আঁচড়ের দাগ পর্যন্ত পড়েনি কোথাও, বলল পিট। তোমার পাইলটরাও বহাল তবিয়তে আছে, অন্তত ফ্লাই করতে পারবে।
অস্ত্র ফেলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করাই হবে আপনাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।
কাঁধ ঝাঁকালো পিট। যাও, পাহাড়ের মাথা থেকে লাফ দাও।
পিটের দিকে তির্যকদৃষ্টিতে তাকাল সুলেমান আজিজ। আপনারা কজন? চার, সম্ভবত পাঁচজন? আপনাদের একজনের সমান আমাদের আটজন।
মুচকি হেসে পিট বলল, আর আমাদের হেলিকপ্টারের সমান?
ওটা আমাদের
দখল নিতে পারলে, বলল পিট। ভালো কথা, ওটা অক্ষতই থাকবে। কিন্তু
কী?..
কিন্তু যদি জিম্মিদের কারও সামান্যতম কোনো ক্ষতি হয়, এক্সপ্লোসিভ দিয়ে ওরা আমি উড়িয়ে দেব।
এই আপনার শেষ কথা?
আপাতত, হ্যাঁ।
হঠাৎ কী যেন উপলব্ধি করে প্রায় চমকে উঠল সুলেমান আজিজ। আপনি! হ্যাঁ, নির্ঘাত আপনি। আপনিই তাহলে আমেরিকান স্পেশাল ফোর্সকে পথ দেখিয়ে এখানে এনেছেন।
বেশির ভাগ কৃতিত্ব ভাগ্যের, বলল পিট। তবে পানির তলায় জেনারেল ব্রাভো আর প্লাস্টিকের রোলটা আমিই খুঁজে বের করি। তারপর খাপে খাপে মিলে যায় সব।
পিটের দিকে আচ্ছন্ন দৃষ্টিতে এক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকল সুলেমান আজিজ, তারপর নিচু গলায় বলল সে, আপনার মেধা আপনি অপচয় করছেন, মি. পিট। নিজের মূল্য সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা নেই। বলেন তো আমি একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করতে পারি।
পারো নাকি?
আমার সাথে হাত মেলান, প্রস্তাব দিল সুলেমান আজিজ। মধ্যপ্রাচ্যের রাজা বানিয়ে দেব আপনাকে। আপনার মতো সাহসী ও বুদ্ধিমান লোক ইচ্ছে করলে দারুণ কিছু করতে পারে।
হেসে উঠল পিট। মিথ্যে প্রলোভন দেখাচ্ছ?
আপনি জানেন, মি, পিট, চোখ সরু করে পিটের দিকে তাকাল সুলেমান আজিজ, তার ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেছে, আপনাকে আমি নিজের হাতে খুন করতে যাচ্ছি? পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি, বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে আপনার শরীর। এ ব্যাপারে কী বলার আছে আপনার?
পিটের দৃষ্টি বা চোখে কোনো আক্রোশ নেই, চেহারায় ঘৃণার ভাবও ফুটল না। সকৌতুক তাচ্ছিল্যের সাথে সুলেমান আজিজের দিকে তাকিয়ে থাকল ও। ছোট্ট করে বলল, আমি যা জানি তুমি তা জানো না।
রাগের সাথে শান্তির পতাকা ছুঁড়ে ফেলে দিল সুলেমান আজিজ, ঝট করে ঘুরে হন হন করে ফিরে চলল সে, কোটের ভেতর পকেট থেকে রুগার পি-85 সেমি অটোমেটিক নাইন-মিলিমিটার বেরিয়ে এসেছে হাতে।
বিদ্যুৎবেগে ঘুরল সে, একটানে মুখোশ খুলে দুহাতে বাগিয়ে ধরল রুগার, পিটের পিঠের ওপর মাজল সিধে হতেই পরপর ছটা গুলি করল।
পিটের পিঠের ওপর স্কি জ্যাকেটে এক ঝাক গর্ত সৃষ্টি হতে দেখল সে, দেখল তার ঘৃণিত প্রতিপক্ষ হোঁচট খেয়ে ক্রাশিং মিলের দিকে এগোল, বাড়ি খেল দেয়ালে।
পিটের পড়ার অপেক্ষায় থাকল সুলেমান আজিজ। সে জানে, মাটিতে পড়ার আগেই মারা গেছে শত্রু।
৬০. যেমন হওয়া উচিত
৬০.
