আমার তার কাছে যেতে হবে কেন? বরঞ্চ তিনি ওয়াশিংটনে এলেই ল্যাঠা চুকে যায়। একগুয়ের মতো বলে পিট।
অ্যাডমিরাল স্যানডেকারের সঙ্গে কথা হয়েছে তোমার?
হ্যাঁ।
নিশ্চই বুঝতে পারছো, তোমার আর অ্যালের এই মুহূর্তে সোভিয়েত সাবমেরিনের থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে। এইমাত্র যে ফোনটা পেলাম, সেটা এফবিআই এর একজন এজেন্ট করেছিল, সে একজন কে.জি.বি.এজেন্টকে ফলো করছে। কে.জি.বি. এজেন্ট লোকটা তোমাকে ফলো করছিল।
নিজের জনপ্রিয়তার কথা শুনে ভালোই লাগছে।
সন্দেহজনক কোনো কাজ করবে না তুমি।
মাথা ঝাঁকায় পিট। বেশ, বুঝলাম। কিন্তু যদি রাশিয়ানরা টের পায় আমাদের মিশনের কথা? আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি খুঁজে পেলে ওরাও তো লাভবান হবে?
হতে পারে। কিন্তু সম্ভাবনা খুবই কম। মোমের টেবলেটগুলো হেফাজতে রেখেছি আমরা।
আরেকটা প্রশ্ন আছে আমার।
বলো।
আমার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, পিট বলে। সেক্ষেত্রে, ডক্টর রোথবার্গের কাছে যাওয়ার সময় যদি কেজিবি অনুসরণ করে আমাকে?
আমরা তো তা-ই চাই।
অর্থাৎ, আমার এই যাত্রা লোক-দেখানো?
ঠিক তাই।
কিন্তু কেন?
তোমার এল-২৯ কর্ড গাড়িটার জন্য।
আমার গাড়ি?
ডেনভারে যে ক্লাসিক গাড়িটা রেখেছো তুমি। যে লোকটা তোমার গাড়িটা ভাড়ায় খাটাচ্ছিল, সে গতকাল ফোন করে জানিয়েছে, কাজ ফুরিয়েছে তার। গাড়ির অবস্থাও টিপটপ।
আচ্ছা। সবার সামনে দিয়ে কলোরাডো ভ্রমণ করব আমি, নিজের অ্যান্টিক গাড়ি দিয়ে দৃষ্টি কাড়ব, স্কি করব বরফের ঢালে, আর পার্টি করব ডক্টর শার্পের সঙ্গে।
ঠিক তাই, জোর দিয়ে বললেন সিনেটর। ব্রেকেনরিজ হোটেলে উঠবে তুমি। ডক্টর রোথবার্গের সাথে কেমন করে দেখা করবে, সেই সম্পর্কিত একটা বার্তা পাবে ওখানে।
বুরবন শেষ করে হাতের গ্লাসটা ম্যান্টলের ওপর নামিয়ে রাখলো পিট। আমাদের পারিবারিক লজটা ব্যবহার করতে পারি?
বরঞ্চ দূরে থাকো ওটা থেকে।
আশ্চর্য, ওটা আমার নিজের বাড়ি!
মোটেও আশ্চর্য নয়, সিনেটর বললেন। সদর দরজা খুলে ঢোকার সাথে সাথে গুলি করা হবে তোমাকে।
.
পঁয়তাল্লিশ মিনিট পর। নিজের অদ্ভুত বাসস্থান, একটা প্লেন হ্যাঁঙারে রয়েছে পিট। গায়ে রোব জড়িয়ে টিভি দেখছিল। এমন সময় ইন্টারকম বেজে উঠল। অ্যাল জিওর্দিনোর গলা শুনবে মনে করে, স্পিকার অন করল পিট।
কে?
গ্রিনল্যান্ড খাদ্য-পরিবহন, নারী কণ্ঠ উত্তর দেয়।
হেসে, সুইচ টিপে সাইড ডোর খুলে বারান্দায় এসে দাঁড়ায় পিট।
বড় একটা পিকনিক ঝুড়ি সঙ্গে নিয়ে হেঁটে আসছে লিলি। চারপাশের অ্যান্টিক গাড়িগুলো দেখে থমকে গেছে ও।
অ্যাডমিরাল স্যানডেকার অবশ্য বলেছিল, জায়গাটা অদ্ভুত, এখন দেখছি তিনি কিছুই বলতে পারেননি।
সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এল পিট। পিকনিক ঝুড়িটা নিতে গিয়ে ফেলে দিয়েছিল প্রায়। বাপরে! এত ভারী! ভেতরে কী?
