স্প্যানিশ ভাষাটা ভালোই জানা আছে ডেইলের, শান্তি মিশনের সঙ্গে দুই বছর পেরু ছিলেন তিনি। কাজেই লেখাগুলো পড়তে তার অসুবিধা হলো না। এবার পড়ার সময় একটা প্যাড় আর কলম টেনে নিলেন তিনি, নোট রাখবেন।
‘এক। টপিটজিনের দাবি, দরিদ্রস্য দরিদ্রদের মধ্যে থেকে উঠে এসেছে সে। মেক্সিকো সিটিতে যেখানে আবর্জনা ফেলা হয়, সেই আস্তাকুড়ের কিনারায় আস্তাকুঁড় দিয়ে তৈরি একটা ঝুপড়ির ভেতর জন্ম হয়েছে তার। জন্মতারিখ, মাস বা বছর, কিছুই মনে নেই। কীভাবে সে বেঁচে গেছে বলতে পারবে না, তবে একটু বড় হবার সাথে সাথে শিখেছে কীভাবে মাছি, আবর্জনা, নর্দমা, দুর্গন্ধ, শীত আর খিদে নিয়ে বেচেঁ থাকতে হয়।
দুই। স্বীকার করে, কোনো দিন স্কুলে যায়নি। ছেলেবেলা আর টলটেক/ আযটেক ধর্মের স্বঘোষিত অবতার হওয়ার মাঝখানের সময়টা সম্পর্কে তার কোনো ইতিহাস জানা যায় না।
তিন। তার মধ্যে দিয়ে দশম শতাব্দীর ধর্মীয় গুরু ও টলটেকদের শাসক টপিন্টজিন পুনরায় ধরাধামে ফিরে এসেছেন বলে দাবি করে সে। কিংবদন্তির দেবতা কয়েটজালকোটল আর টপিটজিনকে এক বলে ধারণা করা হয়।
চার। প্রাচীন সংস্কৃতি আর ধর্মের সংমিশ্রণে রাজনৈতিক দর্শন প্রচার করে টপিটজিন, যার মূল কথা হলো কোনো দল নয়, মাত্র একজন ধর্মীয় গুরু বা অবতার রাজ্য শাসন করবে। টপিটজিনের উচ্চাশা, মেক্সিকান জনসাধারণের সর্বজন শ্রদ্ধেয় পিতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে সে। কীভাবে বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে আবার চাঙ্গা করবে জিজ্ঞেস সে সম্পর্কে আলোচনা করতে রাজি নয়।
পাঁচ। ভাষণে জাদু আছে। মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। দোভাষীর সাহায্য নিয়ে শুধু প্রাচীন আযটেক ভাষায় কথা বলে সে। মধ্য মেক্সিকোয় এই ভাষা এখনও অনেকে ব্যবহার করে।
ছয়। বেশির ভাগ সমর্থক ফ্যানাটিক। বাঁধ ভাঙা স্রোতের মতো গোটা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তার জনপ্রিয়তা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিশ্বাস, জাতীয় নির্বাচনে টপিটজিন আর তার দল শতকরা ছয় ভাগ আসনে জয়লাভ করবে। অথচ নির্বাচনে অংশগ্রহণে রাজি নয় সে। তার বক্তব্য, তা যথার্থও বটে, যে নির্বাচনে হারলেও দুর্নীতিপরায়ণ সরকার ক্ষমতা ছাড়বে না। জনসাধারণকে সাথে নিয়ে সরকারকে উৎখাত করাই তার লক্ষ্য।’
নিভে যাওয়া পাইপটা অ্যাশট্রেতে রেখে সিলিংয়ের দিকে তাকালেন ডেইল নিকোলাস। তারপর মন্তব্য লিখতে শুরু করলেন তিনি।
‘সারাংশ : টপিটজিন হয় অকাট মূর্খ নয়তো অসম্ভব প্রতিভাবান ব্যক্তি। নিজের সম্পর্কে যা বলে, যদি সে সত্যিই সেই রকম হয়, তবে টপিটজিন একজন গর্দভ। আর যদি তার সমস্ত কাজের পেছনে কোনো উদ্দেশ্যে থেকে থাকে এবং নিজস্ব কোনো উপায় তবে সে একজন অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। সমস্যা! সমস্যা! সমস্যা!’
