ডুবে গেছে? বাধা দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন উপদেষ্টা।
নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না।
তাহলে কী বলতে পারছ?
বড় করে শ্বাস টানলেন মেজর জেনারেল। প্রেসিডেন্টকে জানান, প্লিজ, লেডি ফ্ল্যামবোরো আবার গায়েব হয়ে গেছে।
.
৪৭.
ছবি বা কোনো তথ্য বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছানোর জন্য মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে উপগ্রহের ব্যবহার ১৯৯০ সাল থেকেই বিশ্বব্যাপী প্রচলিত। খুঁটিনাটিসহ মুহূর্তের মধ্যে রঙিন ছবি পাঠানো যায় যেকোনো স্থানে।
দশ মিনিট পর, ওভাল অফিসে একটা ডেস্কের ওপর হুমড়ি খেয়ে সীস্যাট ইমেজটা দেখছেন প্রেসিডেন্ট ও ডেইল নিকোলাস।
এবার হয়তো সত্যি জাহাজটা ডুবে গেছে, বললেন ডেইল নিকোলাস, ক্লান্ত ও উদভ্রান্ত দেখাল তাকে।
আমি তা বিশ্বাস করতে রাজি নই, দৃঢ়কণ্ঠে বলেন প্রেসিডেন্ট, তার চেহারা রাগে লাল হয়ে আছে। পাল্টা ডেল এসটে পেরোবার পর জাহাজটাকে ধ্বংস করার সুযোগ পেয়েছিল কুরা, তা না করে জেনারেল ব্রাভোর পথ ধরে লেডি ফ্ল্যামবোরোকে নিয়ে পালিয়ে গেছে ওরা। এখন কেন ডোবাবে?
সাবমেরিনে করে পালায়নি তো?
সাউন্ডার থেকে কী বলা হয় শোনার জন্য অপেক্ষা করব আমি।
কিছুই যেন শুনছেন না প্রেসিডেন্ট। এই কাণ্ডটার পেছনে আমাদের অযোগ্যতা কম দায়ী নয়।
সত্যি, একেবারে অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরা খেয়ে গেছি আমরা, নিকোলাস বললেন।
জর্জ পিটের কাছে আমার অনেক দেনা, জানি না, কেমন করে নিজেকে ক্ষমা করব। দীর্ঘশ্বাস ফেললেন প্রেসিডেন্ট।
.
সি-১৪০ এই মুহূর্তে বলিভিয়ার ওপর দিয়ে উড়ছে। প্লেনের ভেতর সবাই খুব হতাশ। খানিক আগে লেয়ার রিসিভারের মাধ্যমে স্যাটেলাইট ইমেজ পৌঁছেছে, তাতে প্রমোদতরী লেডি ফ্ল্যামবোরোর চিহ্নমাত্র নেই।
গেল কোথায়! একাধারে বিস্ময় ও উষ্ম প্রকাশ পেল কর্নেল হোলিসের চেহারায়।
জন ডিলিঞ্জার শূন্য দৃষ্টিতে তাকাল। কোথাও নিশ্চয়ই আছে, একবারে নেই হয়ে যেতে পারে না।
তাই তো হয়েছে। নিজের চোখেই তো দেখতে পাচ্ছ।
টার্গেট যদি এভাবে লুকোচুরি খেলতে থাকে …, অসহায় ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বাক্যটা অসমাপ্ত রাখল জন ডিলিঞ্জার। আমার ধারণা, লেডি ফ্ল্যামবোয়রা ডুবে গেছে। ফটোয় ওটার না থাকার আর কোনো ব্যাখ্যা নেই।
চল্লিশজন একসাথে আত্মহত্যা করতে রাজি হয়েছে, এ আমি বিশ্বাস করতে পারি না।
এখন কী করা হবে?
রেডিনেস কমান্ড থেকে নির্দেশ চাওয়া ছাড়া আর তো কিছু ভেবে পাচ্ছি না আমি।
আমরা কি মিশন বাতিল করব? জিজ্ঞেস করল জন ডিলিঞ্জার।
নির্দেশ না পেলে করব না।
তার মানে যেমন যাচ্ছি যেতে থাকি।
হতাশ ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকাল কর্নেল মরটন হোলিস।
.
