পিটের থম্পসন থেকে বেরিয়ে গেল শেষ কান্ট্রিজটা, হঠাৎ উদয় হয়ে একজন আরবের মুখের ওপর সেটা ছুঁড়ে মারল ও কোমর থেকে ছোঁ দিয়ে কোল্ট অটোমেটিকটা হাতে নিল ও, ধোয়ার ভেতর একটা মুখ দেখতে পেলেই ট্রিগার টানল।
ঘাড়ের গোড়ায় তীব্র চুলকানির একটা অনুভূতি হলো, বুঝল আহত হয়েছে ও। দেখতে দেখতে খালি হয়ে গেল কোল্ট, সেটা উল্টো করে ধরে সামনে যাকেই দেখল তারই মুখ আর মাথা লক্ষ্য করে বাড়ি মারল। পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেতে শুরু করেছে।
পিটের মনে হলো, ঘটনাটা যেন বাস্তবে ঘটছে না। এভাবে মানুষ সম্ভবত শুধু দুঃস্বপ্নের ভেতর লড়ে। একটা গ্রেনেড ফাটল, এত কাছে যে প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ল ও। ওর গায়ের ওপর ঢলে পড়ল এক লোক। নাকি একটা লাশ?,
স্টিলের একটা পাইপের সাথে মাথাটা ঠুকে গেছে পিটের। মগজের ভেতর যেন আগুন জ্বলে উঠল। খালি কোটার খোঁজে মেঝে হাতড়াচ্ছে ও, তারপর কী ঘটল জানে না।
.
৬১.
খনি আর বিল্ডিংগুলো থেকে খানিক দূরে পাহাড়ের মতো উঁচু হয়ে আছে অসংখ্য ওর স্তূপ; ল্যান্ড করার পর এক জায়গায় জড়ো হলো স্পেশাল ফোর্সের লোকজন, তারপর ছড়িয়ে পড়ে পজিশন নিল স্তূপগুলোর আড়ালে। খানিটাকে চারদিকে ঘিরে থাকল স্নাইপাররা, ঢালের গায়ে শুয়ে চোখ রাখল যে-যার স্কোপে।
কর্নেল হোলিস, পাশে জন ডিলিঞ্জার, একটা স্কুপের মাথায় উঠে এসে উঁকি দিয়ে সামনে তাকাল।
গোলাগুলি থেকে গেছে। শেষ সারির তিনটে বিল্ডিংয়ে আগুন জ্বলছে, নিচু মেঘে গিয়ে মিশছে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীগুলো। ক্রাশিং মিলটাকে পরিষ্কার দেখতে পেল ওরা। মিলের সামনের রাস্তায় অনেকগুলো লাশ পড়ে রয়েছে। মনে মনে গুনল জন ডিলিঞ্জার, বলল রাস্তাতেই শুধু চারটা লাশ দেখতে পাচ্ছি।
খারাপ কিছু ভাবতে চাই না, বিড়বিড় করল কর্নেল। তবে দেখে আমার ভালো মনে হচ্ছে না।
প্রাণের কোনো চিহ্ন নেই, সায় দিল জন ডিলিঞ্জার, তার চোখে শক্তিশালী বাইনোকুলার।
সতর্ক চোখে আরও পাঁচ সেকেন্ড বিল্ডিংগুলো পরীক্ষা করল কর্নেল, তারপর ট্রান্সমিটারে কথা বলল, ঠিক আছে, বুঝে-শুনে পা পেলে এগোনো যেতে পারে।
এক মিনিট, কর্নেল, যান্ত্রিক একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এল রিসিভারে।
হোল্ড দি অর্ডার, তাড়াতাড়ি বলল কর্নেল।
সার্জেন্ট বেকার বলছি, স্যার-ডান দিকের পজিশন থেকে। রেললাইন ধরে পাঁচজন লোককে এগিয়ে আতে দেখছি আমি।
সশস্ত্র?