লেখা শেষ হয়েছে, ঝন ঝন শব্দে বেজে উঠল টেলিফোন। রিসিভার তুললেন ডেইল নিকোলাস।
এক নম্বরে প্রেসিডেন্ট, স্যার, সেক্রেটারি ঘোষণা করল।
বোতাম চাপ দিলেন নিকোলাস। ইয়েস, মি. প্রেসিডেন্ট।
গাই রিভাসের কোনো খবর পেলেন?
না, কোনো খবর নেই।
প্রেসিডেন্টের প্রান্তে কয়েক সেকেন্ডের বিরতি। তারপর শোনা গেল, আমার সাথে তার দেখা করার সময় দুঘণ্টা হলো পেরিয়ে গেছে। আমি উদ্বেগ বোধ করছি। তার যদি কোনো সমস্যা হয়ে থাকে, এতক্ষণে পাইলটের একটা খবর পাঠানোর কথা।
তিনি হোয়াইট হাউসের কোনো জেট নিয়ে মেক্সিকো সিটিতে যাননি, ব্যাখ্যা করলেন ডেইল নিকোলাস। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কমার্শিয়াল এয়ারলাইনারে গেছেন, কোচ ক্লাসে, ট্যুরিস্ট হিসেবে।
বুঝলাম, বললেন প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট দো লরেঞ্জো যদি জানতে পারেন ব্যক্তিগত একজন প্রতিনিধিকে তার বিরোধীপক্ষের সাথে আলোচনা করতে পাঠিয়েছি, ব্যাপারটাকে তিনি অপমান বলে মনে করবেন, ফলে আগামী সপ্তাহর আরিজানা কনফারেন্সটা ভুল হয়ে যেতে পারে।
ইয়েস, মি. প্রেসিডেন্ট।
ইউ, এন, চার্টার ক্র্যাশ সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়েছে আপনাকে? হঠাৎ প্রসঙ্গ বদলালেন প্রেসিডেন্ট।
না, স্যার, জবাব দিলেন ডেইল নিকোলাস। আমি যে একমাত্র তথ্যটি জানি, হে’লা কামিল বেঁচে গেছেন।
তিনি আর ক্রুদের দু’জন সদস্য। বাকি সবাই বিষক্রিয়ার মারা গেছেন।
বিষ? গলায় অবিশ্বাস।
ইনভেস্টিগেটররা তাই বলছে। তাদের বিশ্বাস, সবাইকে বিষ খাওয়ানোর চেষ্টা করে প্যারাসুট নিয়ে আইসল্যান্ডে নেমে গেছে পাইলট!
তাহলে নিশ্চয়ই লোকটা ভুয়া হবে।
একটা লাশ না পাওয়া পর্যন্ত হা-না কিছুই বলা যাচ্ছে না।
গড, ইউ এন, প্রতিনিধিদলকে মেরে কোনো আতঙ্কবাদী গ্রুপ কি অর্জন করবে?
এখনও কেউ কৃতিত্ব দাবি করেনি। সি.আই.এ থেকে মারটিন ব্রোগান বলছেন, এটা যদি আতঙ্কবাদীদের কাজ হয়, তাহলে মনে করতে হবে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বদলেছে।
হতে পারে হে’লা কামিলই টার্গেট ছিলেন। আখমত ইয়াজিদ বহুবার বলেছে, তাকে সে দেখে নেবে।
সম্ভাবনাটা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
প্রেস কিছু জানতে পেরেছ?
এক ঘণ্টার মধ্যে গোটা দুনিয়া জানবে। চেপে রাখার কোনো কারণ আমি দেখছি না।
আপনি আমাকে বিশেষ কিছু করতে বলেন, মি. প্রেসিডেন্ট?
শুধু এইটুকু জানতে পারলে ভালো হয়। ইউ.এন. ফ্লাইটে মেক্সিকোর এগারোজন নাগরিক ছিলেন-ডেলিগেট ও এজেন্সি প্রতিনিধি। আমার নামে শোকবাণী পাঠান, সাহায্যের প্রস্তাব দিন। ও, হ্যাঁ, ভালো কথা, স্টেট ডিপার্টমেন্টের জুলিয়াস শিলারকে সব জানাবেন।
