তবে আপনারা খুঁজে দেখতে চাইছেন, বললেন হে’লা কামিল, আগ্রহের সাথে সিধে হয়ে বসলেন তিনি।
হ্যাঁ, একটা দল গঠন করা হয়েছে, কাজও শুরু করেছে তারা।
আর কে জানে?
প্রেসিডেন্ট, আমি, টিমের লোকজন, সরকারি দুচারজন কর্মকর্তা, আমাদের এক কী দু’জন বিশ্বস্ত বন্ধু।
আমাদের প্রেসিডেন্টকে না জানিয়ে আমাকে জানানোর কথা ভাবলেন কেন?
সোফা ছেড়ে কার্পেটের ওপর দিয়ে হেঁটে গেলেন জুলিয়াস শিলার, তারপর হে’লা কামিলের দিকে ফিরলেন। প্রেসিডেন্ট হাসান অদূর ভবিষ্যতে ক্ষমতায় না-ও থাকতে পারেন। তাকে জানানোর চেষ্টা করা হলে তথ্যটা ভুল লোকের হাতে পৌঁছে যেতে পারে।
আখমত ইয়াজিদ।
সত্যি কথা বলতে কি, হ্যাঁ।
কিম্ভ পর হলেও আখমত ইয়াজিদকে তথ্যটা আপনারা জানাবেন। লাইব্রেরির খোঁজ পাওয়া গেলে সেটা মিসরকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানাবে সে। প্রতিটি মিসরবাসীর দাবি হবে সেটা। আমিও তাই চাইব।
ব্যাপারটা আমরা বুঝি, বললেন জুলিয়াস শিলার। সে ব্যাপারে কথা বলার জন্যই আপনার কাছে আমার আসা। আমাদের প্রেসিডেন্ট চান, আপনার ভাষণে আবিষ্কারের কথাটা আপনি ঘোষণা করুন।
কঠোর হলো হে’লা কামিলের দৃষ্টি। তাতে কী লাভ?
আমরা চাইছি আবিষ্কারটা যেন আপানাদের বর্তমান প্রেসিডেন্টের পক্ষে জনমত তৈরিতে সাহায্য করে। মিসরকে কয়েকশো বিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদের নকশা উপহার দিতে পারে আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি।
রাগে লালচে হলো হে’লা কামিলের চেহারা। খোঁজ পেতে যেখানে কয়েক বছর লাগতে পারে, সেখানে কি করে আপনারা আশা করেন দেশবাসীকে আমি বলব, দাঁড়াও, তোমাদের সুদিন এসে গেছে, আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির বদৌলতে আমরা ধনী হয়ে গেছ? মি. শিলার, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে অনেক বাজে খেলা খেলেছেন আপনারা, এটাও সে রকম একটা নোংরা খেলা। মিসরবাসীকে মিথ্যে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য আমাকে আপনারা খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন, এতটা আশা করে বসে আছেন?
ধীরে ধীরে ফিরে এসে সোফায় আবার বসলেন জুলিয়াস শিলার। কোনো প্রতিবাদ করলেন না।
আপনি ভুল করেছেন, মি, শিলার। আমি আমার সরকারের পতন দেখব, মোস্তাফা ইয়াজিদের পাঠানো খুনিদের হাতে মারা যাবার ঝুঁকি নেব, কিন্তু দেশবাসীকে মিথ্যে তথ্য সরবরাহ করতে পারব না।
মহৎ ভাবাবেগ, শান্তকণ্ঠে বললেন জুলিয়াস শিলার। আপনার নীতির প্রতি আমার শ্রদ্ধা প্রকাশ করছি। তবে, এখনও আমার বিশ্বাস, প্ল্যানটা সব দিক থেকে ভালো।
দেশের কাছে আমি মিথ্যেবাদিনী হয়ে যাব, বুঝতে পারছেন না? শেষ পর্যন্ত যদি লাইব্রেরিটার সন্ধান পাওয়া না যায়? পাওয়া না গেলে আপনারাও দুর্নামের ভাগীদার হবেন। এমনিতেও আপনাদের মধ্যপ্রাচ্য নীতি।
একটা হাত তুলে বাধা দিলেন জুলিয়াস শিলার। হ্যাঁ, কিছু ভুল আমরা করেছি। কিন্তু, মিস কামিল, এখানে আমি আপনার সাথে মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে কথা বলতে আসিনি।
দুঃখিত। আপনাকে আমি কোনো সাহায্য করতে পারলাম না।
কাঁধ ঝাঁকিয়ে জুলিয়াস শিলার বললেন, বেশ। প্রেসিডেন্টকে আপনার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানাব আমি। তিনি যে ভীষণ হতাশ হবেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অ্যাটাচি কেস হাতে নিয়ে সোফা ছাড়লেন তিনি, দরজার দিকে পা বাড়ালেন।
দাঁড়ান! তীক্ষ্ণ আদেশের সুরে বললেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
দাঁড়ালেন জুলিয়াস শিলার, ধীরে ধীরে ঘুরলেন। প্লিজ?
