নিজেদের কৌশল, সেটা কী রকম? প্রশ্নটা ডেইলের।
ব্ল্যাকমেইল, ঘুষ আর হত্যাকাণ্ড, জবাব দিলেন মারটিন ব্রোগান। প্রতিযোগী কোনো কোম্পানি ক্যাপেসটাররেদ স্বার্থের বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে দেখা দিলে প্রথমে কোম্পানির বড় কোনো কর্মকর্তাকে মোটা টাকা ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করা হয়। হয়তো দেখা গেল, নিজেদের বিরাট কোনো স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কোম্পানিটি ক্যাপেসটারদের সাথে একা চুত্তিতে এসেছে। ক্যাপেসটার পরিবারের রয়েছে নামকরা সব উকিল, তাদের কাজই হলো প্রতিযোগী অন্যান্য কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতি মাসে একটা-দুটো করে মামলা ঠোকা। প্রতিপক্ষ কোম্পানির ডিজাইনার, পরিচালক, প্রোডাকশন ম্যানেজার বা এক্সিকিউটিভ নিজেদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করে না, কারণ তারা ক্যাপেটারদের কাছ থেকে মাসোহারা পায়। কেউ যদি মাসোহারা নিতে অস্বীকার করে, বেড়াতে গিয়ে তার স্ত্রী বা ছেলে খুন হয়ে যায় সাগরসৈকতে, কিংবা সে নিজেই গাড়ির তলায় চাপা পড়ে। অনেকে স্রেফ গায়েব হয়ে যায়। অথবা কারও বাড়িতে আগুন লাগে।
মাফিয়া পরিবারগুলোর মতো একটা সংগঠন, বুঝলাম, বললেন প্রেসিডেন্ট।
সঠিক তুলনা, মার্টিন ব্রোগান সায় দেন, এভাবেই আন্তর্জাতিক ব্যবসা জগতে নিজেদের আসন পাকাঁপোক্ত করে নিয়েছে ক্যাপেসটার পরিবার। সরকারি হিসেবেই তাদের মূলধনের পরিমাণ এখন বারোশো মিলিয়ন ডলার।
বিলিয়ন মানে বি দিয়ে যেটা বানান করতে হয়? স্বরাষ্ট্রসচিব হতভম্ব। গির্জার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম আমি!
কাঁধ ঝাঁকালেন জুলিয়াস শিলার, কে বলে- অপরাধে অর্থ নেই?
কিন্ত দুই ছেলেকে মেক্সিকো আর মিসরে কেন তারা পাঠাল? ছেলে দুটো স্থানীয় বলে পরিচিতিই বা পেল কীভাবে?
দু’জনেরই গায়ের রং শ্যামলা, তার কারণ ওদের মায়ের পূর্বপুরুষরা কৃঞ্চকায় ক্রীতদাস ছিল। বিশদ ইতিহাস জানার সুযোগ নেই, তবে আন্দাজ করতে অসুবিধা হয় না যে রোলান্ড আর জোসেফিন ক্যাপেসটার অন্তত চল্লিশ বছর আগে সাম্রাজ্য স্থাপনের স্বপ্ন দেখে ও পরিকল্পনা তৈরি করে। ছেলেরা জন্ম নেয়ার আগেই বিদেশের মাটিতে কোথায়, কীভাবে তাদেরকে পাঠিয়ে মানুষ করা হবে, সব ঠিক করে ফেলা হয়। পল, ওরফে আখমত ইয়াজিদকে আরবি ভাষা শেখানো হয়, তখনও সে ভালো করে হাঁটতে শেখেনি, রবার্ট, ওরফে টপিটজিনকে শেখানো হয় প্রাচীন আযটেক ভাষা। বয়স বাড়ার পর ওদেরকে সম্ভবত মেক্সিকো আর মিসরের প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করা হয়, নাম পাল্টে।
চমৎকার প্ল্যান, গম্ভীর সুরে বললেন প্রেসিডেন্ট। জন্মের পর পরই বাচ্চাদের ট্রেনিং দেয়া শুরু হলো, যাতে তারা দুটো রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল করতে পারে। বিপুল সম্পদ, অসীম ক্ষমতা, উদ্ভট উচ্চাকাঙ্ক্ষা পরিবারটিকে বেপরোয়া করে তোলে। আমি তাদের জেদ আর ধৈর্যের প্রশংসা করলে অন্যায় হবে কি।