ধীরে সুলেমান আজিজ বুঝতে পারল, যেমন হওয়া উচিত, কোনো যেন ঘটনাবলি তেমন করে ঘটছে না।
পিট মারা যায়নি। এমনকি পড়েওনি। ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল ও।
এর মুখে খোদ শয়তানের হাসি দেখতে পেল সুলেমান আজিজ।
বিস্ময়ে স্তম্ভিত সে। বুঝতে পারল, আজকের প্রতিযোগিতায় হার হয়েছে তার। ওকে যে পেছন থেকে কাপুরুষের মতো আক্রমণ করা হবে, আগেই আন্দাজ করেছিল পিট। মোটা স্কি জ্যাকেটের ভেতর বুলেটপ্রুফ শিল্ড পরে ক্রাশিং মিল থেকে বেরিয়েছে ও।
আতঙ্কের একটা ঢেউ বয়ে গেল সুলেমান আজিজের সারা শরীরে, দেখল আস্তিনের বাইরে ঝুলতে থাকা দস্তানা পরা হাত দুটো কৃত্রিম। জাদুকরের হাত সাফাই। আসল হাতের একটা বেরিয়ে এল জ্যাকেটের ভেতর থেকে, বড় কোল্ট ফরটিফাইভ অটোমেটিক নিয়ে।
আবার পিটের লক্ষ্যস্থির করল সুলেমান আজিজ। তবে আগে গুলি করল পিট।
পিটের প্রথম গুলিটা সুলেমান আজিজের কাঁধে লাগল, আড়াআড়িভাবে ঘুরিয়ে দিল তাকে। দ্বিতীয় বুলেট চোয়াল আর মুখের নিচের অংশ গুঁড়িয়ে দিল। মুখে একটা হাত তুলতেই তৃতীয় বুলেট চুরমার করে দিল কবজিটাকে। শেষ বুলেটটা মুখের একদিক দিয়ে ঢুকে আরেক দিক দিয়ে বেরিয়ে গেল।
কাঁকরের ওপর একটা গড়ান দিয়ে চিৎ হলো সুলেমান আজিজ। শরীরে গুলির বর্ষণ সম্পর্কে সচেতন নয়, জানে না তার লোজন ফায়ার ওপেন করার আগেই অক্ষত অবস্থায় লাফ দিয়ে দরজা টপকে ক্রাশিং মিলের ভেতর অদৃশ্য হয়ে গেছে পিট।
আবছাভাবে শুধু বুঝতে পারল, টেনে-হিঁচড়ে তাকে একটা পানির ট্যাংকের পেছনে সরিয়ে নিয়ে এসেছে ইবনে। ক্রাশিং মিলের জানালা থেকে গুলিবর্ষণ হচ্ছে। ধীরে ধীরে একটা হাত তুলে ইবনের লোহার মতো শক্ত কাঁধ আঁকড়ে ধরল সুলেমান আজিজ। নিচের দিতে টেনে আনল বিশ্বস্ত ভক্তকে।
তোমাকে আমি দেখতে পাচ্ছি না, কর্কশকণ্ঠে বলল সুলেমান আজিজ, ধমকের সুরে।
কোমরের বেল্ট থেকে একটা প্যাকেট বের করল ইবনে, প্যাকেট থেকে বেরোল সার্জিক্যাল প্যাড। এক সময় যেখানে চোখ ছিল সুলেমান আজিজের, প্যাডটা সেখানে, গর্তের ভেতর বসিয়ে বেঁধে দিল। আল্লাহ আর আমি আপনার হয়ে দেখবো, জনাব। সান্ত্বনা দিল ইবনে।
কাশল সুলেমান আজিজ, গলার ভেতর থেকে ছলকে বেরিয়ে এল খানিকটা রক্ত। আমি চাই ওই শয়তান, ডার্ক পিট, আর জিম্মিদের সবাইকে কেটে টুকরো টুকরো করা থোক।
