ঘুমজড়িত চোখে পিট বুঝল, কেউ একজন আলো জ্বেলেছে ওর কক্ষের।
দুঃখিত, বাছা, তোমাকে এখনই ঘুম ভেঙে ছুটতে হচ্ছে।
হাসলেন কমান্ডার নাইট।
কেন?
ওপর থেকে নির্দেশ এসেছে। এই মুহূর্তে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে উড়তে হবে তোমাকে।
কেন?
কেন বলেনি, ওরা হলো গে পেন্টাগন, সিআইএ- কারো কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়।
উঠে বসে, খাটের পাশে পা ঝুলিয়ে বসল পিট। আমি আরো ভাবলাম, এখানে থেকে একটু জাহাজ উত্তোলনের ব্যাপারটা দেখব।
ভাগ্য খারাপ- তুমি, অ্যাল আর ডক্টর শার্পকে এখনই চলে যেতে হচ্ছে।
লিলি? উঠে দাঁড়িয়ে আড়মোড়া ভাঙে পিট। সোভিয়েত সাবমেরিনের কারণে আমাকে আর অ্যালকে দরকার, বুঝলাম। কিন্তু লিলিকে দিয়ে ওদের কী দরকার?
এই বিষয়ে আমিও তোমার মতো অজ্ঞ।
যাওয়ার কী ব্যবস্থা?
রেডফার্ন যেমন করে এলেন। হেলিকপ্টারে করে এস্কিমো গ্রাম, আবহাওয়া স্টেশন। নেভি বিমানে করে আইসল্যান্ড, এরপর এয়ারফোর্সের বি ৫২ বোমারু বিমানে করে ওয়াশিংটন।
টুথ ব্রাশ দিয়ে মাথায় টোকা দিল পিট। একটা বুদ্ধি এসেছে। ওদের জানান, অর্ধেক পথ নুমার হেলিকপ্টার দিয়ে পাড়ি দিয়ে থিউল এয়ারফোর্স বেজে দেখা করব আমরা। সরকারি জেট বিমান ছাড়া ওখান থেকে আমি যাব না।
লাভ নেই, পিট।
হতাশার ভঙ্গি করে হাত উঁচায় পিট। কেন যেন আমার প্রতিভার উপযুক্ত মর্যাদা পেলাম না কখনো!
.
২২.
সারাটা পথ শুধু আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির কথা ভেবেছে পিট। ভেবেছে সেরাপিসের বরফে পরিণত ক্রুদের কথা। স্কিপার রাফিনাস, তার মেয়ে হাইপেশিয়া। অন্ধকার হোন্ডের অন্ধকার কোণে হাইপাতিয়া আর তার সঙ্গী কুকুরটাকে দেখতে পায়নি পিট, তবে ভিডিও ক্যামেরায় ঠিকই ধরা পড়েছিল। লম্বা চুলো এক কুকুরকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট এক মেয়ে।
হাইপেশিয়াকে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটা মিউজিয়ামে ঠাই পেতে হবে, যুগ যুগ ধরে কৌতূহলী মানুষ দেখতে তাকে। তারপর পিট নকশাটার কথা ভেবেছে। মোমের গায়ে আঁকা, আবহাওয়ার কারণে সেটা বিকৃত অবস্থায় পেয়ে থাকতে পারে ওরা। ড. রেডফার্ন আর লিলির সন্দেহই হয়তো ঠিক, আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির সন্ধান কোনো দিন না-ও পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু মনের বল আগের মতোই অটুট আছে ওর। চেষ্টা করে দেখবে ও। খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানের ভাণ্ডার। রীতিমতো একটা চ্যালেঞ্জ অনুভব করছে পিট। প্রতিদ্বন্দ্বী সময় আর প্রকৃতি।
এন্ড্রু এয়ারফোর্স বেসে নামল প্লেন। ওদের জন্য একটা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে একজন ড্রাইভার।
প্ল্যানটা কী হে? ড্রাইভারের উদ্দেশ্যে জানতে চাইল পিট।
অ্যাডমিরাল স্যানডেকারের ক্লাবে তার সাথে ডিনার।
অ্যাডমিরালটা আবার কে? লিলি জানতে চায়।
নুমায় আমাদের বস, জিওর্দিনো বলল। নির্ঘাত সাবাশি দেওয়ার জন্য ডাকছেন। যা কাজ দেখালাম এবার!
