চোখে রিডিং গ্লাস এঁটে চার এবং পাঁচ নম্বর পাতায় চোখ বোলালেন প্রেসিডেন্ট।
দিনের বাকি সময় কী করল জর্জি?
বেশির ভাগ সময় ব্যয় করেছেন অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে। তার অবস্থা বেশ নাজুক। সোভিয়েত অর্থনীতির অবস্থা খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে। সেনাবাহিনীতে তার সমর্থন কম। ওদিকে রাশিয়ার জনতা এখন অনেক বেশি সরব। শোনা যাচ্ছে, আগামী গ্রীষ্মের আগেই জর্জি অ্যান্টেনভের পদত্যাগ করতে হতে পারে।
আমার নিজেরও ওই অবস্থা হতে পারে, যদি না নিজের পক্ষে জনমত জোরাল করতে পারি।
এই কথায় স্বাভাবিকভাবেই নিশ্চুপ রইলেন ব্রোগান।
মিসর থেকে সাম্প্রতিক কী খবর পাওয়া গেল? এবারে প্রসঙ্গ বদল করে জানতে চাইলেন প্রেসিডেন্ট।
নাদাভ হাসান এখনও ক্ষমতায় টিকে আছেন শুধুমাত্র এয়ারফোর্সের সমর্থন নিয়ে ব্যাপক রদবদল সত্ত্বেও সেনাবাহিনীতে তার ক্ষমতা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সামরিক নেতৃবৃন্দ যেকোনো মুহূর্তে ইয়াজিদের পক্ষ অবলম্বন করতে পারেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আবু হামিদ, পোর্ট সাঈদ-এ গোপনে ইয়াজিদের সাথে বৈঠক করেছেন। সি.আই.এ এজেন্টরা জানতে পেরেছে, ক্ষমতাশালী একটা পদ না পেলে আখমত ইয়াজিদকে সমর্থন দিতে রাজি হননি আবু হামিদ। মৌলবাদী মোল্লাদের অধীনে থাকার কোনো ইচ্ছে তার নেই।
কী মনে হয়, ইয়াজিদ হাল ছেড়ে দেবে?
মাথা নাড়লেন ব্রোগান। কাউকে ক্ষমতার ভাগ দেয়ার কোনো ইচ্ছে ইয়াজিদের নেই। তাঁর নিষ্ঠুরতা সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করছেন আবু হামিদ। তিনি জানেন না, তবে সি.আই.এ, জানে যে আবু হামিদের প্রাইভেট প্লেনে বোমা ফিট করার একটা ষড়যন্ত্র হয়েছিল। ষড়যন্ত্রটা ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে। আবু হামিদকে ব্যাপারটা জানানোর জন্য প্রেসিডেন্টের অনুমতি প্রার্থনা করলেন সি.আই.এ. ডিরেক্টর।
হে’লা কামিলকে বহনকারী জাতিসংঘ বিমানের দুর্ঘটনার সঙ্গে ইয়াজিদকে বাঁধা যায়?
প্রেসিডেন্টের প্রশ্নের উত্তরে মারটিন ব্রোগান জানালেন, জাতিসংঘ প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে ইয়াজিদের হাত থাকলেও তা প্রমাণ করা যাচ্ছে না। জানা গেছে, প্লেনটাকে গ্রিনল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী হলো ভুয়া পাইলট, সুলেমান আজিজ। কিন্তু আরোহীদের খাবারে বিষ মেশানোর কাজটা তার কীর্তি নয়। এই কাজের জন্য এডুরাডো ইয়াবারা নামে একজন মেক্সিকান প্রতিনিধিকে সন্দেহ করা হচ্ছে, প্লেন বিধ্বস্ত হবার সময় মারা গেছে সে। হে’লা কামিল বাদে সে-ই একমাত্র আরোহী, যে, প্লেনে ওঠার পর কোনো খাদ্য গ্রহণ করেনি। ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্ট যে মেয়েটা বেঁচে গেছে তার ভাষ্য অনুসারে, এডুরাডো ইয়াবারাকে খাবার সাধা হয়েছিল, কিন্তু পেট ভালো নেই বলে এড়িয়ে যায় সে।
এমন তো হতে পারে, সত্যি তার পেট খারাপ ছিল? বললেন প্রেসিডেন্ট।
না, নিজের ব্রিফকেস থেকে তাকে একটা স্যান্ডউইচ খেতে দেখেছে বেঁচে যাওয়া ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট।
তাহলে তো সে জানত, খাবারে বিষ আছে।
তাই তো মনে হয়।
সে ছাড়া সবাই মরবে, এটা জানার পরেও বিমানে উঠল কেন ব্যাটা?
