আমি পারব, পিটকে বাধা দিল কর্নেল হোলিস। ভিআইপি প্যাসেঞ্জারদের হাইজ্যাক করার নির্দেশ দিয়েছে মিসরের ধর্মীয় নেতা আখমত ইয়াজিদ। সেই আবার ঘোষণা করেছে, নিজের প্রাণ দিয়ে হলেও প্রেসিডেন্ট হাসান, মহাসচিব হে’লা কামিল, সিনেটর পিট ও বাকি সবাইকে সন্ত্রাসবাদীদের কবল থেকে রক্ষা করবে। সন্ত্রাসবাদীদের সাথে যোগাযোগ, আলোচনা ইত্যাদি অজুহাত দেখিয়ে সময় নিচ্ছে সে, এই সুযোগে সেনাবাহিনীর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে, গুছিয়ে নিচ্ছে নিজের ক্ষমতা, উন্মাদ ভক্তদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিচ্ছে, যাতে সময় সময় হলেই সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করতে পারে। হঠাৎ সে ঘোষণা করবে, জাহাজটার নিয়ন্ত্রণ এখন তার হাতে, তার লোকেরা উদ্ধার করছে প্যাসেঞ্জার আর ক্রুদের।
চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে তার প্রশংসা, রুডি বলল। সবাই জানবে আখমত ইয়াজিদ একজন মহৎপ্রাণ মানুষ।
মিসরে ফেরার পথে প্রেসিডেন্ট হাসান ও হে’লা কামিল যাতে একটা দুর্ঘটনায় পড়ে মারা যান, সে ব্যবস্থাও করবে আখমত ইয়াজিদ।
বাহ্ কী চমৎকার! দাঁতে দাঁত চাপল জিওর্দিনো। সাপও মরল, লাঠিও ভাঙল না।
প্ল্যানটা সত্যি ভালো, বলল পিট! তবে, সামরিক বাহিনী এখনও নিরপেক্ষ ভূমিকা থেকে নড়েনি। মন্ত্রিসভাও পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মাথা ঝাঁকাল কর্নেল। হ্যাঁ, ইয়াজিদের এত সাধের প্ল্যান ব্যর্থ করে দিচ্ছে ওরা। কাজেই, প্ল্যানটা যাওয়ায়, কোণঠাসা হয়ে পড়েছে আখমত ইয়াজিদ। সময়ক্ষেপণের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে সে, পরিচয় গোপন রাখা অসম্ভব হয়ে উঠেছে, এবার তাতে সত্যি সত্যি লেডি ফ্ল্যামবোরোকে গায়েব করে দিতে হবে, তার না হলে ইন্টেলিজেন্স সোসগুলো জেনে ফেলবে হাইজ্যাকিংয়ের পেছনের লোকটি কে।
তার মানে আমরা এখানে কথার মালা তৈরি করছি, আর সন্ত্রাসবাদীদের নেতা গ্লেসিয়ারের সাথে রাশিয়ান রুলে খেলছে, তিক্ত গলায় বলল জিওর্দিনো। কে জানে, ইতিমধ্যে হয়তো সে তার লোকদের নিয়ে জাহাজ ত্যাগ করেছে বোট বা হেলিকপ্টরে চড়ে। অসহায় প্যাসেঞ্জার আর কুরা বন্দি হয়ে আছে জাহাজের ভেতর।
হতে পারে, অসম্ভব নয়, স্নান গলায় বলল জন ডিলিঞ্জার। বোটটাকে আমরা হয়তো দেখতে পাইনি।
কর্নেল ব্যাপারটাকে আরেক দৃষ্টিতে দেখছে। কাগজে একটা নম্বর লিখে স্কিপারের হাতে গুঁজে দিল সে। ক্যাপটেন, এই ফ্রিকোয়েন্সিতে আমার কমিউনিকেশন অফিসারের সাথে যোগাযোগ করুন, প্লিজ। বলুন, আমি আর আমার মেজর এয়ারফিল্ডে ফিরে যাচ্ছি। সবাইকে জড় করতে বলুন, আমি ফিরেই ব্রিফিং করব ওদেরকে।
