ঠিক আছে।
আর, মি. গাই রিভাসের কাছ থেকে খবর পাওয়া মাত্র আমাকে জানাবেন।
ঠিক আছে, মি, প্রেসিডেন্ট।
রিসিভার রেখে দিয়ে ফোল্ডারটার দিকে আবার তাকালেন ডেইল নিকোলাস। ভাবলেন, ইউ. এন হত্যাকাণ্ডের সাথে টপিটজিন কোনোভাবে জড়িত নয় তো?
আসলে ঠিক কী অর্জন করতে চাইছে টপিটজিন? আযটেক মেক্সিকো? অতীতের পুনরুত্থান? সেকেলে শাসনব্যবস্থা আধুনিক যুগে অচল, এটা বোঝার মতো জ্ঞান তার নেই তা বিশ্বাস করা যায় না। তাহলে?
আসলে ডেইল নিকোলাস ডিটেকটিভ নন। তিনি বুঝতে পারছেন বটে অন্য একটা কিছু পরিচালিত করছে বা শক্তি জোগাচ্ছে টপিটজিনকে, কিন্তু সেটা কী হতে পারে কোনো ধারণা করতে পারছেন না। তিনি শুধু টপিটজিনকে একজন ভিলেন হিসেবে বিবেচনা করতে পারছেন।
আর্য রক্তের শ্ৰেত্বের স্বপ্নে উঁদ ছিল হিটলার। আয়াতুল্লাহ খোমেনি চেয়েছিল মুসলিম জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠা। লেনিন চেয়েছিল কমিউনিজমের ক্রুসেড।
টপিটজিন কী চায়?
দরজায় নক করে ভেতরে ঢুকল তার সেক্রেটারি, ডেস্কের ওপর একটা ফাইল ফোল্ডার রাখল। সি. আই.এ. থেকে যে রিপোর্টাটা চেয়েছিলেন, স্যার। আর, তিন নম্বরে আপনার একটা কল অপেক্ষা করছে।
কে?
জিম গেরহার্ট নামে এক ভদ্রলোক, বলল মেয়েটা।
হোয়াইট হাউস সিকিউরিটি। কি চায় বলেছে?
জরুরি।
ফোনের রিসিভার তুলে বোতামে চাপ দিলেন ডেইল নিকোলাস। হ্যাঁ!
জিম গেরহা …
জানি, বলুন।
খুব ভালো হয় আপনি যদি জর্জ ওয়াশিংটন হাসপাতালের প্যাথোলজি ল্যাবে চলে আসেন, স্যার।
ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে? কেন?
আমি বরং ফোনে আর কিছু বলব না, স্যার।
আমি অত্যন্ত ব্যস্ত, মি. গেরহার্ট। আপনাকে আরও খোলসা করে বলতে হবে।
ক্ষণিক নীরবতা। ব্যাপারটা আপনার ও মি. প্রেসিডেন্টের জন্য উদ্বেগের বিষয়, স্যার। শুধু এইটুকু বলতে পারি।
কোন আভাস দিতে পারেন না?
প্রশ্নটার জবাব না দিয়ে জিম গেরহার্ট বলল, আপনার অফিসের বাইরে আমার একজন লোক অপেক্ষা করছে, স্যার। সে আপনাকে ল্যাবে নিয়ে আসবে। ওয়েটিংরুমে দেখা হবে আমাদের।
আমার কথা শুনুন, গেরহার্ট…। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, আর কিছু বলা হলো না।
.
ল্যাবের ওয়েটিংরুমেই পাওয়া গেল জিম গেরহার্টকে। এসেছেন, সেজন্য ধন্যবাদ, আনুষ্ঠানিক সুরে বলল সে, করমর্দনের কোনো আগ্রহ দেখল না।
আমি এখানে কেন? সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন ডেইল নিকোলাস।
শনাক্ত করার জন্য, স্যার।
হঠাৎ বুকটা ছ্যাৎ করে উঠল, ফিসফিস করে জানতে চাইলেন, কাকে?