জর্জটাউনের একটা আবাসিক এলাকায় যখন ঢুকল গাড়ি, ততক্ষণে অন্ধকার ঘনিয়েছে। পাঁচ ব্লক পেরিয়ে লাল ইটের ভিক্টোরিয়ান ধাঁচের একটা বাড়ির খোয়া বিছানো উঠানে থামল ড্রাইভার।
সিল্ক স্যুট পরিহিত একজন ছোট্ট মানুষ এগিয়ে এলেন ওদের দিকে। রাজকীয় হাবভাব চলাফেরায়, মাথাভর্তি গাঢ় লাল চুল।
বাছারা, তোমাদের দেখে ভালো লাগছে, গর্জে উঠে ঘোষণা করলেন অ্যাডমিরাল জেমস স্যানডেকার।
লিলির সাথে তার পরিচয় করিয়ে দিল পিট।
বসো, সবাই বসো, লিলির সাথে করমর্দন শেষ করে বললেন অ্যাডমিরাল।
আপনারা কথা বলুন, আমি একটু লেডিস রুম থেকে তাজা হয়ে আসি।
ডান দিকে প্রথম দরজাটা, হাত ইশরায় দেখিয়ে দিলেন অ্যাডমিরাল।
লিলি অদৃশ্য হবার সাথে সাথে পিট আর জিওর্দিনোকে নিয়ে ছোট্ট রুমটায় বসে, দরজা আটকে দিলেন।
তোমরা রাশিয়ার সাবমেরিনটা আবিষ্কার করে দারুণ কাজ দেখিয়েছে, সাধুবাদ জানাই। নেভির সেক্রেটারির সঙ্গে দেখা করতে কিছুক্ষণের মধ্যে রওনা হব আমি। প্রেসিডেন্ট নিজে তোমাদের ধন্যবাদ জানাতে বলেছেন।
রাশান সাবমেরিনের উদ্ধারকাজ শুরু করব কবে থেকে?
আমাদের কর্তৃপক্ষ চাইছেন ওটা নিয়ে তাড়াহুড়ো না করতে, অ্যাডমিরাল জানালেন।
কতদিন অপেক্ষা করতে চাইছেন তারা?
হয়তো, এক বছর। ওটা নয়, তোমাদের দু’জনের জন্য ভালো একটা কাজ পেয়েছি আমি।
সোভিয়েত নেভির মারণাস্ত্র থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কি হতে পারে? চিন্তাপূর্ণ স্বরে বলল পিট।
এই ধরো একটা স্কি হলিডে! আগামীকাল সকালে একটা বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ডেনভার রওনা হচ্ছে তোমরা, ড. শার্প থাকবে সাথে।
পিটের দিকে চাইল জিওর্দিনো, কাঁধ ঝাঁকিয়ে পিট জানতে চাইল, পুরস্কার না নির্বাসন?
ধরে নাও, ওয়ার্কিং হলিডে। বাকি ব্যাপারস্যাপার সিনেটর পিট বুঝিয়ে বলবেন।
বাবা?
এই সন্ধ্যায় তোমাকে বাড়িতে আশা করছেন উনি। পকেট থেকে সোনার ঘড়ি বের করে সময় দেখলেন অ্যাডমিরাল। একজন ভদ্রমহিলাকে অপেক্ষায় রাখা ঠিক হচ্ছে না।
দরজার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন জেমস স্যানডেকার। কিন্তু ঠায় দাঁড়িয়ে আছে পিট আর অ্যাল।
কথা পেটে রেখে লাভ হবে না, অ্যাডমিরাল। পুরোটা না শুনে এক পাও নড়ছি না আমি, ঘোষণার সুরে বলল পিট। অ্যাল জিওর্দিনো সায় দেয়।
আসল কথা হলো, পিট, জেমস স্যানডেকার ভ্রু উঁচালেন। রাশিয়ান সাবমেরিন নয়, তোমার আগ্রহ আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি নিয়ে। নয় কি?