সোফা ছেড়ে দাঁড়ালেন হে’লা কামিল, কিন্তু এগিয়ে এলেন না। প্রমাণ করুন, লাইব্রেরির সন্ধান পাবার মতো পজিটিভ সূত্র আপনাদের হাতে আছে, হোয়াইট হাউসের অনুরোধ রক্ষা করব আমি। সূত্রগুলো নির্ভেজাল কি না সেটা আমি নিজে বুঝব।
ভাষণে উল্লেখ করবেন?
হ্যাঁ।
কিন্তু ভাষণের আর মাত্র চারদিন বাকি। এত অল্প সময়ে…
ওটাই আমার শর্ত।
গম্ভীরভাবে মাথা ঝাঁকালেন জুলিয়াস শিলার। ঠিক আছে। ঘুরে দাঁড়িয়ে হন হন। করে এগোলেন তিনি।
.
শিলারের গাড়িটা প্রাইভেট রোড থেকে হাইওয়ে নাইনে বেরিয়ে এল। গাড়ি বা আরোহীকে চিনতে না পারলেও, এই প্রাইভেট রোড ধরে খানিক দূর গেলেই যে সিনেটর পিটের লজ দেখা যাবে তা ভালো করেই জানে মোহাম্মদ ইসমাইল। মার্সিডিটা চলে গেল স্কি শহর ব্রেকেনরিজ-এর দিকে।
মার্সিডিজটা যে সরকারি গাড়ি, বুঝতে পারল মোহাম্মদ ইসমাইল। প্রাইভেট রোডের ওপর সশস্ত্র লোকজন হাঁটাচলা করছে, মাঝেমধ্যে কথা বলছে, রেডিও ট্রান্সমিটারে, রাস্তার মুখেই দাঁড়িয়ে রয়েছে একটা ডজ ভ্যান। এসব দেখে মোহাম্মদ ইসমাইলের বুঝতে বাকি থাকল না, ওয়াশিংটন থেকে ইয়াজিদের এজেন্টরা যে তথ্য সংগ্রহ করেছে তা মিথ্যে নয়।
একটা মার্সিডিজ-বেঞ্জ ডিলে সিডানের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে মোহাম্মদ ইসমাইল, গাড়ির ভেতর বসা লোকটাকে আড়াল করে রেখেছে সে, চোখে বাইনোকুলার নিয়ে খোলা জানালা দিয়ে প্রাইভেট রোডটার দিকে তাকিয়ে লোকটা। গাড়ির ছাদে একটা ব্ল্যাক, তাতে কয়েক সেট স্কি। মোহাম্মদ ইসমাইলের পরনে সাদা স্কি স্যুট, মুখেও সে একটা স্কি মাস্ক পরেছে। স্কি র্যাক অ্যাডজাস্ট করার ছলে আরেক দিকে মুখ ফেরাল সে, জিজ্ঞেস করল, দেখা হলো?
আর এক মিনিট, বলল লোকটা। লজটা দেখছে সে, গাছের ফাঁক দিয়ে কোনো রকমে দেখা যাচ্ছে। লোকটার মুখ ভর্তি দাড়ি, মাথায় ঝাকড়া চুল।