দেখে নিয়ে আপনিই বলুন, স্যার।
লাশ দেখায় আমি অভ্যস্ত নই।
ঠিক লাশ নয়, স্যার। তবে শক্ত হতে হবে আপনাকে।
কাঁধ ঝাঁকালেন ডেইল নিকোলাস। ঠিক আছে, চলুন সেরে ফেলা যাক।
করিডর পেরিয়ে একটা কামরায় ঢুকল ওরা। কামরার মাঝখানে একটাই স্টেনলেস স্টিলের টেবিল। সাদা, স্বচ্ছ প্লাস্টিক দিয়ে মোড়া রয়েছে লম্বা কী যেন। টেবিলের গা থেকে এক ইঞ্চির বেশি নয় জিনিসটার উচ্চতা। চেহারায় বিহ্বল ভাব নিয়ে গেরহার্টের দিকে তাকালেন নিকোলাস। কী শনাক্ত করতে হবে আমাকে?
কথা না বলে প্রাস্টিক আবরণ সরিয়ে নিল গেরহার্ট। তার হাত থেকে মেঝেতে পড়ে গেল সেটা।
টেবিলে পড়ে থাকা জিনিসটার দিকে তাকিয়ে থাকলেন নিকোলাস, চিনতে পারছেন না। প্রথম মনে হলো, কাগজ কেটে মানুষের আকৃতি তৈরি করা হয়েছে। তারপর প্রচণ্ড ঘুষির মতো ধাক্কার সাথে উপলব্ধি করলেন। দুপা পিছিয়ে দেয়ালে হেলান দিলেন তিনি, কোমর বাঁকা করে হাঁপাচ্ছেন। তাড়াতাড়ি কামরা থেকে বেরিয়ে গিয়ে একটু পরই ফিরে এল গেরহার্ট, হাতে ফোল্ডিং একটা চেয়ার ও তোয়ালে। প্রেসিডেন্টের বিশেষ অ্যাসিস্ট্যান্টকে চেয়ারটায় বসতে সাহায্য করল সে, হাতে ধরিয়ে দিল তোয়ালেটা।
প্রায় দুমিনিট চেয়ারে বসে থাকলেন ডেইল নিকোলাস। মুখে তোয়ালে চেপে ধরে শুকনো বমি করলেন। খানিকটা শান্ত হয়ে মুখ তুললেন তিনি। গুড লর্ড! ওটা তাহলে…?
চামড়া, বলল গেরহার্ট। গা থেকে ছাড়ানো মানুষের চামড়া।
টেবিলের দিকে জোর করে আবার তাকালেন নিকোলাস। চুপসানো বেলুনের কথা মনে পড়ে গেল তাঁর। ছালটা কাটা হয়েছে মাথার পেছন থেকে গোড়ালি পর্যন্ত, শরীর থেকে চামড়া উঠে এসেছে ঠিক যেমন পশুদের আসে। লম্বা একটা চেরা দাগ রয়েছে বুকে, সেলাই দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে সেটা। চোখ নেই, তবে সবটুকু চামড়া আছে, হাত আর পায়েরও।
বলতে পারেন, স্যার, কে হতে পারে? শান্তভাবে জানতে চাইল গেরহাট।
মুখ খুলতে গিয়েও খুললেন না ডেইল নিকোলাস। আবার অসুস্থ লাগল নিজেকে। শুধু চুলগুলো তার চেনা চেনা ঠেকছে। তবু তিনি জানেন? গাই রিভাস, ফিসফিস করে বললেন তিনি।
কথা না বলে ডেইল নিকোলাসকে ধরে দাঁড় করাল গেরহার্ট, পাশের কামরায় নিয়ে এসে একটা সোফায় বসাল। এক মিনিট পর তার হাতে গরম কফির একটা কাপ ধরিয়ে দিল সে। খান, এক্ষুনি আসছি আমি।
একটা অ্যাটাচি কেস নিয়ে ফিরে এল গেরহার্ট। নিচু টেবিলের ওপর রাখল সেটা। চামড়াটা এটার ভেতরে করে আনা হয়েছে। ভাঁজ করা ছিল। প্রথমে মনে করেছিলাম, কোনো সাইকোর কাজ হবে। কিন্তু সার্চ করতে গিয়ে মিনি একটা টেপ রেকর্ডার পেয়ে গেলাম।
চালিয়েছেন?
কিছুই বুঝিনি। দু’জনের কথা রেকর্ড করা হয়েছে, যেন সাংকেতিক ভাষায় কথা বলছে তারা।
