পাইথথয়াস ভাগ্যবান, গল্পটা বলার জন্য তিনি দেশে ফিরতে পেরেছিলেন।
তোমার ধারণা, রোমান যারা এখানে এসেছিল তারা ফেরার পথে জাহাজডুবিতে মারা যায়?
না, আমার ধারণা, এখনও তারা এখানেই আছে। লিলির দিকে চোখ নামিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে হাসল পিট। তুমি আর আমি, সুন্দরী, খুঁজে বের করব ওদেরকে।
.
দ্বিতীয় পর্ব – দ্য সেরাপিস
১৪ অক্টোবর ১৯৯১, ওয়াশিংটন, ডি.সি,
১৪.
ঝিরঝির বৃষ্টির মধ্যে সতেরো পেনিসিলভানিয়া এভিনিউয়ে থামল ট্যাক্সিটা, পুরনো এক্সিকিউটিভ অফিস বিল্ডিংয়ের ঠিক সামনে। ডেলিভারিম্যান-এর ইউনিফর্ম পরা এক লোক পেছনের সিট থেকে নেমে ড্রাইভারকে অপেক্ষা করতে বলল। ট্যাক্সির ভেতর ঝুঁকে লাল সিল্কে মোড়া একটা প্যাকেট বের করল সে। ফুটপাত পেরিয়ে কয়েকটা ধাপ টপকাল, দোরগোড়া হয়ে ঢুকে পড়ল মেইলরুমের রিসেপশন অংশে।
প্রেসিডেন্টের জন্য, ইংরেজিতে বললেও তার বাচনভঙ্গি স্প্যানিশ।
পোস্টাল সার্ভিসের একজন সহকারী প্যাকেটের গায়ে সময় লিখে সই করল। মুখ তুলে হাসল সে। এখনও বৃষ্টি হচ্ছে?
ঝিরঝিরে। বলেই চলে গেল ডেলিভারিম্যান।
প্যাকেটটা নিয়ে ফ্লুরোস্কোপ-এর নিচে রাখল পোস্টাল সহকারী। পিছিয়ে এসে স্ক্রীনের দিকে তাকাল সে, প্যাকেটের ভেতর কী আছে দেখতে পাচ্ছে।
একটা ব্রিফকেস। কিন্তু ছবিটা তাকে অবাক করে দিল। ব্রিফকেসের ভেতর কোনো কাগজ বা ফাইল নেই, নির্দিষ্ট কাঠামো বা কিনারাসহ কোনো শক্ত জিনিস নেই। বিস্ফোরক ধরনের কিছু হলে চেনা যেত, তাও নয়। ব্যাপারটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। ফোনের রিসিভার তুলে ডায়াল করল সে।
দুমিনিটের মধ্যে কুকরের চেইন হাতে করে একজন সিকিউরিটি অফিসার হাজির হলো। কি, মাতাহারির কোনো খোরাক? সহাস্যে জানতে চাইল এজেন্ট।
ইঙ্গিতে প্যাকেটটা দেখিয়ে দিল পোস্টাল সহকারী। স্কোপে জিনিসটা কেমন যেন দেখাচ্ছে।
মাতাহারি ট্রেনিং পাওয়া জার্মান কুকুর। মোটাসোটা, ছোটখাট; খয়েরি চোখ দুটো। বিশাল। যেকোনো বিস্ফোরকের গন্ধ চিনতে পারে সে। লোক দু’জন তাকিয়ে থাকল, প্যাকেটটাকে ঘিরে চক্কর দিচ্ছে কুকুরটা। চেহারা বিকৃত করল, গলার ভেতর থেকে বেরিয়ে এল চাপা গর্জন।
অবাক হলো এজেন্ট লোকটা। কী ব্যাপার, মাতাহারি তো কখনও এ রকম করে না!
ওটার ভেতর অদ্ভুত কিছু আছে।
কার নামে এসেছে?