ডিনার।
লিলির দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হাসি হাসল পিট। প্রাণবন্ত মুখ, চোখ দুটো উজ্জ্বল। চুলগুলো সমান করে আঁচড়ানো, পিঠ খোলা কালো একটা পোশাক পরনে। গ্রিনল্যান্ডের সেই ভারী কোট না থাকায়, দারুণ ভরাট লাগছে বুক জোড়া। পাতলা কোমড়। লম্বা পায়ে মোহনীয় ভঙ্গিমা।
লিভিং রুমে ঢুকে হাতের ঝুড়ি নামিয়ে রাখলো পিট। হাত ধরল লিলির। পরে খেলে হয় না? নরম স্বরে বলল ও।
ধীরে, দৃষ্টি নিচে নামিয়ে আবার পিটের চোখে চোখ রাখে লিলি। খুব দুর্বল বোধ হতে লাগল তার, যেন পা দুটো ওজন বইতে পারছে না। কেঁপে উঠল।
লজ্জা পাচ্ছে কেন? নিজের কাছেই অবাক লাগছে লিলির। এ সব কিছুই তো ওর পরিকল্পনা করা ওয়াইন, পোশাক, কালো লেস দেয়া ব্রা আর প্যান্টি। তবে?
ধীরে, ওর পোশাকের ফিতে খুলে দেয় পিট। ঝলমলে কালো পোশাকটা লিলির গোড়ালির কাছে স্তূপ হয়ে পড়ে থাকে। ওর কোমর আর হাঁটুর নিচে হাত রেখে কোলে তুলে নেয় পিট।
শোবার ঘরের দিকে যখন এগোচ্ছে পিট, ওর বুকে মুখ ডুবিয়ে লিলি বলল, নিজেকে আমার ঝকঝকে বেশ্যা মনে হচ্ছে!
যত্ন করে ওকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে তাকায় পিট। নিজের ভেতরে কামনার আগুন জ্বলছে।
ভালোই হলো, রুদ্ধ স্বরে ও বলে, দেখি তো, ওদের মতো পারো কি না!
.
২৪.
নিজের ভিলার খাবার ঘরে প্রবেশ করল ইয়াজিদ।
বন্ধুরা, আশা করি খানাটা উপভোগ করেছেন। তার ভারী কণ্ঠস্বর গমগম করে উঠল।
মোহাম্মদ আল-হাকিম, প্রখ্যাত মৌলানা ও ইয়াজিদের ছায়া হিসেবে পরিচিত, চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়াল। আপনার আতিথেয়তার কোনো তুলনা হয় না, জনাব ইয়াজিদ। তবে আমরা আপনার সম্মানজনক উপস্থিতি থেকে বঞ্চিত হয়েছি।
পেট ভরা থাকলে আল্লাহ তার ইচ্ছা আমার কাছে প্রকাশ করেন না, ক্ষীণ হাসির সাথে বলল আখমত ইয়াজিদ। পালা করে টেবিল ঘিরে দাঁড়ানো পাঁচজন লোকের দিকে তাকাল সে। তার প্রতি শ্রদ্ধায় আর ভক্তিতে মাথা নত করে আছে সবাই।
তাদের মধ্যে দু’জনের পোশাক একই রকম। কর্নেল নাগিব বশির, সামরিক বাহিনীতে ইয়াজিদের যারা সমর্থক সেই সব অফিসারদের নেতা সে, পরে আছে ভোলা আলখেল্লা, কাপড়ের বাড়তি অংশটুকু দুই কাঁধ থেকে উঠে এসে মুখ ঢেকে রেখেছে। কায়রো থেকে আসার সময় চেহারা গোপন করার দরকার ছিল। তার মাথার সাদা পাগড়িটাও সাহায্য করেছে এ কাজে। মোহাম্মদ আল-হাকিমের পরনেও আলখেল্লা, তার পাগড়িটা সোনালি।