সবার শেষে জানল পিট। মড়ার মতো ঘুমাচ্ছে ও, কেবিনে ঢুকে ওর ঘুম ভাঙালো রুডি।
জ্যান্ত হও হে, ব্যস্ত সুরে বলল সে, জটিলতা দেখা দিয়েছে।
ঘুমে ভারী হয়ে থাকা একটা চোখ মেলে হাতঘড়ি দেখল পিট। কী ব্যাপার, পান্টা অ্যারেনাসে এক্ষুনি পৌঁছে গেলাম?
বন্দরে ঢুকতে আরও এক ঘণ্টা দেরি আছে….
তাহলে আর বিরক্ত কোরো না না, আরেকটু ঘুমিয়ে নিতে দাও, বলে পাশ ফিরে শুলো পিট।
গেট সিরিয়াস। গম্ভীর কন্ঠে বলল রুডি। জাহাজের রিসিভারে খানিক আগে লেটেস্ট স্যাটেলাইট ফটো এসেছে। আবার অদৃশ্য হয়েছে তোমার লেডি ফ্ল্যামবোরো।
সত্যি।
এটা কি ঠাট্টা করার বিষয়? এইমাত্র অ্যাডমিরালের সাথে কথা বলেছি আমি। হোয়াইট হাউস আর পেন্টাগনে মহা হৈচৈ বেধে গেছে। স্পেশাল ফোর্সের একটা দলকে পাঠানো হয়েছে, আশা- পরিষ্কার এরিয়াল ফটো পাওয়া যাবে।
পিট চোখ খুলল না, রুডির দিকে ফিরলও না। অ্যাডমিরালকে জিজ্ঞেস করে দেখো, বিশেষ সেই দল ল্যান্ড করার সাথে সাথে নেতা আর আমার মধ্যে একটা মিটিং হতে পারে কি না।
কী আশ্চর্য! অ্যাডমিরালের সাথে তুমি কেন কথা বলছ না?
এইজন্য যে আমি এখন ঘুমাব, বলে বিশাল একটা হাই তুলল পিট।
রুডি গান হতভম্ব। জাহাজটায় না তোমার বাবা আছেন? তোমার কিছু আসে যায় না?
হ্যাঁ, চিৎ হলো পিট, সিলিংয়ের দিকে তাকাল, আসে যায়। কিন্তু এই মুহূর্তে আমার কিছু করার আছে বলে তো মনে হচ্ছে না।
কাঁধ ঝাঁকিয়ে সিধে হলো রুডি, ভারী গলায় জিজ্ঞেস করল, অ্যাডমিরালকে আর কিছু বলতে হবে?
চাদর দিয়ে মাথা ঢাকতে যাচ্ছিল পিট, চোখ খুলে রুডির দিকে তাকাল। হ্যাঁ, একটা কথা ইচ্ছে হলে বলতে পারো তাঁকে। বলতে পারো, আমি জানি কীভাবে লেডি ফ্ল্যামবোয়রা অদৃশ্য হয়েছে। কোথায় ওটা লুকিয়েছে, তা-ও বেশ আন্দাজ করতে পারি।
কখাগুলো আর কেউ উচ্চারণ করলে রুডি তাকে চাপাবাজ ভাবত। পিটকে অবিশ্বাস করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। দু একটা ব্লু চাইলে কিছু মনে করবে?
চোখ বুজল পিট। তুমি তো এক ধরনের আর্ট কালেক্টর, তাই না, রুডি?
আমার অ্যাবস্ট্রাক্ট সংগ্রহ নিউ ইয়র্ক মিউজিয়াম অভ মডার্ন আর্ট-এর সাথে তুলনা করা যাবে না, তবে বন্ধুমহলে ওটারও খ্যাতি আছে। কৌতূহলে পিটের দিকে আবার ঝুঁকে পড়ল রুডি। আর্টের সাথে কী সম্পর্ক?
আমার যদি ভুল না হয়, খুব আয়োজন করে দাঁড় করানো একটা শিল্পকর্মের সাক্ষাৎ পাব আমরা অচিরেই।
সে শিল্পকর্ম আমি বুঝব?
ক্রিস্টো একজন বিখ্যাত শিল্পী তাই না? পাশ ফিরে শুলো পিট। তার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে একটা ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে।
