গ্রেনেডের কথা আগে ভাবা উচিত ছিল আমার, তিক্ত কণ্ঠে বলল পিট। মুখ তুলে দিকে তাকাল ও। বাইরে ওরা কী করছে?
সামনে থেকে আর হামলা করবে না, বলল জিওর্দিনো। বিস্ফোরণে ভেঙে গেছে বাইরের সিঁড়ি, ভাঙা বাঁশ বেয়ে দশ ফুট উঠতে সাহস করবে না ওরা।
ফিনলে বলল, এই সুযোগ, হেলিকপ্টারে আগুন ধরিয়ে দিয়ে চলুন আমরা কেটে পড়ি।
দুঃসংবাদ, একটা মই বেয়ে মেঝেতে নেমে এল রুডি। দাবাগ্নির মতো ছুটে আসছে ওদের আরও বিশজন লোক, রেললাইন ধরে। সাত থেকে আট মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবে।
চোখে সন্দেহ নিয়ে রুডিক্লিফের দিকে তাকাল জিওর্দিনো। কতজন বললে?
পনেরোর পর আর গুনিনি।
লেজ গুটিয়ে পালানোর এখনই সময়, বিড়বিড় করল ফিনলে।
কর্নেল তার দলবল নিয়ে আসছে না? জিজ্ঞেস করল পিট।
ক্লান্ত ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল রুডি। ওদের কোনো খবর নেই।
বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলার জন্য থামল সে, তারপর সরাসরি পিটের দিকে তাকাল। লোকগুলো সন্ত্রাসবাদীদের রি-ইনফোর্সমেন্ট, পিট। পাহারা দিয়ে নিয়ে আসছে চারজন জিম্মিকে, রিনকিউলার থাকায় কোনো রকমে চিনতে পেরেছি। একজন তোমার বাবা। তিনি আর একজন ভদ্রমহিলা বাকি দু’জনকে হাঁটতে সাহায্য করছেন।
হে’লা কামিল। স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল পিট। থাঙ্ক গড! বাবা বেঁচে আছে!
বাকি দু’জন? প্রশ্ন করল জিওর্দিনো।
সম্ভবত প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো আর প্রেসিডেন্ট হাসান।
আমার কাজ শেষ, পট্টি বাঁধা শেষ করে সিঁধে হলো ফিনলে। আবার গ্রেনেড ফাটলে খবর দেবেন আমাকে।
ওঁদের বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে বীমা হিসেবে, বলল পিট। ওঁদের মুক্তির বিনিময়ে হেলিকপ্টার ফেরত চাইবে সন্ত্রাসবাদীরা।
হেলিকপ্টার যদি না দিই, একজন একজন করে খুন করবে জিম্মিদের, নিচু গলায় মন্তব্য করল রুডি।
কোনো সন্দেহ নেই, বলল পিট। তবে হেলিকপ্টার পেলেও যে খুন করবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এর আগে দুবার তারা হে’লা কামিলকে খুন করার চেষ্টা করেছে। প্রেসিডেন্ট হাসানকেও মেরে ফেলার ইচ্ছে ওদের।
আমার ধারণা, ওরা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়ে বসবে, এসো আলোচনায় বসি।
হাতঘড়ি দেখল পিট। দর কষাকষিতে খুব বেশি সময় নষ্ট করবে না ওরা। জানে, স্পেশাল ফোর্স পৌঁছে যেতে পারে। তবু, খানিকটা দেরি করাতে পারব আমরা।
তুমি একটা প্ল্যান দাও, অনুরোধ করল জিওর্দিনো।
যতক্ষণ পারা যায় আমরা লড়ব। রুডির দিকে তাকাল পিট। জিম্মিদের কি ওরা ঘিরে রেখেছে।
না, হাইজ্যাকারদের অন্তত দুশো মিটার পেছনে রয়েছেন ওঁরা, দু’জন গার্ড পাহারা দিয়ে নিয়ে আসছে।
পিটের কালো চোখে কিসের যেন ইঙ্গিত দেখতে পেল রুডি, মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিল ওকে। তুমি চাও গার্ড দু’জনের উপযুক্ত ব্যবস্থা করি আমি, স্পেশাল ফোর্স না পৌঁছুনো পর্যন্ত জিম্মিদের নিরাপদ কোথাও লুকিয়ে রাখি?
