আপনি বুঝতে পারছেন না, জনাব ইয়াজিদ? আবেদনের সুরে বলল কর্নেল ইয়াদানী। পান্টা ডেল এসটে-র সিকিউরিটি পেনিট্রেট করা প্রায় অসম্ভব। চারদিকে গিজগিজ করবে উরুগুয়ের পেট্রল বোট। প্রত্যেকটি জাহাজে, যেগুলোয় নেতারা থাকবেন, সশস্ত্র গার্ড থাকবে। আপনি কি সুইসাইড স্কোয়াড পাঠাবার কথা ভাবছেন?
আমি কি ভাবছি না সব যদি তোমাদেরকে জানাতে পারতাম! দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল আখমত ইয়াজিদ। আল্লাহর গোপন ইচ্ছে জানার এই হলো বিপদ, মন খুলে সব কথা বলা যায় না। শুধু এইটুকু তোমাদেরকে জানাই, একটা বিশেষ উৎস থেকে সাহায্যের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে আমাকে। সুলেমান আজিজের দিকে ফিরল সে। তুমি, সুলেমান আজিজ, আন্ডারকাভার অপারেশন সম্পর্কে একজন এক্সপার্ট। কারও চোখে ধরা না পড়ে আমাদের সেরা যোদ্ধাদের একটা দলকে যদি লেডি ফ্ল্যামবোরোয় তুলে দেয়া সম্ভব হয়, তারা কি জাহাজটা দখল করতে পারবে, দখল করার পর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে, যতক্ষণ না আমরা মিসরকে ইসলামিক রিপাবলিক বলে ঘোষণা করি?
হ্যাঁ, জবাব দিল সুলেমান আজিজ, এখনও তাকিয়ে আছে ম্যাপে সাঁটা লেডি ফ্ল্যামবোয়রীর দিকে। তার গলা শান্ত, তবে বিশ্বাসে দৃঢ়। দরকার হবে দশজন অভিজ্ঞ যোদ্ধা আর পাঁচজন অভিজ্ঞ নাবিক। যদি বিস্ময়ের ধাক্কা দিতে পারা যায়, কোনো রক্তপাত ঘটবে না।
আখমত ইয়াজিদের চোখ দুটো চকচক করে উঠল। জানতাম! জানতাম, তোমার ওপর ভরসা করা যায়।
অসম্ভব! প্রতিবাদ জানাল কর্নেল নাগিব। সন্দেহ না জাগিয়ে উরুগুয়েতে এতগুলো লোককে তুমি পাচারই করতে পারবে না। আর যদি জাদু দেখিয়ে জাহাজটা তুমি দখল করতেও পারো, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিমা দুনিয়ার অ্যাসল্ট দলগুলো খুঁজে বের করে ফেলবে ওটাকে। জিম্মিদের খুন করার হুমকি দিলেও তারা থামবে না।
এস তাহলে বাজি হয়ে যাক, প্রস্তাব দিল সুলেমান আজিজ। আমি দুসপ্তাহর জন্য গায়ের করে দেব লেডি ফ্ল্যামবোরোকে।
মাথা নাড়ল কর্নেল নাগিব। তুমি স্বপ্নের জগতে বাস করছে।
কী করে সম্ভব, বলবে আমাদের? জিজ্ঞেস করল খালেদ ফৌজি। উরুগুয়ে সরকার যে কড়া সিকিউরিটির ব্যবস্থা করবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রহরার দায়িত্ব নেবে উরুগুয়ে সেনাবাহিনীর কমান্ডো ইউনিট। তারা অভিজ্ঞ, তাই না? কীভাবে তুমি তাদের সাথে লড়ে জিততে চাও?
কে বলল আমি লড়তে চাই, লড়ে জিততে চাই? মুচকি হেসে পাল্টা প্রশ্ন করল সুলেমান আজিজ।
একি পাগলামি বলল আখমত, বিব্রত বোধ করছে।
পাগলামি নয়, আশ্বস্ত করল সুলেমান আজিজ। কৌশল জানা থাকলে পানির মতো সহজ।
কৌশল?
