বোম্বে জিন-মার্টিনি-তাই না?
জিন খাবার জন্য আবহাওয়াটা একটু বেশি ঠাণ্ডা; তার চেয়ে বরঞ্চ একটা কড়া জ্যাক ডেনিয়েলস দাও।
ঠিক আছে।
মা-র কী খবর?
ক্যালিফোর্নিয়ায় গেছে, তোমার নানির ফার্মে। ওজন কমানোর জন্য হাঁটাহাঁটি করবে নাকি। নিশ্চিত জানি, কাল যখন ফিরবে, দেখব, দুই পাউন্ড ওজন বেড়েছে উল্টো!
মা কখনো হাল ছাড়ে না।
ছেলেকে বুরবন ধরিয়ে দিয়ে নিজের গ্লাস উঁচু করে ধরেন সিনেটর পিট। কলোরাভোয় সফল একটা সফরের কামনায়।
ভ্রু কুঁচকে গেল পিটের। আমাকে কি করতে পাঠানোর চমৎকার পরিকল্পনাটা মূলত কার?
আমার।
জ্যাক ডেনিয়েলস থেকে এক চুমুক দিয়ে কঠোর চোখে বাপের দিকে তাকায় পিট। আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির আর্টিফ্যাক্ট নিয়ে তোমার এত মাথাব্যথা কেন?
দারুণ মাথা ব্যাথা, যদি সত্যিই ওগুলোর অস্তিত্ব থাকে।
নাগরিক হিসেবে বলছো, নাকি কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে?
একজন দেশপ্রেমিকের দৃষ্টিকোণ থেকে।
ঠিক আছে, দীর্ঘশ্বাস ফেলে পিট বলে, বলো তো, ধ্রুপদী শিল্পকর্ম, সাহিত্য-কর্ম, আলেকজান্ডারের কফিন দিয়ে আমেরিকার কী লাভ?
ওগুলোর কোনোটাতেই লাভ নেই, সিনেটর জর্জ পিট বললেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকার খনিজ সম্পদের মানচিত্র। ফারাওদের হারিয়ে যাওয়া সোনার খনি, পান্নার খনি, যেটা ক্লিওপেট্রার বলে দাবি করা হয়। গোপন রহস্যে ভরা উপকথার সেই পাট নগরী-রুপো, সুর্মা আর অদ্ভুত সবুজাভ সোনার জন্য বিখ্যাত-দুই তিন হাজার বছর আগে নগরীর অবস্থান জানা থাকলেও আজ মানুষ তার ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছে। তারপর ধরো, অফি-র রাজ্যের কথা। শুধু গুজব নয়, রাজ্যের বিপুল সম্পদ আর মহামূল্যবান দুর্লভ পাথর রেকর্ড করা ঐতিহাসিক সত্য সেটারও অবস্থান নিয়ে নানাজনের নানা মত। কোথায় গেল রাজা সলোমনের খনিগুলো? ব্যাবিলনের নেবুচাঁদনেজার? সাবা-র রানী, শেবার ঐশ্বর্য আর রাজ্য আজ শুধু অতীত স্মৃতি। এককালে এসবের অস্তিত্ব ছিল, মধ্যপ্রাচ্যের মাটির নিচে আজও সেসব নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও লুকানো আছে।
বুঝলাম, মানচিত্রে খনিজ সম্পদের উল্লেখ আছে। পুরনো দিনের খনি বা সম্পদ যাই পাওয়া যাক, তাতে আমাদের সরকারের কি লাভ?
দরাদরি করার জন্য দরকার আছে, বলে চলেন সিনেটর। যদি ওগুলোর হদিশ আমাদের হাতে থাকে, তো যৌথ উদ্ধার অভিযানের ব্যাপারে আলাপ করা যাবে। বিভিন্ন জাতীয় নেতার সাথে আলাপচারিতার সুযোগ মিলবে।
মাথা নেড়ে যেন ধ্যানে মগ্ন হয় পিট। কংগ্রেস বিভিন্ন দেশের সাথে সুসম্পর্কের জন্য এতকিছু করছে। আমি ঠিক হজম করতে পারছি না। নিশ্চই অন্য কোনো ব্যাপার আছে।
ছেলের অন্তদৃষ্টিতে মনে মনে গর্ব বোধ করলেন সিনেটর। অবশ্যই অন্য ব্যাপার আছে। স্ট্রাটিগ্রাফিক ট্র্যাপ কথাটা শুনেছ কখনও? জানো বিষয়টা কী নিয়ে?