আমাদের মধ্যে তুমিই দেখতে সবচেয়ে ছোটখাটো, ছুটতেও পারো সবার চেয়ে জোরে। ওদের চোখে ধরা না পড়ে একমাত্র তোমার পক্ষেই ভবন থেকে বেরোনো সম্ভব। ঘুরপথে যাবে তুমি, তই না? গার্ড দু’জনের পেছনে পৌঁছুতে হলে।
হাত দুটো তুলে বুকে ভাঁজ করল রুডি। কৃতজ্ঞবোধ করছি, আমার ওপর তোমার এত আস্থা দেখে। পারব কি না জানি না, তবে চেষ্টা করব।
পারলে তুমিই পারবে, রুডি।
তার মানে দুর্গ রক্ষার জন্য তোমরা মাত্র তিনজন থাকছু।
তিনজনেই চালিয়ে নেব। আড়ষ্ট ভঙ্গিতে দাঁড়াল পিট, সামান্য খোঁড়াতে খোঁড়াতে মেঝেতে পড়ে থাকা আতঙ্কবাদীদের কাপড়গুলোর দিকে এগোল। ফিরে এসে রুডির দিকে বাড়িয়ে ধরল সেগুলো। পরে নাও, ওরা তোমাকে নিজেদের একজন মনে করবে।
অনড় দাঁড়িয়ে থাকল রুডি, বন্ধুদের ছেড়ে যেতে মন চাইছে না তার। তার ছোটোখাটো কাঁধে ভারী একটা হাত রাখলো জিওর্দিনো, হাঁটিয়ে নিয়ে এল একটা মেইন্টেন্যান্স প্যাসেজের সামনে, মেঝে থেকে নিচের দিকে নেমে গেছে সেটা, বিশাল ক্রাশিং মিলটাকে চারদিকে থেকে ঘিরে রেখেছে। এই পথ দিয়ে নেমে যেতে পারো তুমি, বলল জিওর্দিনো। পরিস্থিতি গরম না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, তারপর ছুটবে।
রুডি কিছু বলার আগেই টানেলের ভেতর তাকে অর্ধেকটা নামিয়ে দিল জিওর্দিনো। শেষবার পিটের দিকে তাকাল রুডি, যেন কোনো উপদেশ শুনতে চাইছে। অভয় দিয়ে হাসল পিট, হাত নাড়ল। মুখ খুলে দিকে তাকাল রুডিক্লিফ। উজ্জ্বল হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে আছে চেহারা, ঢাকা পড়ে গেছে সমস্ত উদ্বেগ। তালুতে চুমো খেয়ে হাতটা বাতাসে ছুঁড়ে দিল সে। সবশেষে ফিনলের দিকে তাকাল রুডি। সে-ও হাসছে। নুমরি এরা সবাই তার শুধু বন্ধু নয়, জীবনেরও অংশবিশেষ, জানে না আবার ওদেরকে জীবিত দেখার সুযোগ হবে কি না।
ফিরে এস যেন তোমাদের সব কটাকে এখানে আমি দেখতে পাই, চড়া গলায় বলল রুডি। কী বলছি বুঝতে পারছ?
পরমুহূর্তে টানেলের ভেতর অদৃশ্য হয়ে গেল সে।
.
৫৯.
তাড়াহুড়ো করে লেডি ফ্ল্যামবোরোর সুইমিংপুলের ওপর তৈরি করা হয়েছে ল্যান্ডিং প্যাডটা, অস্থিরভাবে সেটার পাশে পায়চারি করছে কর্নেল হোলিস। এইমাত্র একটা ক্যারিয়ার পিজিয়ন হেলিকপ্টার নামাল, তাতে চড়ার জন্য একপাশে অপেক্ষা করছে। কয়েকজন লোক।
খনির দিক থেকে নতুন করে গুলির আওয়াজ ভেসে আসছে শুনে মুহূর্তের জন্য পায়চারি থামালো কর্নেল, চিন্তার রেখা ফুটল কপালে।