প্রশংসা না করে উপায় কী, স্বরাষ্ট্রসচিব ডগলাস ওটস বললেন। ওদের পরিকল্পনা যে সফল হতে চলেছে সে তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি। তৃতীয় বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দুটো দেশের শাসনভার চলে যাচ্ছে ক্যাপেসটার পরিবারের হাতে।
সে রকম কিছু আমরা ঘটতে দিতে পারি না, দৃঢ়কণ্ঠে বললেন প্রেসিডেন্ট। রবার্ট ক্যাপেসটার সরকারপ্রধান হওয়ার পর যদি বিশ লাখ মেক্সিকানকে আমাদের সীমান্তের দিকে ঠেলে দেয়, সেনাবাহিনী না পাঠিয়ে আমাদের কোনো উপায় থাকবে না।
আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের বিপক্ষে আমি, ভারী গলায় বললেন স্বরাষ্ট্রসচিব। বিশ্ববিবেক সব সময় আক্রমণকারীর নিন্দা করে এসেছে। আখমত ইয়াজিদ আর টপিটজিনকে খুন করলে বা মেক্সিকো আক্রমণ করলে সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান হবে না।
তা হয়তো হবে না, প্রেসিডেন্ট বললেন, তবে তাকে আমরা পরিস্থিতি হালকা করার সময় পাব হাতে।
আরেকটা সমাধান থাকতে পারে, ডেইল নিকোলাস বললেন। ক্যাপেসটার পরিবারের মধ্যে ভাঙন ধরানো যায় না? ওরা যদি নিজেদের মধ্যে ঝগড়া বাধায়?
আমি ক্লান্ত, চেহারায় বিরক্তি নিয়ে বললেন প্রেসিডেন্ট। হেঁয়ালি বাদ দিতে পারো না?
সমর্থনের আশায় মার্টিন ব্রোগানের দিকে তাকালেন ডেইল নিকোলাস। ওরা তো ড্রাগ ব্যবসায়ী, তাই না? নিশ্চয়ই ওরা ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল, ঠিক?
ড্রাগ ব্যবসায়ী, হ্যাঁ। ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল, না। ওদেরকে সাধারণ অপরাধী ভাবলে ভুল হবে। গোটা পরিবারটার ওপর কয়েক যুগ ধরে তদন্ত চলছে। আজ পর্যন্ত একজনও গ্রেফতার হয়নি। কোনো অভিযোগই তোলা যায়নি। দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ লইয়ারদের চাকরি দিয়ে রেখেছে ওরা। বন্ধুত্ব আর যোগাযোগ আছে বিশজন সরকারপ্রধানের সাথে। ওদের কাউকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠানোর কথা ভাবাই যায় না, তার চেয়ে কাটাচামচ দিয়ে পিরামিড ভাঙা অনেক সহজ।
সেক্ষেত্রে প্রচারমাধ্যমের সাহায্যে ওদের আসল পরিচয় ফাঁস করা হোক, পরামর্শ দিলেন ডেইল নিকোলাস।
কোনো লাভ নেই, প্রেসিডেন্ট বললেন। মিথ্যে প্রচারণা বলে ওরা বিবৃতি প্রচার করবে।
ডেইলর পরামর্শটা ভেবে দেখা যেতে পারে, বললেন জুলিয়াস শিলার, তিনি বলার চেয়ে শোনেন বেশি। ওদের কুকীর্তি ফাঁস করলে কাজ হতে পারে।
শিলারের দিকে তাকালেন প্রেসিডেন্ট। পরিষ্কার করে বলো।
লেডি ফ্ল্যামবোরো , বললেন জুলিয়াস শিলার। জাহাজাটাকে হাইজ্যাক করার পেছনে আখমত ইয়াজিদ দায়ী, এটা যদি প্রমাণ করা যায়, ক্যাপেসটার পাঁচিলটাকে ভেঙে দেয়া কোনো সমস্যা নয়।
