আপনার ধারণা নির্ভুল, পিট বলে। আমি চেয়েছিলাম সেরাপিসের লগ বইয়ে চোখ বোলাতে। এখন দেখছি, কেউ আমাকে হারিয়ে দিয়েছে।
কমান্ডার নাইট। ড. রেডফার্নের অনুবাদ নেভি হেডকোয়ার্টারে পাঠিয়েছেন তিনি, সেখান থেকে জানানো হয়েছে ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সিকে। তারপর প্রেসিডেন্টকে। জাদুর বাক্স খুঁজে বের করেছো তুমি। আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির রাজনৈতিক ভুমিকা কম নয়। তোমার বাবা, সিনেটর পিট, সব ব্যাখ্যা করবেন।
এখানে লিলি এল কোথা থেকে?
তোমাদের ছদ্মবেশের একটা অনুষঙ্গ হিসেবে। কেজিবি সন্দেহ করছে, হয়তো সাবমেরিনটা পাওয়া গেছে। মার্টিন ব্রোগান চাইছে, তোমাদের সাথে একজন সত্যিকারের প্রত্নতত্ত্ববিদ রেখে পুরো ব্যাপারটাকে আরো গ্রহণযোগ্য করতে। এজন্যই ক্লাবে দেখা করলাম তোমার সাথে। তোমার বাবা, বাসায় বসে বলবেন। তোমাদের আচরণে কোনো অফিশিয়াল ব্যাপার যেন না থাকে।
বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে।
ব্যুরোক্রেসি বেশ রহস্যময় উপায়ে কাজ করে। চলো, টেবিলে যাই। ক্ষিধেয় পেট ডাকছে।
ডিনার শেষে জেফারসন হোটেলে তুলে দিল ওরা লিলিকে। বিদায় দেয়ার মুহূর্তে আলিঙ্গন করল সে ওদের দু’জনকে, তারপর পোর্টারের পিছু পিছু হোটেলের লবি ধরে এগালো।
লিলির হোটেল থেকে বেরিয়ে নুমা হেডকোয়ার্টারে চলে এল পিট। কম্পিউটার সেকশনটা টপ ফ্লোরে, উঠে এসে এক কামরা থেকে আরেক কামরায় ঘুর ঘুর করতে লাগল। প্রতিটি কামরায় ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট আর কম্পিউটর হার্ডওয়্যার গিজগিজ করছে। পরিচিত অনেকের সাথে দেখা হলো, অন্যমনস্কতার ভান করে সবাইকে এড়িয়ে গেল পিট। তারপর যাকে খুঁজছে পেয়ে গেল তাকে।
কি হে, জাদুকর, দিনকাল কেমন কাটছে?
একটা মিনি টেপ রেকর্ডার নাড়াচাড়া করছিল হিরাম ইয়েজার। ঝট করে মুখ তুলেই হাসল সে। আরে পিট যে! তারপর অবাক হলো সে। তুমি ওয়াশিংটনে! তা কীভাবে সম্ভব!
ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালি নামে এক কম্পিউটর কারখানা থেকে হিরাম ইয়েজারকে ভাগিয়ে এনেছেন স্যানডেকার। আজ নুমার যে ডাটা কমপ্লেক্স গড়ে উঠেছে তা ইয়েজারের একক অবদান বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। দুনিয়ার সমুদ্র নিয়ে যত গবেষণা বা বই লেখা হয়েছে, সেগুলোর সমস্ত তথ্য রয়েছে ইয়েজারের কাছে। বোম টিপে যেকোনো তথ্য মুহূর্তেই সরবরাহ করতে পারে সে।
ওটা নিয়ে কী করছো? জিজ্ঞেস করল পিট।
আছাড় মেরে ভেঙে ফেলব কি না ভাবছি, রাগের সাথে বলল ইয়েজার, ঠকাস করে টেবিলে রেখে দিল রেকর্ডারটা। ইচ্ছে করলে রান্নাঘরের জিনিসপত্র দিয়ে ওরকম একটা তৈরি করতে পারি, কিন্তু মেরামত করতে পারছি না।
গোটা কমপ্লেক্স ভোমার হাতে গড়া, আর বলছ কী যে সামান্য একটা টেপ রেকর্ডার মেরামত করতে পারো না?