না, স্যার! মাথার ওপর হাত তুলে।
ভেরি গুড। তোমার লোকদের নিয়ে ঘিরে ফেলো ওদের। ফাঁদ কি না লক্ষ রেখো। জন ডিলিঞ্জারকে নিয়ে আসছি আমি।
ওর স্তূপ থেকে নেমে রেললাইনে চলে এল ওরা, লাইন ধরে খাড়ির দিকে ছুটল। সত্তর মিটারের মতো ঘোটর পর দেখল, বৃষ্টির ভেতর লোকজনের ছোট্ট একটা ভিড় ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।
ভিড়টা থেকে বেরিয়ে এসে রিপোর্ট করল সার্জেন্ট বেকার।
চারজন জিম্মি ও একজন আতঙ্কবাদীকে আমরা বন্দি করেছি, কর্নেল।
জিম্মিদের উদ্ধার করেছ? নিজের অজান্তেই চিত্ত র করে উঠল কর্নেল। চারজনকেই?
জি, স্যার, জবাব দিল সার্জেন্ট বাট। ওঁরা খুব ক্লান্ত, তাছাড়া বহাল তবিয়তেই আছেন সবাই।
নাইস ওঅর্ক, সার্জেন্ট! খুশিতে বেকারের সাথে সজোরে করমর্দন করল কর্নেল, ব্যথা হজম করে হাসতে লাগল লোকটা।
অফিসাররা দু’জন প্রেসিডেন্ট, মার্কিন প্রেসিডেন্টর বিশেষ বন্ধু সিনেটর পিট ও জাতিসংঘ মহাসচিব হে’লা কামিলের ফটো দেখেছে, ভার্জিনিয়া থেকে রওনা হবার আগেই। ব্যাকুল চেহারা নিয়ে হনহন করে এগোল তারা। লেডি ফ্ল্যামবোরোর ভিআইপি প্যাসেঞ্জারদের চিনতে পেরে আনন্দে নাচতে ইচ্ছে করল ওদের।
পরম স্বস্তিবোধ বিস্ময়ে পরিণত হলো যখন তারা জানতে পারল যে বন্দি আতঙ্কবাদী লোকটা আর কেউ নয়, তাদের পরিচিত নামার সদস্য রুডি গান।
এগিয়ে এসে কর্নেলের কাঁধে একটা হাত রাখলেন সিনেটর পিট। অবাক হয়ে বললেন, তোমাকে দেখে যে কী ভালো লাগছে!
দুঃখিত, দেরি করে ফেলেছি। তোতলে বললেন কর্নেল।
এগিয়ে এলেন হে’লা কামিল, কর্নেলকে আলিঙ্গ করলেন তিনি, তার পর প্রেসিডেন্ট হাসান ও প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জোও আলিঙ্গন করলেন। এরপর রুডিকে আলিঙ্গন করার পালা, পাকা টমেটোর মতো লাল হয়ে উঠল সে।
আমাকে বলবেন, এখানে মূলত অবস্থাটা কী? রুডিকে জিজ্ঞেস করল কর্নেল।
খোঁচা দেওয়ার সুযোগটা ছাড়ল না রুডি। আপনি আমাদেরকে কঠিন একটা বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন, কর্নেল হোলিস। খনিতে প্রায় বিশজন আতঙ্কবাদীকে দেখতে পাই আমরা, সাথে ছিল দ্বীপ থেকে পালানোর জন্য লুকানো একটা হেলিকপ্টার। কমিউনিকেশন সিস্টেমের সাথে গেঁথে নিতে আমাদেরকে আপনি যোগ্য মনে করেননি, কাজেই ছুটন্ত একটা ট্রেন পাঠিয়ে আপনাদেরকে সতর্ক করার চেষ্টা করে পিট।
মাথা ঝাঁকালো জন ডিলিঞ্জার। হেলিকপ্টারটাই ব্যাখ্যা করছে, মিসরীয়রা জাহাজ ছেড়ে কেন বেরিয়ে আছে।
ট্রেনটাকে নিয়ে যাবার জন্য লোক পাঠিয়েছিল ওরা, বলল রুডি। হেলিকপ্টারের কাছে পৌঁছানোর জন্য।
কর্নেল জানতে চাইল, আর সবাই কোথায়?
শেষ ওদের আমি দেখেছি ক্রাশিং মিলের ভেতর, বলল রুডিক্লিফ। জিম্মিদের সাথে মাত্র দু’জন গার্ড আছে দেখে পিটই তো আমাকে পাঠাল ওঁদেরকে উদ্ধার করার জন্য। ওরা তখন আতঙ্কবাদীদের সাথে গুলি বিনিময় করছিল।