ব্যাক আপ পরিকল্পনা হিসেবে। যদি তার টার্গেট বিষ বিশ্রিত খাবার নায় খায় তাই সে ছিল ওখানে।
চেয়ারে হেলান দিয়ে সিলিংয়ে তাকালেন প্রেসিডেন্ট।
তো, কামিল হলো ইয়াজিদের পথের কাটা। সুলেমান আজিজের মাধ্যমে তাঁকে নিকেশ করতে চেয়েছিল সে। কিন্তু পরিকল্পনা ভেস্তে গেল-গ্রিনল্যান্ড উপকূলে বিধ্বস্ত হলো, বিমান, আর্কটিকে তলিয়ে গেল না। বেশ রহস্যজনক। মিসরের যোগাযোগ না হয় বুঝলাম। কিন্তু মেক্সিকান প্রতিনিধির কামিলকে মেরে কী লাভ? এতগুলো লোক মেরে কী অর্জন করতে চায় তারা? এখন তো প্রমাণের অভাবে কিছুই করা সম্ভব নয়।
ব্রোগান বললেন, মেক্সিকোতে কোনো রকম সন্ত্রাসী তৎপরতার রিপোর্ট নেই।
টপিটজিনকে ভুলে গেলে?
ভুলিনি। গাই রিভাসের পরিণতির কথাও মনে আছে। একটু সুযোগ পেলেই ওকে ধরব।
দীর্ঘশ্বাস ফেললেন প্রেসিডেন্ট। লোকটা একটা রক্তপিপাসু উন্মাদ! মেক্সিকোর ক্ষমতা যদি পায় সে, খবর আছে আমাদের।
রিভাসের মরণ-চিৎকারের টেপটা আপনি শুনেছেন? জানতে চাইলেন ব্রোগান, উত্তর তার ভালো করেই জানা।
চারবার। দুঃস্বপ্ন দেখছি সেই থেকে।
মারটিন ব্রোগান এৰারে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা বললেন, কিন্তু যদি মেক্সিকোর বৈধ সরকারকে উৎখাত করে টপিটজিন ক্ষমতা দখল করে, তখন কী হবে? আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকা কজা করার হুমকি দিয়েছে সে। মেক্সিকানরা যদি মিছিল করে সীমান্ত পেরোতে শুরু করে?
প্রেসিডেন্ট মৃদু গলায়, শান্তভাবে জানালেন, আমেরিকার মাটিতে কেউ অনুপ্রবেশ করলে তাকে গুলি করার নির্দেশ দেব আমি। বিদেশি আগ্রাসন আমি সহ্য করব না।
.
সিআইএ সদর দপ্তর, ল্যাংলিতে ফিরে এলেন মার্টিন ব্রোগান। নেভির অ্যাসিস্যান্ট সেক্রেটারি, এলমার শ অপেক্ষা করছিল তার জন্য।
বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। কিন্তু ইন্টারেস্টিং খবর আছে আমার কাছে।
বসো। কী ব্যাপার?
আমাদের সার্ভে জাহাজ, পোলার এক্সপ্লোরার, আর্কটিকে হারিয়ে যাওয়া আলফা ক্লাস সোভিয়েত সাবমেরিন খুঁজছিল-
হ্যাঁ, জানি, থামিয়ে দিয়ে বললেন সিআইএ প্রধান।
ওটা খুঁজে পেয়েছে তারা।
চোখ দুটো বড় বড় হলো মার্টিন ব্রোগানের, টেবিলে চাপড় দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করলেন তিনি।
