নক করে ভেতরে ঢুকল সেকেন্ড-ইন-কমান্ড, মেজর জন ডিলিঞ্জার। প্ল্যান তৈরি করছেন কর্নেল?
ছয়ছটা প্ল্যান রয়েছে মাথায়, একটা জাহাজে কীভাবে উঠতে হয় চুপিসারে, বলো তো এঁকেও দেখাতে পারি। হাসল কর্নেল মরটন হোলিস। লেডি ফ্ল্যামবোয়োর ডিজাইন আর ডেক লেআউট হাতের উল্টোপিঠের মতোই চিনে ফেলেছি। কিন্তু প্যারাসুট ব্যবহার করব নাকি স্কুবা, অথবা বালি বা শক্ত বরফের ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হবে কিনা, এসব জানা না থাকায় কোন প্ল্যানটা কাজে লাগবে বুঝতে পারছি না।
মিসরের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট- উনারা কেউ আমাদের গোলাগুলির মধ্যে না পড়ে, মন্তব্য করল মেজর।
হেলিকপ্টার থেকে নামার প্রশ্ন ওঠে না, শব্দ শুনেই ঝাঁক ঝাঁক গুলি ছুড়বে ওরা। ভেতরে ঢুকতে হবে আমাদের ক্রু রা কিছু টের পাবার আগেই।
যদি রাতের অন্ধকারে প্যারাস্যুট নিয়ে নামি?
সম্ভব।
একটা ক্যানভাস সিটে বসল জন ডিলিঞ্জার। নাইট ল্যান্ডিং এমনিতেই ডেঞ্জারাস, তার ওপর যদি অন্ধকার একটা জাহাজে অন্ধ সেজে নামতে হয়, ব্যাপারটা পাইকারী আত্মহত্যা হয়ে উঠতে পারে। চল্লিশজনের মধ্যে পনেরোজন টার্গেট মিস করে সরাসরি সাগরে পড়বে। বিশজন হাজাজের এটা-সেটার সাথে ধাক্কা খেয়ে আহত হবে। যুদ্ধ করার অবস্থায় পাঁচজনকে পেলেও ভাগ্যবান বলব নিজেকে।
তবু হয়তো শেষ পর্যন্ত তাই করতে হবে আমাদের।
আরও তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা যাক, মৃদুকণ্ঠে বলল জন ডিলিঞ্জার। কোথায় জাহাজটাকে পাওয়া যাবে তার ওপর সব কিছু নির্ভর করছে। কোথাও থেকে আছে না সচল, দুটোর মধ্যে মেলা পার্থক্য। কিছু একটা জানা গেলেই আপনাকে আমি একটা শক্ত অ্যাসল্ট প্ল্যান দেবে অনুমোদনের জন্য।
ভেরি গুড। লোকজনদের খবর কী?
হোমওয়ার্ক করছে। পাল্টা অ্যারেনাসে পৌঁছাবার আগেই লেডি ফ্ল্যামবোরোর সব কিছু মুখস্ত করে ফেলবে ওরা।
পেন্টাগন থেকে জানানো হয়েছে… হঠাৎ থেকে উতস্তত করল কর্নেল হোলিস, জেনারেল ব্রাভোর ক্রুরা ফ্ল্যামবোরোয় ঠাই পেয়েছে ধরে নিয়ে, সব মিলিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের সংখ্যা আমাদের সমান হতে পারে।
চল্লিশজন। প্রায় আঁতকে উঠল জন ডিলিঞ্জার।
প্রচুর লোক হুমকির মুখে পড়বে এই খেলা শেষ হওয়ার আগে।
.
