আর হে’লা কামিল? তিনি কী করছেন? জানতে চাইলেন আন্ডার সেক্রেটারি।
গ্রিনল্যান্ড থেকে এয়াফোর্সের যে প্লেনে ফিরে এসেছেন সেটা থেকে নামেননি তিনি, প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী বললেন। আবার ফুয়েল নিয়ে ডেনভারের কাছে বাকলি ফিল্ডে চলে গেছে প্লেনটা। ওখান থেকে হে’লা কামিলকে নিয়ে যাওয়া হবে ব্রেকেনরিজ-এ।
কলোরাডোর স্কি রিসর্টে?
হ্যাঁ, সিনেটর জর্জ পিটের বাড়িতে। হে’লা কামিল দুএক জায়গায় সামান্য চোট পেয়েছেন, এখন অবশ্য ভালোই আছেন।
আমরা তাঁর দায়িত্ব নেয়ায় ভদ্রমহিলার প্রতিক্রিয়া?
বলা হয়েছে, আমরা শুধু নিরাপদে তাঁকে জাতিসংঘে পৌঁছে দিতে চাই, অধিবেশনের উদ্বোধন উপলক্ষে সেখানে তিনি ভাষণ দেবেন। না, আমাদের সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেননি। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে আভাস পাওয়া গেছে, ভাষণে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে জোরাল বক্তব্য থাকবে। কিন্তু সমস্যা হলো, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পাঁচ দিন পর। হে’লা কামিলকে থামাবার জন্য পাঁচ দিন চেষ্টার কোনো ত্রুটি করবে না আখমত ইয়াজিদ।
মঞ্চে পা রাখার আগের মুহূর্তে পর্যন্ত কোথায় আছেন তিনি তা যেন কাকপক্ষীও টের না পায়।
মিসর সরকারের তরফ থেকে তোমার দপ্তর কিছু জানতে পারল? ডেইল নিকোলাস প্রশ্ন করলেন।
হে’লা কামিলের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট হাসান আমাদেরকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন, জানালেন জুলিয়াস শিলার। দেশের অর্থনীতি নতুন করে ঢেলে সাজানোর কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত তিনি, বলা যায় চব্বিশ ঘণ্টা মিটিংয়ের মধ্যে আছেন। ভদ্রলোক আন্তরিক, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ভাষণ দেয়ার আগেই যদি ইয়াজিদের পাঠানো অ্যাসাসিনের হাতে হে’লা কামিল মারা যান, তাহলে ধরে নিতে পারো, এক মাসের মধ্যে আরেকটা ইরান পাবেন।
শান্ত হও, আশ্বাস দিলেন ডেইল নিকোলাস। হে’লা কামিল কোথায় আছেন, আখমত ইয়াজিদ বা তার পাঠানো খুনিরা জানতেই পাববে না।
প্রহরার ব্যবস্থা যথেষ্ট…
সিক্রেট সার্ভিসের একদল এজেন্ট খোঁজখবর রাখছে।
জুলিয়াস শিলার বললেন, আরও নিশ্চিন্ত হতে পারতাম কাজটায় যদি এফ. বি. আই, সাহায্য করত।
হোয়াইট হাউসের সিকিউরিটি স্টাফেরা সব দিক ভেবেই এই ব্যবস্থা করেছে। তাছাড়া, প্রেসিডেন্ট চাইছেন না পাঁচমিশালি একটা আয়োজন করা হোক।
দেখো, ডেইল, সাবধান-ব্যাপারটা লেজে গোবরে করে ফেলো না।
আরে, চিন্তা কোরো না, তো! কথা দিলাম, হে’লা কামিল নির্দিষ্ট দিনে সম্পূর্ণ বহাল তবিয়তে জাতিসংঘ সদর দফতরে পৌঁছবেন।
সত্যি যেন পৌঁছান।
সূর্য যদি পশ্চিমে ওঠে, তবুও পৌঁছবেন।
ফোনের রিসিভার নামিয়ে রাখলেন জুলিয়াস শিলার। কোনো কারণ নেই, তবু অস্বস্তিবোধ করছেন তিনি। মনে মনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন, খারাপ কিছু যেন না ঘটে। তারপর ভাবলেন, হোয়াইট হাউস যা করছে নির্ঘাত সব দিক ভেবে-চিন্তেই করছে।
.
