বাসে বোমা মারার জন্য নিশ্চয়ই গর্দভ খালেদ ফৌজি দায়ী, খেঁকিয়ে উঠল সুলেমান আজিজ। সামরিক বাহিনী, তারা কী করতে চাইছে?
প্রেসিডেন্ট হাসান আর হে’লা কামিল মারা গেছেন বিশ্বাস করাতে হলে তাদের লাশ দেখাতে হবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবু হামিদকে, বলল ইবনে। তার আগে পর্যন্ত নিজের কোনো মতামত দিতে সে রাজি নয়।
তার মানে বিজয়ীর বেশে আবির্ভূত হতে এখনও দেরি আছে আখমত ইয়াজিদের।
মাথা ঝাঁকাল ইবনে তার চেহারা অস্বাভাবিক গম্ভীর হয়ে উঠল। খবর আরও একটা আছে, জনাব। আখমত ইয়াজিদ ঘোষণা করেছে, প্রমোদতরী ধ্বংস হয়নি, প্যাসেঞ্জার ও ক্রুরাও বহাল তবিয়তে বেঁচে আছে। সে প্রস্তাব দিয়েছে, আতঙ্কবাদীদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে সবাইকে মুক্ত করার চেষ্টা করবে। এতদূর গেছে সে, বলেছে, সিনেটর জর্জ পিটকে বাঁচাবার জন্য দরকার হলে নিজের জান পর্যন্ত কোরবান করতে দ্বিধা করবে না।
প্রথমে নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারল না সুলেমান আজিজ। তরপর প্রচণ্ড রাগে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ল সে। তার শরীর কাঁপতে লাগল। অবস্থা দেখে এক পা পিছিয়ে গেল ইবনে।
আল্লাহ আমাকে দিয়ে পাইকারি হত্যাকাণ্ড ঘটাতে চান। বিড়বিড় করে বলল সুলেমান আজিজ। ইবনের দিকে তাকাল সে। বুঝতে পারছ তো, আখমত ইয়াজিদ সরাসরি বেঈমানি করছে আমাদের সাথে।
সায় দিয়ে মাথা ঝাঁকাল ইবনে। আপনাকে ব্যবহার করেছে, উদ্দেশ্য হাসিল হবার পর এখন আপনাকে শেষ করার চেষ্টা করছে।
তাইতো বলি হাসান আর হে’লা কামিলকে খুন করার নির্দেশ দিতে এত কেন দেরি করছে সে! তোমাকে, আমাকে, আমাদের দলকে ম্যাকাডো খুন করবে, এই আশায় অপেক্ষা করছে আখমত ইয়াজিদ।
কিন্তু জনাব, জিম্মিদের বাঁচিয়ে রেখে আখমত ইয়াজিদ আর টপিটজিনের লাভ কী? অবাক হয়ে প্রশ্ন করল ইবনে।
দু’জন প্রেসিডেন্ট আর জাতিসংঘের মহাসচিবের ত্রাণকর্তা সেজে জগৎজোড়া সম্মান কুড়াতে চায় আখমত ইয়াজিদ। মৌলবাদী বলে, সন্ত্রাসের উৎস বলে তার যত দুর্নাম আছে, এই একটা চালাকি দিয়ে সব মুছে ফেলতে চায় সে। দেশে ও দেশের বাইরে তার জনপ্রিয়তা বেড়ে গেলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা দখল তখন। তাই আমাদের শকুনের খাবার বানাবার প্ল্যান করা হয়েছে।
এটা আখমত ইয়াজিদের অনেক পুরনো একটা প্ল্যান, বলল সুলেমান আজিজ। শুধু এটা নয়; আরও অনেক কুকাজ আমাদেরকে দিয়ে করিয়ে নিয়েছে সে। আমরা বেঁচে থাকলে সব ফাস হয়ে যেতে পারে।
আর ক্যাপটেন ম্যাকাডো ও তার মেক্সিকান ক্রুদের কপালে কী ঘটবে? আমাদের তারা খুন করল, তারপর?
