলি চলে যাবার সাথে সাথে জিওর্দিনোকে সাথে আসার ইঙ্গিত দিয়ে ককটেল লাউঞ্জে চলে এল পিট। বারমেইড অর্ডার নিয়ে সরে যাবার পর পকেট থেকে দ্বিতীয় মেসেজটা বের করে হাত ধরিয়ে দিল।
জিওর্দিনো নিচু গলায় পড়ল, তোমাদের লাইব্রেরি প্রজেক্ট টপ প্রায়োরিটি পেয়ে গেছে। আগামী চার দিনের মধ্যে আলেকজান্দ্রিয়ার ঠিকানা খুঁজে বের করাটা অত্যন্ত জরুরি। লাক, ড্যাডি। মুখ তুলে পিটের দিকে তাকাল সে। পড়তে ভুল করিনি তো? মাত্র চারদিনের মধ্যে? স্কি করার কথা ভুলে যাও।
ব্যস্ত হয়ে কী লাভ? বলল পিট। ইয়েজারের ভাগ্যে শিকে না ছেঁড়া পর্যন্ত আমাদের কিছু করার নেই। চেয়ার ছাড়াল ও তার একটা খবর নেয়া দরকার।
হোটেলের লবি থেকে ফোন করল পিট। ইয়েজার, পিট বলছি। কতদূর এগোবে?
এগোচ্ছি।
কিছু পেলে?
কয়েকটা কম্পিউটর কাজ করছে, ব্যাংকগুলোর জিওলজিকাল ডাকা, ক্যাসাব্লাঙ্কা থেকে জাঞ্জিবার পর্যন্ত, তন্নতন্ন করে যাচাই করা হচ্ছে। আফ্রিকা উপকূলে এমন কোনো স্পট নেই, যা তোমার নকশার সাথে মেলে। তিনটে অস্পষ্ট বা ক্ষীণ সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু পরে আমি সেগুলোও বাতিল করে দিয়েছি। ষোলোশো বছরে ল্যান্ডমাস ট্রান্সফরমেশন অবশ্যই ঘটেছে, সম্ভাবনাগুলোর সাথে তার হিসাব ধরলে কোনো মিলই আর পাওয়া যায় না।
তোমার পরবর্তী পদক্ষেপ?
উত্তর দিকে সার্চ করব। সময় আরও বেশি লাগবে। কারণ ব্রিটিশ দ্বীপগুলো ছাড়াও বাল্টিক সী আর সাইবেরিয়া স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর উপকূল রেখা ধরে কাজ করতে হবে আমাকে।
