আমি হলে সময়টা দ্বিগুণ করে নিতাম, বলল জিওর্দিনো। দলের কেউ একজন কোনো ফাটলে পড়লে, দ্বিতীয় দলটার সাথে নির্দিষ্ট সময়ে মিলিত হতে পারবেন না। আপনাদের পৌঁছুতে দেরি হবে, ডাইভ দল তা জানতে পারবে না।
চেহারার বিরক্তি নিয়ে দিকে তাকাল কর্নেল। আমরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি না, মি. জিওর্দিনো। ইউনিফর্মের সাথে প্রত্যেকের কাছে একটা করে ছোট্ট রেডিও আছে, কানের সাথে ফিট করা, আর স্কি মাস্কের সাথে আছে মাইক্রোফোন। প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগ থাকবে আমাদের মধ্যে।
আরেকটা কথা, বলল পিট। আশা করি আপনাদের আগ্নেয়াস্ত্রে সাইলেন্সার লাগানো আছে?
আছে, বলল কর্নেল। কেন?
সাইলেন্সার না থাকলে মেশিনগানের একটা বিস্ফোরণেই গ্লেসিয়ারের পাঁচিলটা ভেঙে পড়বে।
হাইজ্যাকাররা কী করবে আমি জানি না।
তাহলে যত তাড়াতাড়ি পারেন, খুন করবেন ওদের, নিচু গলায় বলল জিওর্দিনো।
সন্ত্রাসবাদীদের বন্দি করার ট্রেনিং আমাদেরকে দেয়া হয়নি, নিষ্ঠুর ঠাণ্ডা হাসির সাথে বলল কর্নেল। এবার আমাদের অতিথিদের সমালোচনা যদি শেষ হয়ে থাকে, কারও কোনো প্রশ্ন আছে?
ডাইভ টিমের রিচার্ড বেনিং হাত তুলল। স্যার?
বেনিং?
জাহাজে পৌঁছাব আমরা কি পানির ওপর দিয়ে, নাকি তলা দিয়ে?
পয়েন্টার হিসেবে একটা বল পয়েন্ট পেন ব্যবহার করল কর্নেল। খাড়ির ছোট্ট একটা দ্বীপেরর ওপর টোকা দিল সে, জাহাজ থেকে দ্বীপটা দেখা যায় না। পিজিয়ন ক্যরিয়ার, এই দ্বীপে পৌঁছে দেবে আমাদেরকে। ওখান থেকে লেডি ফ্ল্যামবোরো তিন কিলোমিটার দূরে। পানি এত ঠাণ্ডা যে সাঁতার কাটা যাবে না, আমরা রাবার বোটে করে রওনা হব। ফ্রস্ট স্মোক যদি সত্যি থাকে,, সন্ত্রাসবাদীদের চোখে ধরা পড়ে পৌঁছাতে পারব, আর যদি না থাকে, জাহাজ দুশো মিটার দূরে থাকতে পানিতে নামতে হবে, সাঁতরে পৌঁছাতে হবে খোলের গায়ে।
অনেকেরই, মানে, বেশ কয়েক জোড়া বিচি বরফ হয়ে যাবে-প্রথম পার্টির জন্য খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলে।
অয়্যার হাউসে প্রায় আশি জন লোক জড় হয়েছে, সবাই হেসে ফেলল।
মুখে চওড়া হাসি নিয়ে কর্নেল হোলিস বলল, কাজেই সাবধান হওয়া দরকার মেজর ডিলিঞ্জার তার দল নিয়ে আগেই রওনা হয়ে যাবে।
একটা হাত তুলল রুডি।
ইয়েস, মি. রুডি, হালকা ব্যঙ্গের সুরে বলল কর্নেল। আপনি আবার কী বলতে চান? আমার কোথাও ভুল হয়েছে?
কৌতূহলের শিকার, কর্নেল। হামলা সম্পর্কে আগে-ভাগে যদি টের পেয়ে যায়, আমাদের জন্য যদি ফাঁদ পেতে অপেক্ষা করে-আপনি জানবেন কীভাবে?