অবশ্যই, আবার ঠোঁট টিপে হাসল সুলেমান আজিজ। বুঝতেই পারছেন, আমার প্ল্যান হলো-লেডি ফ্ল্যামবোরোকে, তার ক্রু ও প্যাসেঞ্জারসহ, গায়েব করে দেয়া।
২৫. আনঅফিশিয়াল ভিজিট
২৫.
আমার এটা আনঅফিশিয়াল ভিজিট, হে’লা কামিলকে বললেন জুলিয়াস শিলার, সিনেটর পিটের স্কি লজের সিটিংরুমে ঢুকলেন ওঁরা। সবাই জানে এই মুহূর্তে কী ওয়েস্টে মাছ ধরছি আমি।
বুঝতে পারছি, হে’লা কামিল বললেন। কুক আর সিকিউরিটি গার্ডদের সাথে কত আর কথা বলা যায়, আপনি আসায় আমি খুশি হয়েছি। আইসল্যান্ডে তৈরি খয়েরি রঙের সোয়েটার জ্যাকেট আর ম্যাচ করা প্যান্ট পরে জুলিয়াস শিলারকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন তিনি, জুলিয়াস শিলার যেমন স্মরণ করতে পারেন তার চেয়ে অনেক কম লাগল বয়স।
পরনে বিজনেস স্যুট, তার সাথে পায়ে ছুঁচাল উগার জুতো আর হাতে অ্যাটাচি কেস থাকায়, স্কি রিসর্ট-এ কেমন যে বেমানান লাগছে ভদ্রলোককে। আপনার নিরাপদ সময়টা আরও সহনীয় করার জন্য আমার যদি কিছু করার থাকে, মিস কামিল…
না, ধন্যবাদ। কোনো কাজে হাত দিতে পারছি না, এটাই অস্থির করে তুলেছে আমাকে।
আর তো মাত্র কয়টা দিন।
আপনাকে কিন্তু মোটেও আশা করিনি, দাঁড়িয়ে পড়লেন হে’লা কামিল, সরাসরি তাকালেন শিলারের দিকে।
মিসরের স্বার্থ আছে এমন একটা ব্যাপারে কথা বলতে চাই আপনার সাথে। আমাদের প্রেসিডেন্ট ভাবছেন, সব কথা আপনাকে জানানো দরকার।
ইঙ্গিতে একটা সোফা দেখিয়ে বসলেন হে’লা কামিল। চোখে প্রশ্ন, নির্লিপ্ত চেহারা।
আপনার সহযোগিতা পেলে তিনি ভারি কৃতজ্ঞ বোধ করবেন।
কোন ব্যাপারে?
সোফায় বসে হাঁটুর ওপর রেখে অ্যাটাচি কেসটা খুললেন জুলিয়াস শিলার, ভেতর থেকে একটা ফোল্ডার বের করে বাড়িয়ে দিলেন হে’লা কামিলের দিকে। বেয়ারা চা দিয়ে গেল।
ফোল্ডারের শেষ পাতাটি পড়া শেষ করে মুখ তুললেন হে’লা কামিল। তার চোখে অন্তর্ভেদী দৃষ্টি। এটা কি এখন পাবলিক নিউজ?
মাথা ঝাঁকালেন জুলিয়াস শিলার। আজ বিকেলে ঘোষণা করা হবে যে, জাহাজটা পাওয়া গেছে। তবে আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির কথাটা গোপন রাখা হচ্ছে।
জানালা দিয়ে বাইরে, দূরে তাকালেন হে’লা কামিল। ষোলোশো বছর আগে আমাদের লাইব্রেরি হারানো আর আজ আপনাদের ওয়াশিংটন আর্কাইভ ও ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি পুড়িয়ে দেয়া দুটো প্রায় সমর্থক, তাই না?
মাথা ঝাঁকালেন জুলিয়াস শিলার। সমার্থক।
প্রাচীন বইগুলো উদ্ধার পাবার কোনো আশা আছে?
এখনও আমরা জানি না। মোম ট্যাবলেগুলো অস্পষ্ট কিছু সূত্র দিতে পারছে। মাত্র। আইসল্যান্ড আর দক্ষিণ আফ্রিকার মাঝখানে যেকোনো জায়গায় লাইব্রেরিটা থাকতে পারে।