রাস্তার ওপারে একটা ফোর্ড কোম্পানির ভ্যানে তিনজন লোক বসে আছে। ভ্যানের গায়ে লেখা-ক্যাপিটাল প্লামবিং, টোয়েন্টি ফোর আওয়ার ইমার্জেন্সি সার্ভিস। ভেতরে অত্যাধুনিক আড়িপাতা যন্ত্র গিজগিজ করছে।
তিনজনই ওরা সাবেক কাউন্টার এসপিওনাজ এজেন্ট, চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে চুক্তিভিত্তিক স্বাধীন ব্যবসায় নেমেছে। এ ধরনের এজেন্টরা সাধারণত সরকারি ছাড়া অন্য কোনো কাজ গ্রহণ করে না। তবে এদের কথা আলাদা। এরা তিনজন অল্প দিনে কোনো কাজ গ্রহণ করে না। তবে এদের কথা আলাদা। এরা ইত্যাদি বিসর্জন দিয়েছে তারা। যে বেশি টাকা দেয় তার কাছেই এরা ক্লাসিফায়েড ইনফরমেশন বিক্রি করে।
শিলারের জানালার রঙিন কাঁচের দিকে বাইনোকুলার তাক করে তাদের একজন বলল, লিভিং রুম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন উনি।
দ্বিতীয় লোকটা মোটাসোটা, কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে ঝুঁকে রয়েছে রেকর্ডিং মেশিনের দিকে, বলল, কথাবার্তা সব থেমে গেছে।
তৃতীয় লোকটার বিশাল গোফ, সে একটা লেয়ার প্যারাবোলিক অপারেট করছে। জিনিসটা স্পর্শকাতর মাইক্রোফোন, ঘরের ভেতরের কণ্ঠস্বর রিসিভ করে জানালার কাঁচে কম্পন থেকে, তারপর সেটাকে ফাইবার অপটিক্স-এর মাধ্যমে ম্যাগনিফাই করে সাউন্ড চ্যানেলে পাঠিয়ে দেয়।
ইন্টারেস্টিং কিছু? প্রথমজন জানতে চাইল।
মোটাসোটা দ্বিতীয়জন এয়ারফোন নামিয়ে কপালের ঘাম মুছল। একটা ফিশিং বোট কেনার টাকা বোধ হয় এবার পেয়ে গেলাম।
গোঁফে তা দিয়ে তৃতীয় লোকটা জানতে চাইল, তথ্যটার সম্ভাব্য ক্রেতা কে হতে পারে?
এক উন্মাদ ধনী আখমত ইয়াজিদকে সাহায্য করতে চায়।
.
১৯.
নিজের ডেস্কের পেছন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সিআইএ প্রধান, মার্টিন ব্রোগানের উদ্দেশে ইশারা করলেন প্রেসিডেন্ট।
মাথার রুপালি চুলে হাত বুলিয়ে তিনি বললেন, আজ সকালে গুরুত্বপূর্ণ কী খবর আছে আমার জন্য?
কাঁধ ঝাঁকিয়ে প্রেসিডেন্টের বসার অপেক্ষায় রইলেন ব্রোগান। এরপর লেদার মোড়া একটা ফাইল এগিয়ে দিলেন তার দিকে। মস্কোর সময় সকাল নয়টায় সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট জর্জি অ্যান্টেনভ তার স্ত্রীর সাথে প্রেম করেছেন গাড়ির ব্যাক সিটে!
তার দিন শুরুর কায়দা দেখে আমি ঈর্ষান্বিত, চওড়া হেসে বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ওনার গাড়ির ফোন থেকে দুটো কল করেছেন তিনি; একটি রাশিয়ার মহাকাশবিষয়ক প্রোগ্রামের প্রধানকে, অপরটি নিজের ছেলেকে। মেক্সিকো সিটির বাণিজ্যিক অংশে দূতাবাসে কাজ করে সে। পেজার নম্বর চার আর পাঁচে তাদের আলাপচারিতার একটা বর্ণনা পাবেন।
