চমৎকার! দারুণ কাজ দেখিয়েছে তোমাদের লোকজন।
এখনো অবশ্য আমরা কোনো হাত দিইনি ওটায়, শ’ বললেন।
রাশিয়ানরা? ওরা কি খোঁজ পেয়ে গেছে?
সম্ভবত, না। আসলে, জাতিসংঘের বিমান দুর্ঘটনার কারণে ওটা উদ্ধার করতে যায় আমাদের দল। এতে করে ভালো একটা ডাইভারশন পেয়ে যাই আমরা। নিশ্চিদ্র গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে।
এখন কী পরিকল্পনা?
পানির তলায় একটা উদ্ধার অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা, দশ মাস সময় লাগবে ওতে। এদিকে আরো একটা ব্যাপার ঘটে গেছে। সোভিয়েতরা পুরো দ্বিধান্বিত হয়ে পড়বে এতে করে।
মানে?
বলা যায়, দৈবাৎ, একটা পুরনো রোমান জাহাজ আবিষ্কার করেছে নুমার কর্মীরা, বরফের তলায়।
গ্রিনল্যান্ডে? ব্রাগানের চোখে অবিশ্বাস।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো সন্দেহ নেই। আমরা পোলার এক্সপ্লোরারকে ওখানে, রেখেই একটা উদ্ধার অপারেশন চালাবো, এতে করে রাশিয়ানরা ভাববে, হয়তো পুরনো জাহাজ নিয়েই আমাদের মাথাব্যথা। ওদের সাবমেরিন খুব কাছেই।
রোমান জাহাজটা থেকে কি পাব বলে আশা করছি আমরা? প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা? অমূল্য শিল্পকর্ম?
অতি পুরনো কিছু থেকে সবাই তো আমরা গুপ্তধন আশা করি।
দু’জনের কেউই জানেন না, বিষয়টা শুধু ইতিহাস আর গুপ্তধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। থাকবে না, আগামী আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে ওদের সবার ঘুম হারাম করে দেবে।
২০. আর্কিওলজিস্টরা নির্দেশ আর পরামর্শ দিল
২০.
আর্কিওলজিস্টরা নির্দেশ আর পরামর্শ দিল, আইসব্রেকার পোলার এক্সপ্লোরারের ক্রুরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বরফ ভেঙে খাঁড়ির তলায় পড়ে থাকা প্রাচীন জাহাজ সেরাপিসের টপ ডেক পর্যন্ত পৌঁছল। ধীরে ধীরে বরফ-মুক্ত হলো স্টার্নপোস্ট থেকে বো পর্যন্ত সবটুকু।
খাড়ির সবাই দেখার জন্য ভিড় করেছে এক জায়গায়, কৌতূহল আর বিস্ময়ে প্রত্যেকে সম্মোহিত। শুধু পিট আর লিলিকে কোথাও দেখা গেল না।
মোম ট্যাবলেট পরীক্ষার জন্য পোলার এক্সপ্লোরার-এ রয়ে গেছে ওরা।
প্রাচীন জাহাজটাকে সম্পূর্ণ বরফ-মুক্ত করার পর কার্গো হ্যাঁচ খুলে নিচে নামল অ্যাল জিওর্দিনো, মাইক গ্রাহাম আর জোসেফ হসকিন্স। বরফের আবরণসহ মূর্তিগুলো ওদের দিকে তাকিয়ে আছে, মনে হলো গায়ে হাত দিয়ে নাড়া দিয়ে এক্ষুনি সবাই জ্যান্ত হয়ে উঠবে। বো-র দিকে, এক কোণে, আরও দুটো মূর্তি রয়েছে, পিটের চোখে এড়িয়ে গেছে ওগুলো। দুটোর মধ্যে একটা কুকুর, অপরটি ছোট্ট এক মেয়ে।
.
পোলার এক্সপ্লোরার-এর ডেকে একটা নুমা হেলিকপ্টার নামল। সবুজ সোয়েটার পরা দীর্ঘদেহী এক লোক নেমে এলেন প্যাসেঞ্জার কেবিন থেকে। চারদিকে তাকিয়ে পিটের ওপর স্থির হলো ভদ্রলোকের দৃষ্টি, পিট হাত নাড়তে মৃদু হাসলেন তিনি। এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল পিট, ড. রেডফান?