ওয়াশিংটন ডিসি। একটা পাহাড়ের নিচে কংক্রিট বাঙ্কারের ভেতর নিজের অফিস কামরায় পায়চারি করছেন মেজর জেনারেল ফ্রাঙ্ক ডজ। দরজায় নক করে ভেতরে ঢুকল একজন লেফটেন্যান্ট স্যামুয়েল টি. জোন্স। মেজর জেনারেল তার কয়েকজন স্টাফকে নিয়ে সর্বশেষ স্যাটেলাইট ইমেজ পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন, টিয়েরা ডেল ফুগোর দক্ষিণ জলভাগ দেখতে পাওয়া যাবে ইমেজটায়। লেফটেন্যান্টকে দেখেই হুঙ্কার ছাড়লেন মেজর জেনারেল ডজ। আট মিনিট আগে পৌঁছানোর কথা তোমার।
খালি হাত দিয়ে মাথা চুলকে লেফটেন্যান্ট বলল, দুঃখিত, স্যার।
লেফটেন্যান্টের হাত থেকে ছোঁ দিয়ে স্যাটেলাইট ইমেজটা নিলেন মেজর জেনরেল, লম্বা ওয়ালবোর্ডের গায়ে আটকালেন পিন দিয়ে, বোর্ডের মাথায় এক সারে হুড পরানো অনেকগুলো স্পটলাইট রয়েছে। এর আগের একটা ইমেজও ঝুলছে কাছাকাছি, তাতে লেডি ফ্ল্যামবোরোর সর্বশেষ পজিশন দেখানো হয়েছে লাল বৃত্ত এঁকে, ফেলে আসা পথটা সরু রেখা দিয়ে বোঝানো হয়েছে আর কমলা রঙের বিন্দুগুলো সম্ভাব্য পরবর্তী কোর্স।
জেনারেলের দুপাশে ভিড় জমাল স্টাফরা, খুদে বিন্দু অর্থাৎ লেডি ফ্ল্যামবোরোকে দেখতে পাবার জন্য সবাই ভারি ব্যাকুল।
কেপ হর্ন-এর একশো কিলোমিটার দক্ষিণে শেষবার দেখা গিয়েছিল লেডি ফ্ল্যামবোরোকে, একজন মেজর বলল, আগের চার্ট থেকে কোর্সটা ট্রেস করল সে। ইতিমধ্যে ড্রেক প্যাসেজ ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা ওটার, সম্ভবত অ্যান্টার্কটিক পেনিনসুলা পেরিয়ে দ্বীপপুঞ্জের কাছে পৌঁছে গেছে।
ঝাড়া এক মিনিট ফিসফাস করল সবাই, তারপর ঝট করে লেফটেন্যান্টের দিকে ফিরলেন মেজর জেনারেল। ফটোটা তুমি দেখেছ, লেফটেন্যান্ট? বন্ধ অফিসরুমে গমগম করে উঠল তার গম্ভীর কণ্ঠস্বর।
না, স্যার। অযথা সময় নষ্ট করিনি। হাতে পেয়েই ছুটে এসেছি।
তুমি ঠিক জানো এটাই লেটেস্ট ট্রান্সমিশন?
হতচকিত দেখার লেফটেন্যান্টকে। জ্বি, স্যার।
কোনো ভুল নেই?
ভুল হতে পারে না, স্যার। নুমার সিস্যাট স্যাটেলাইট এরিয়াটা রেকর্ড করেছে ডিজিটাল ইলেকট্রনিক ইমপালস-এর সাহায্যে, রেকর্ড করার সাথে সাথে পাঠিয়ে দিয়েছে গ্রাউন্ডে। আপনি যে ইমেজটা দেখছেন, খুব বেশি হলে ছয় মিনিট আগে পৌঁছেছে ওটা।
পরবর্তী ফটো কখন আসবে?
এলাকাটার ওপর দিয়ে ল্যান্ডস্যাট যাবে চল্লিশ মিনিট পর।
আর ক্যাসপার?
লেফটেন্যান্ট হাতঘড়ির দিকে তাকাল। যদি সময় মতো ফেরে, ফিল্মের ওপর চোখ বুলাব আমরা এখন থেকে চার ঘণ্টা পর।
পৌঁছাবার সাথে সাথে নিয়ে আসবে আমার কাছে।
ইয়েস, স্যার।
স্টাফদের দিকে ফিরলেন মেজর জেনারেল ফ্রাঙ্ক ডজ। ওয়েল, জেন্টলমেন বুঝতেই পারছ, হোয়াইট হাউস ব্যাপারটা পছন্দ করবে না। এগিয়ে গিয়ে তিনি একটা ফোনের রিসিভার তুললেন।
বিশ সেকেন্ডের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কণ্ঠস্বর ভেসে এল, আশা করি ভালো কোনো খবর শোনাবে, ফ্রাঙ্ক।
দুঃখিত, না, মেজর জেনারেল কোনো রকম ভণিতা করলেন না। দেখা যাচ্ছে প্রমোদতরী ….