কাজটায় আমার মন নেই, স্নান গলায় বলল ইয়েজার। যদি কখনও উৎসাহ পাই, ওটাকে আমি বদলে একটা টকিং ল্যাম্প বানাব।
উৎসাহ পাবে এমন একটা কাজ করতে চাও? প্রসঙ্গটা তুলল পিট।
পিটের দিকে একদৃষ্টে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকল ইয়েজার। কী ধরনের কাজ?
রিসার্চ।
টেবিলের দেরাজ খুলে কাগজপত্র হাতড়াতে শুরু করল ইয়েজার। একটা কাগজ তুলে নিয়ে বিড়বিড় করে কী পড়ল বোঝা গেল না। সেরাপিস সম্পর্কে, তাই না? মুখ তুলে প্রশ্ন করল সে।
তুমি জানো?
দুনিয়ার সমস্ত পত্রপত্রিকা ওটা নিয়ে লেখালেখি করছে।
আমার হাতে এটা ড. রেডফার্নের অনুবাদ।
কী করাতে চাও আমাকে দিয়ে?
চাই নকশাটা সাথে নিয়ে ওই কাগজটাই ভালো করে দেখো।
অনুবাদ আর নকশার ফটো কপি পাশাপাশি রেখে ঝুঁকে পড়ল ইয়েজার। তুমি জিওগ্রাফিকাল লোকেশন খুঁজছে?
যদি সন্ধান দিতে পারো।
এতে খুব একটা কিছু নেই, বলল ইয়েজার। কী এটা?
একটা সাগরের তীররেখা আর একটা নদী।
কবে আঁকা হয়েছে?
তিনশো একানব্বই খ্রিস্টাব্দে।
আমাকে বরং আটলান্টিকের রাস্তাগুলোর নাম কী জিজ্ঞেস করতে পারতে।
কেন, তোমার ইলেকট্রনিক খেলনাগুলো দিয়ে জাহাজটার কোর্স বের করাতে পারো না, ভেনাটরের ফ্লিট কার্টাজেনা ত্যাগ করার পর? কিংবা জাহাজটা গ্রিনল্যান্ডে যেখানে অচল হয়ে পড়ল, সেই জায়গা থেকে পেছন দিকের কোর্সটা বের করতে পারো না?
তুমি বুঝতে পারছ, নদীটার অস্তিত্ব আজ আর না-ও থাকতে পারে?
ভেবেছি।
অ্যাডমিরালের অনুমতি লাগবে আমার।
কাল সকালে পেয়ে যাবে।
ঠিক আছে, চেষ্টা করে দেখতে পারি। সময়সীমা?
সাফল্য না আসা পর্যন্ত চেষ্টা করে যাও, বলল পিট। ওয়াশিংটনের বাইরে যেতে হচ্ছে আমাকে, কাল বাদে পরশু খবর নেব কেমন এগোচ্ছে তোমার কাজ।
একটা প্রশ্ন করব?
হ্যাঁ, করো।
ব্যাপারটা কী গুরুত্বপূর্ণ?
সম্ভবত আমি আর তুমি যা ভাবছি, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
.
২৩.
ম্যাসাচুসেটসট এভিনিউয়ে খাকি একটা সোয়েটার পরিহিত সিনেটর জর্জ পিট তার মেরিল্যান্ডের বাড়ির দরজা খুললেন। দামি বেশভূষার জন্য ইতোমধ্যে সিনেটে বেশ নাম কিনেছেন তিনি।
ডার্ক! ছেলেকে উষ্ণ আলিঙ্গন করলেন সিনেটর। কত কম আজকাল দেখা হয় আমাদের, ভেবে দেখেছো!
বাপের কাঁধে হাত জড়িয়ে রাখল পিট। বাপ-পেটা মিলে এবারে হেঁটে গেল বাড়ির ভেতরে। মেঝে থেকে সিলিং পর্যন্ত উঁচু হয়ে আছে সিনেটরের বইয়ের সংগ্রহ- ভারী ওক কাঠের শেলফে।
ছেলেকে চেয়ার এগিয়ে দিয়ে ছোট্ট বারের দিকে হেঁটে গেলেন সিনেটর।