আপনি ডার্ক পিট?
মাথা ঝাঁকিয়ে পিট বলল, ব্যস্ততার মধ্যেও সময় সরে আসতে পেরেছেন, সেজন্য ধন্যবাদ, ড. রেডফার্ন।
ঠাট্টা করছেন। আপনার আমন্ত্রণ পেয়ে ক্যাঙ্গারুর মতো লাফিয়ে উঠেছিলাম, তা জানেন? আপনি যা আবিষ্কার করেছেন, তার সাথে জড়াবার জন্য যেকোনো আর্কিওলজিস্ট তার একটা চোখ হারাতেও পিছপা হবে না। আমার তর সইছে না, কখন দেখাবেন?
দশ মিনিটের মধ্যে অন্ধকার হয়ে যাবে। আপনি বরং কাল সকালে দেখতে চাইলে ভালো হয়। তার আগে ড. গ্রোনকুইস্ট ব্রিফ করবেন আপনাকে। মেইন ডেক থেকে যেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, সেসব আজই দেখানো যেতে পারে।
ড. মেল রেডফার্ন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেরিন আর্কিওলজিস্ট, পিটের আমন্ত্রণ পেয়ে এথেন্স থেকে রিকিয়াভিক-এ চলে আসেন প্লেনে চড়ে, সেখান থেকে আল জিওর্দিনো তাকে হেলিকপ্টারে তুলে নেয়। হ্যাঁচ গলে পোলার এপ্লারারের পেটে নেমে এল ওরা। খোলের ভেতর কী কী পেয়েছেন, বলবেন, মি. পিট?
ক্রুদের দেহ ছাড়া কার্গো হোল্ডে আর কিছু পাইনি।
কিন্তু মেসেজে আপনি জানিয়েছেন, জাহাজটা প্রায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
হ্যাঁ, তা সত্যি। কিছু কিছু মেরামতের কাজ শেষ করতে পারলে, বৈঠা ঠেলে ওটাকে নিউ ইয়র্ক বন্দরে নিয়ে যেতে পারবেন।
ড. গ্রোনকুইস্ট কি ওটার সময়কাল নির্ধারণ করতে পেরেছেন?
মুদ্রাগুলো তিনশো নব্বই খ্রিস্টাব্দের। এমনকি জাহাজটার নামও জানি আমরা। সেরাপিস, স্টার্নপোস্টে গ্রিক ভাষায় খোদাই করা আছে।
সম্পূর্ণ সংরক্ষিত চতুর্থ শতাব্দীর বাইজেন্টাইন বাণিজ্য জাহাজ, বিড়বিড় করে বললেন ড. রেডফার্ন। যুগান্তকারী আবিষ্কার। হ্যাঁ, ছুঁয়ে দেখার জন্য হাত দুটো নিশপিশ করছে আমার।
অফিসার্স ওয়ার্ডরুমে চলে এল ওরা। টেবিলে বসে মোম ট্যাবলেটে পাওয়া অক্ষরগুলো একটা কাগজে কপি করছে লিলি শার্প। ওদের পরিচয় করিয়ে দিল পিট। চেয়ার ছেড়ে দাঁড়াল লিলি, হাতটা বাড়িয়ে দিল ড. রেডফানের দিকে। বলল, আপনার সাথে পরিচিত হয়ে সম্মানিত বোধ করছি, ড. রেডফার্ন। আমি মাটিতে কাজ করলেও, পানির নিচে আপনার কৃতিত্ব সম্পর্কে সব খবরই আমার জানা আছে, আমি আসলে আপনার একজন ভক্ত।
সম্মানটুকু আমার, বললেন ডক্টর।
ডক্টর, কী খেতে ইচ্ছে করেন? পিট জানতে চায়।
এক গ্যালন গরম চকোলেট আর পাঁচ কেজি স্যুপ হলেই চলবে।
হেসে ফেলে স্টুয়ার্ডকে ডাকল লিলি।
আমরা একটা ধাঁধায় পড়েছি, ড. রেডফার্নকে বলল পিট। আপনার ল্যাটিন কেমন?