আমাদের একটা এয়ারক্রাফটে অ্যাডভান্সড ইলেকট্রনিক সার্ভেইল্যান্স ইকু্যইমেন্ট আছে, লেডি ফ্ল্যামবোরোর সাত মাইল ওপরে চক্কর দেবে ওটা, এলাকার বাইরে সহযোগীদের কাছে সন্ত্রাসবাদীদের পাঠানো যেকোনো ট্রান্সমিশন ধরে ফেলবে। স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের একটা দল জাল ছোট করে আনছে টের পেলে হিস্টিরিয়াগ্রস্ত রোগীর মতো চেঁচাবে ওরা।
একটা আঙুল খাড়া করে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করল পিট।
ইয়েস, মি. পিট, বাঁকা হাসি নিয়ে তাকাল কর্নেল।
আশা করি আমাদের কথা, মানে নুমা পার্টির কথা আপনি ভুলে যাননি।
একটা ভ্রু উঁচু কল কর্নেল। না, ভুলিনি।
জিওলজিস্টের দিকে ফিরল সে। মি. ফিনলে, পুরনো খনিটা যেন কোথায়?
মডেলে ওটাকে আমি দেখাইনি, শান্ত গলায় বলল ফিনলে। তবে আপনার যখন জানার আগ্রহ…, থেকে ছোটো একটা পাথুর উত্থানের পাশে দিয়াশলাইয়ের একটা বাক্স রাখল সে, ওখান থেকে গ্লেসিয়ার আর খাড়ি দেখতে পাওয়া যায়। এখানে খনিটা, গ্লেসিয়ারের সামনের কিনারা আর জাহাজ থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে।
পিটের দিকে ফিরল কর্নেল। ওটাই আপনাদের উপযুক্ত জায়গা। আপনারা অবজারভেশন পোস্ট হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন।
আহা, কী আমার অবজারভেশন পোস্ট রে। গোমড়া মুখে বলল জিওর্দিনো। অন্ধকার, বৃষ্টি, ফ্রস্ট স্মোক-বিপদ থেকে দূরে, সান্ত্বনা দিয়ে বলল পিট। ইচ্ছে করলে ওখানে আমরা আগুন জ্বেলে পিকনিক করতে পারি।
আপনাদের জন্য সেটাই ভালো হবে, চেহারায় খানিকটা তপ্তি নিয়ে বলল কর্নেল। লোকজনদের ওপর চোখ বুলালো একবার। কথা বলে আর সময় নষ্ট করব না, চলো এবার, কিছু লোকের প্রাণ বাঁচানো যাক।
হ্যাঁ, বিশেষ করে প্রাণ বাঁচানোর একক এজেন্সি যখন পেয়ে গেছেন, বিড়বিড় করল জিওর্দিনো।
কী বললেন?
জিওর্দিনো বলছে, এলাইড ফোর্সের একজন হতে পারা ভারি সৌভাগ্যের ব্যাপার, বলল পিট।
জিওর্দিনোর দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকাল কর্নেল, দু’জন যেন জন্মশত্রু। স্পেশাল অপারেশন ফোর্স কাউকে অনারারি সদস্যপদ দেয় না। আপনারা সিভিলিয়ানা, আমাদের থেকে দূরে সরে থাকবেন। ঝট করে ডিলিঞ্জারের দিকে ফিরল মরটন হোলিস। আমার অনুমতি না পেয়ে মার কোনো লোক যদি লেডি ফ্ল্যামবোরোর পা ফেলতে চেষ্টা করে, গুলি করবে। দ্যাটস অ্যান অর্ডার।
আ প্লেজার! ক্ষুধার্ত হাঙরের মতো হাসল জন ডিলিঞ্জার।
কাঁধ ঝাঁকাল জিওর্দিনো। ঘৃণা ছড়াতে এরা দেখছি সাংঘাতিক পটু।
পিট কিন্তু জিওর্দিনোর মতো মেজাজ গরম করল না। কর্নেল হোলিসের মনোভাব পরিষ্কার উপলব্ধি করল ও। কর্নেলের লোকেরা প্রফেশনাল, একটা দল। আরেকবার সবার ওপর চোখ বুলালো ও। একহারা গড়নের দীর্ঘদেহী যুবক তারা, কারও বয়স পঁচিশের বেশি নয়, প্রত্যেকের চেহারায় দৃঢ়প্রত্যয় আর সংকল্পের ছাপ। একটা প্রশ্ন নাছোড়বান্দার মতো বারবার উদয় হলো পিটের মনে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এদের মধ্যে কে কে মারা পড়বে।