আমরাও আপনার সাথে যাচ্ছি, শান্ত প্রত্যয়ের সাথে বলল পিট।
মাথা নাড়ল কর্নেল মরটন হোলিস। সম্ভব নয়। আপনারা অ্যাসল্ট ট্রেনিং পান নি। সিভিলিয়ান। এ ধরনের অনুরোধ করাই আপনার বোকামি হয়ে গেছে।
লেডি ফ্ল্যামবোরোয় আমার বাবা রয়েছেন।
আমি দুঃখিত, বলল কর্নেল।
ঠাণ্ডা চোখে কর্নেল হোলিসের দিকে তাকাল পিট। ওয়াশিংটনে স্রেফ একটা ফোন করে আপনার পুরো ক্যারিয়ারের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারি আমি।
কর্নেলের চেহারা শক্ত হলো। আপনি আমাকে হুমকি দিতে সাহস করেন, মি, পিট? পিটের দিকে এক পা সামনে বাড়ল সে। এই অপারেশনে আগামী বারো ঘণ্টার মধ্যে চল্লিশটা লাশ পড়তে যাচ্ছে। আমি আর আমার লোকজন যেভাবে ট্রেনিং পেয়েছি, কাজটা যদি সেভাবে করি, হোয়াইট হাউস বা কংগ্রেসে এক হাজার টেলিফোন করলেও আমার কিছু হবে না। পিটের দিকে আরও এক পা এগোল সে। সারাজীবনে আপনি যত চালাকি শিখবেন, তার চেয়ে অনেক বেশি শেখা আছে আমার। ইচ্ছে করলে এই মুহূর্তে আপনাকে আমি খালি হাতে ছিঁড়ে টুকরো টুকরা করে ফেলতে পারি।
আলোর একটা ঝলকের মতো বিদ্যুৎ খেলে গেল পিটের শরীরে।
নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে পিট, হাতে একটা কোল্ট ফরটি ফাইভ অটোমেটিক, কর্নেলের দুই উরুর মাঝখানে তাক করা। শুধু যে উঠতে চেষ্টা করলে তা নয়, বলল ও, সম্পূর্ণ শান্ত ভঙ্গিতে আমার প্রস্তাব না মানলেও গুলি করব।
সামনের দিকে ঝুঁকে লাফ দেয়ার ভঙ্গিতে স্থির হয়ে রয়েছে জন ডিলিঞ্জার, লাফ দেয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে তার ঘাড়ের ওপর পিস্তল চেপে ধরেছে জিওর্দিনো।
বেশি কথা বলে সময় নষ্ট করব না, বলল পিট। শুধু জেনে রাখুন, আমরা তিনজন বন্দুকযুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করতে জানি। কথা দিচ্ছি, আপনাদের কাজে আমরা নাক গলাব না। আপনারা সম্ভবত লেডি ফ্ল্যামবোরোর ওপর হামলা করবেন আকাশ ও সাগর থেকে। দুটোই এড়িয়ে যাব আমরা, জাহাজে পৌঁছাব জমিন ধরে।
চোখ পিটপিট করল কর্নেল।
ডার্ক আসলে খুব কম চাইছে আপনার কাছে, রুডির বলার সুরে সহিষ্ণুতা প্রকাশ পেল। আমার পরামর্শ যদি গ্রহণ করেন, ওর প্রস্তাবটা মেনে নিয়ে বাকি সম্মানটুকু বাঁচান।
মুখ খুলল কর্নেল, আমাকে আপনি গুলি করে মারবেন, এ আমি বিশ্বাস করি না।
না, তা মারব না, বলল পিট। তবে কথা দিতে পারি, দুই উরুর মাঝখানে তাক করা অটোমেটিক এক চুল নড়ল না, যৌন জীবন বলতে কিছু থাকবে না আপনার।
আসলে আপনার আসল পরিচয়টা কী বলুন তো? কোন কোম্পানি? সিআইএ
সিআইএ? হাসল জিওর্দিনো। উঁহু, পছন্দ করতে পারিনি। আমরা নুমার সদস্য।
মাথা নাড়ল কর্নেল। এ সবের আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