ওদের ব্যাপারটা সামলাবে সম্ভত টপিটজিন। মেক্সিকোয় ফেরার পর স্রেফ গায়েব হয়ে যাবে তারা।
তার আগে আরও বিপদ আছে ওদের কপালে, মৃদুকণ্ঠে বলল ইবনে। মেক্সিকোয় ফেরার আগে জাহাজ থেকে পালাতে হবে ওদের।
হ্যাঁ। চিন্তিত দেখার সুলেমান আজিজকে। রাগের সাথের কমিউনিকেশন রুমে পায়চারি শুরু করল সে। আখমত ইয়াজিদকে আমি ছোট করে দেখেছি। তার চালাকি আমি আগে ভালো করে বুঝিনি। ম্যাকাডোকে আমি গ্রাহ্য করিনি, কারণ ধরে নিয়েছিলাম আজেন্টিনার নিরাপদ একটা এয়ারপোর্টে আমাদের পালাবার আয়োজন সম্পর্কে তার কিছু জানা নেই। এখন বুঝতে পারছি, আখমত ইয়াজিদকে ধন্যবাদ, মেক্সিকান আতঙ্কবাদী লিডারের নিজস্ব একটা প্ল্যান আছে কেটে পড়ার।
তাহলে এখনও সে আমাদেরকে খুন করেনি কেন?
জিম্মিদের মুক্ত করার ব্যাপারে আলোচনার ভান করছে আখমত ইয়াজিদ আর টপিটজিন, ওদিকটা পুরোপুরি না গুছিয়ে ম্যাকাডোকে তারা কাজ শেষ করার নির্দেশ দেবে না।
হঠাৎ ঘুরে গিয়ে রেডিওম্যানের কাঁধ খামচে ধরল সুলেমান আজিজ। আতঙ্কিত লোকটা তাড়াতাড়ি হেড ফোন খুলে ফেলল। লেডি ফ্ল্যামবোরোকে উদ্দেশ্য করে পাঠানো কোনো মেসেজ পেয়েছো তুমি?
আশ্চর্য! ঢোক গিলে বলল রেডিওম্যান। দশ মিনিট পর পর এসে একই প্রশ্ন করছে আমাদের ল্যাটিন বন্ধুরা। ওদের আমি গবেট ভাবছিলাম। যেকোন ডাইরেক্ট ট্রান্সমিশন ধরা পড়ে যাবে আমেরিকান-ইউরোপিয়ান ইন্টেলিজেন্স লিসনিং স্টেশনে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আমাদের পজিশন বের করে ফেলবে তারা।
রেডিও বন্ধ করে দাও, নির্দেশ দিল সুলেমান আজিজ। মেক্সিকানরা যেন দেখতে পায় তুমি তোমার শোনার কাজ ঠিকমতো করে যাচ্ছ। যখনই কোনো মেসেজ এসেছে কি না জিজ্ঞেস করবে, বলবে আসেনি।
আগ্রহের সাথে সুলেমান আজিজের দিকে গলাটা লম্বা করল ইবনে। আমাকে কি নির্দেশ দেবেন, জনাব?
মেক্সিকান ক্রুদের ওপর কড়া নজর রাখো। বন্ধুর মতো আচরণ করে অবাক করে দাও ওদের। লাউঞ্জ বার খুলে মদ খাবার জন্য ডাকো। কঠিন কাজগুলো আমাদের লোককে দাও, মেক্সিকানরা যাতে বিশ্রাম নিতে পারে। আমি চাই ওরা অসতর্ক অবস্থায় থাকুক।
ওরা আমাদের খুন করার আগে আমরা ওদেরকে খুন করব, চকচকে চোখে প্রত্যাশা নিয়ে জিজ্ঞেস করল ইবনে, জনাব?
না, বলল সুলেমান আজিজ, তার চেহারায় হিংস্র হাসি ফুটে উঠল। কাজটা আমরা ছেড়ে দেব গ্লেসিয়ারের ওপর।
.
৫১.
আইসবার্গের সংখ্যা ওখানে এক মিলিয়নের কম নয়, হতাশ সুরে বলল জিওর্দিনো। নির্দিষ্ট একটাকে খুঁজে বের করতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।
কর্নেল মরটন হোলিস বলল, লেডি ফ্ল্যামবোরার আকৃতির সাথে মিল পাওয়া যাবে। খুঁজতে থাকুন।