আমারই তো জানা উচিত, মুচকি হাসে পিট। কয়েক বছর আগে কুইবেক প্রদেশে, ল্যাব্রাডোর সাগরের নিচে আমি খুঁজে পেয়েছিলাম ও রকম একটা।
হ্যাঁ। সম্ভবত ডুডলবার্গ প্রজেক্টে।
আবিষ্কারের অপেক্ষায় ভয়ানক দুর্গম তেল খনি, তাকে বলা হয় স্ট্র্যাটিগ্রাফিক ট্র্যাপ। সাধারণ সাইজমিক এক্সপ্লোরেশনের সাহায্যে ওগুলো খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। অথচ কয়েক জায়গায় আবিষ্কার হওয়ার পর দেখা গেছে প্রতিটি খনিতে বিপুল পরিমাণ তেল রয়েছে।
এখানেই বিটুমিনের কথা এসে যায়। হাইড্রোকার্বনের মতো টার বা অ্যাসফলট, পাঁচ হাজার বছর আগে মেসোপটেমিয়ায় ব্যবহার করা হতো-বাড়িঘরের ছাদে, রাস্তায়, এমনকি ক্ষতস্থানেও। আরও পরে, উত্তর আফ্রিকার উপকূলের কথা লিখে গেছে গ্রিকরা, গোটা উপকূলে তেলের স্রোত বইত। রোমানরা সিনাই-এ একটা জায়গার সন্ধান পায়, নাম ছিল পেট্রল মাউন্টেইন। বাইবেলে দেখোনি, ঈশ্বর জ্যাকবকে নির্দেশ দিয়ে বলছেন, চকমকি পাথরে মুখ দিয়ে তেল চোষো। বাইবেলেই বর্ণনা দেয়া আছে, সিদ্দিম উপত্যকায় আঠালো পদার্থ ভরা বহু গভীর গর্ত আছে, আমরা ধরে নিতে পারি ওগুলো আসলে টার খনি।
এসব এলাকা ইতিমধ্যে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি বা ড্রিল-ও করা হয়নি? পিটের প্রশ্ন।
ড্রিল করা হয়েছে, তবে আজ পর্যন্ত তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। জিওলজিস্টরা
দাবি করছে, শুধু ইসরায়েলের মাটিতেই পাঁচশো মিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড পেট্রোলিয়াম পাবার শতকরা নব্বই ভাগ সম্ভাবনা রয়েছে। দুঃখজনক যে পুরনো দিনের সাইটগুলো হারিয়ে গেছে, চাপ পড়ে গেছে কয়েকশো বছরের ভূমিকম্পে।
তো, প্রধান উদ্দেশ্যে ইসরায়েলে তেলের বিশাল খনি আবিষ্কার?
হ্যাঁ, তাই।
চুপচাপ বসে রইল বাপ-বেটা। এক মিনিট কোনো কথা নেই। ইয়েজার তার কম্পিউটারের মাধ্যমে কোনো সূত্র খুঁজে না পেলে এগোনোর কোনো উপায় নেই, পিট ভাবল। শিল্পকর্ম আর সাহিত্য নয়, তেল আর সোনায় ওয়াশিংটনের কর্তাব্যক্তিদের উৎসাহ, এটা সে বিলক্ষণ বুঝেছে।
বেজে উঠল টেলিফোন। উঠে গিয়ে ফোন ধরলেন সিনেটর। কিছুক্ষণ নীরবে শুনে ফিরে এলেন চেয়ারে।
কলোরাডোতে হারানো লাইব্রেরি খুঁজে পাব বলে মনে করার কোনো কারণ নেই, শুষ্ণ গলায় মন্তব্য করে পিট।
পেলেই বরঞ্চ আমরা সবাই অবাক হব, সিনেটর দমে যাবার পাত্র নন। একজন বিশেষজ্ঞের সাথে তোমার দেখা করার ব্যবস্থা করেছি। কলোরাডো ইউনিভার্সিটিতে ক্লাসিকাল হিস্ট্রি পড়ান ভদ্রলোক, আমার পরিচিত, বলতে গেলে সারাটা জীবন আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি নিয়ে গবেষণা করছেন। লাইব্রেরিটা খুঁজে বের করার ব্যাপারে তিনি তোমাকে সাহায্য করতে পারবেন। ভদ্রলোকের নাম ডক্টর বেরট্রাম রোথবার্গ।