প্রেসিডেন্টের।
এগিয়ে গিয়ে ফোনের রিসিভার তুলে নিল এজেন্ট।
এখানে আমাদের জিম গেরহাটকে দরকার।
হোয়াইট হাউসের ফিজিকাল সিকিউরিটির চার্জে রয়েছে স্পেশাল এজেন্ট জিম। গেরহার্ট। লাঞ্চ ফেলে ছুটে এল সে। দেখল প্যাকেটটাকে ঘিরে চক্কর দিচ্ছে কুকুরটা। কিন্তু আমি তো কোনো ওয়্যারিং বা ডিটোনেশন ডিভাইস দেখছি না।
না, বোমা নয়, পোস্টাল সহকারী বলল।
ঠিক আছে, এসো খোলা যাক।
সিল্ক আবরণ সাবধানে ভোলা হলো। বেরিয়ে এল কালো চামড়ার একটা কেস। কেসের গায়ে কোনো চিহ্ন নেই, এমনকি মডেল নম্বর বা প্রস্তুতকারকের নাম পর্যন্ত নেই। কমবিনেশন লকের বদলে চাবি ঢোকানোর জন্য দুটো ফুটো রয়েছে। ফুটোর পাশে ইস্পাতের বোতামে চাপ দিতেই ক্লিক করে একজোড়া শব্দ হলো। সত্যি উন্মোচিত হবার মুহূর্ত উপস্থিত! সতর্ক হাসি ফুটল এজেন্টের মুখে। ঢাকনির দুই কোণে দুটো হাত রেখে ধীরে ধীরে ওপর দিকে তুলল সে। ঢাকনি ভোলা হয়েছে, ভেতরে কী রয়েছে সবাই ওরা দেখতে পেল।
জেসাস!
পোস্টাল সহকারী আঁতকে উঠে পেছন ফিরল। হোঁচট খেতে খেতে টয়লেটের দিকে ছুটল সে নাকে-মুখে হাত চাপা দিয়ে রেখেছে যাতে বমি না করে ফেলে।
ওহ্, গড! রুদ্ধশ্বাসে বলল গেরহার্ট। সশব্দে ঢাকনিটা বন্ধ করে দিল সে। রক্তশূন্য চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এজেন্টের দিকে তাকাল।
এক্ষুনি এটাকে জর্জ ওয়াশিংটন হাসপাতালে পাঠিয়ে দাও।
আসল জিনিস, নাকি এর মধ্যে কোনো চাতুরি আছে? রুদ্ধশ্বাসে জিজ্ঞেস করল এজেন্ট।
আসল জিনিস, গম্ভীর সুরে বলল গেরহার্ট।
.
হোয়াইট হাউসে তার নিজের অফিসে রয়েছেন ডেইল নিকোলাস, এবার নিয়ে তিনবার পড়া শেষ করলেন ফোল্ডারটা। এটা তাঁর কাছে পাঠিয়েছেন ল্যাটিন আমেরিকা বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সিনিয়র ডিরেক্টরদের একজন, আরমান্দো লোপেজ।
ডেইল নিকোলাস ইউনিভার্সিটিতে পড়াচ্ছিলেন, প্রেসিডেন্ট বারবার অনুরোধ করায় হোয়াইট হাউসে তার বিশেষ অ্যাসিস্ট্যান্ট হতে হয়েছে ভদ্রলোককে। অনিচ্ছার সাথে দায়িত্বটা গ্রহণ করলেও, কাজ শুরু করার পর তিনি আবিষ্কার করেছেন যে হোয়াইট হাউসের আমলাদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানোর দুর্লভ একটা প্রতিভা এত দিন সুপ্ত ছিল তার ভেতর।
তাঁর কফি-ব্রাউন রঙের চুল মাথার ঠিক মাঝখানে দুভাগ করা। চশমার কাঁচ গোল আর ছোট, তারের ফ্রেম। হাতের কাজটি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বিষয়ে মাথা ঘামাতে অভ্যস্ত নন তিনি। ভদ্রলোক পাইপ টানেন, তবে বন্ধুবর শিলারের সাথে দেখা হলেই প্রতিজ্ঞা করেন, ধূমপান তারা দু’জন একসাথে ছেড়ে দেবেন। যদিও ছাড়ার কোনো চেষ্টা দু’জনের কারও মধ্যেই দেখা যায় না।
ফোল্ডারে মেক্সিকান সংবাদপত্রের প্রচুর কাটিং রয়েছে। সেগুলোর ওপর আবার চোখ বুলাতে শুরু করলেন ডেইল নিকোলাস, পড়তে পড়তেই পাইপে আগুন ধরালেন। ফোল্ডারের বিষয় একটাই।
টপিটজিন।
মেক্সিকান সাংবাদিকরা তার সাক্ষাৎকার নিতে পারলেও আমেরিকান সাংবাদিক বা সরকারি প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি সে। দেহরক্ষীদের তৈরি পাঁচিল ভেদ করে কেউ তারা তার সামনে পৌঁছতে পারেনি।
