লোকটা জানে।
কী জানে? রুডি জিজ্ঞেস করল, প্রসঙ্গটা ভুলে গেছে সে।
স্যাটেলাইট ফটোতে তাকে ধরা হবে।
তার মানে সে জানে সে ছুটতে পারে, কিন্তু লুকাতে পারে না।
আমার ধারণা, লুকোতেও পারে।
কীভাবে জানতে পারলে খুশি হতাম, হাসিমাখা ব্যঙ্গের সাথে বলল রুডি।
চেয়ার ছাড়ল পিট। আড়মোড়া ভাঙল। হাত-পায়ে মরচে ধরে গেল, যাই, খানিক হাঁটাহাঁটি করে আসি।
তুমি আমার প্রশ্নের উত্তর দাওনি, উত্তেজনার অস্থির হয়ে উঠেছে রুডি।
টলে উঠল পিট, টেবিল ধরে জাহাজের ঝাঁকিটা সামলে নিল, তারপর রুডির দিকে ফিরে মুচকি একটু হাসল। লোকটার জায়গায় আমি হলে, যেন এমন এক লোক সম্পর্কে কথা বলছে যাকে দীর্ঘদিন ধরে চেনে ও, জাহাজটাকে দ্বিতীয়বার গায়েব করে দিতাম।
হাঁ হয়ে গেল রুডি গান। নিঃশব্দে, চেহারায় সবজান্তার ভাব নিয়ে, ওপর নিচে মাথা দোলাল জিওর্দিনো। ওরা কেউ কিছু বলার আগেই ডাইনিং রুম থেকে বেরিয়ে গেল পিট।
জাহাজের সামনের দিকে চলে এসে মই বেয়ে মুন পুলে নামল ও। ডিপ রোভারের চারপাশে হাঁটল, থামল সাগরের তলা থেকে তুলে আনা প্লাস্টিক শিটের সামনে দড়ির সাথে ক্লিপ দিয়ে খাড়াভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে প্লাস্টিকের টুকরোটাকে, লম্বায় পিটের প্রায় সমান হবে। ঝাড়া মিনিট পাঁচেক জিনিসটা দেখল ও, একবার হাত বুলালো। ধীরে ধীরে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল ওর চেহারা, যেন গোপন কী একটা জেনে ফেলেছে।
পেয়েছি!
ফিসফিস করে বলল ও, কয়েক মিটার দূরে ওঅর্ক বেঞ্চের সামনে দাঁড়ানো প্রকৌশলী লোকটাও শুনতে পেল না ওর কথা।
৪৫. সংকট সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য
৪৫.
লেডি ফ্ল্যামবোরো সংকট সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পাহাড়ি ঢলের মতো টেলিটাইপ আর কম্পিউটরের মাধ্যমে এসে জমা হচ্ছে পেন্টাগনের মিলিটারি কমান্ড সেন্টার, স্টেট ডিপার্টমেন্টের অপারেশনস সেন্টার আর পুরনো এক্সিকিউটিভ অফিস বিল্ডিংয়ের ওপর গেমস রুমে। তিন জায়গাতেই প্রায় বিদ্যুৎগতিতে সাজানোর পর পর্যালোচনা করা হচ্ছে ডাটাগুলো। তারপর সংক্ষিপ্ত সারবস্তু, সুপারিশ সহ, হোয়াইট হাউসের বেসমেন্টে অর্থাৎ সিচ্যুয়েশন রুমে চূড়ান্ত বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হচ্ছে।
সিচ্যুয়েশন রুমে ঢুকে লম্বা কনফারেন্স টেবিলের এক মাথায় বসলেন প্রেসিডেন্ট। স্ন্যাকস আর টার্টলনেক পরে আছেন ভদ্রলোক। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার পর উপদেষ্টাদের পরামর্শ চাইতে পারেন তিনি, যদিও কী করা হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার একক ক্ষমতা ও অধিকার রয়েছে তার।
মিসর থেকে পাওয়া ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট প্রায় সবগুলোই খারাপ। গোটা দেশ জুড়ে অরাজকতা শুরু হয়ে গেছে, প্রতি ঘন্টায় আরও অবনতি ঘটছে পরিস্থিতির। পুলিশ আর সামরিক বাহিনী ব্যারাক ছেড়ে বেরোয়নি, হরতালের ডাক দিয়েছে ইয়াজিদের অনুসারীরা। মন্দের ভালো এইটুকুই যে তারা এখনো সহিংস আন্দোলনে যায়নি।
স্বরাষ্ট্রসচিব, ডগলাস ওটস-এর সামনে তার এইড একটা রিপোর্ট রাখল, সেটার ওপর চোখ বুলিয়ে বিড়বিড় করে তিনি বললেন, এইটুকুই বাকি ছিল।
নিঃশব্দে তার দিকে তাকালেন প্রেসিডেন্ট।
মৌলবাদী বিদ্রোহীরা খানিক আগে কায়রোর টিভি স্টেশন দখল করে নিয়েছে।
স্ক্রিনে দেখা গেছে আখমত ইয়াজিদকে?
একসার কম্পিউটর মনিটরের দিকে পেছন ফিরলেন সি.আই.এ. চিফ। না, এখনও সে মুখ দেখাচ্ছে না। শেষ ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট পেয়েছি, আলেকজান্দ্রিয়ার কাছে সে তার নিজের ভিলায় বসে আছে, অপেক্ষা করছে পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে কখন পদত্যাগ করবে সরকার।
তার বোধ হয় আর বেশি দেরিও নেই, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন প্রেসিডেন্ট, তারপর জিজ্ঞেস করলেন, ইসরাইল কী করছে?
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ। আখমত ইয়াজিদকে এখনো বড় কোনো হুমকি বলে ভাবছে না তারা, স্বরাষ্ট্রসচিব বললেন।
আখমত ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি ছিঁড়ে ফেললে তখন টের পাবে। সি.আই.এ. চিফের দিকে কঠিন দৃষ্টিতে তাকালেন প্রেসিডেন্ট। তাকে আমরা বের করে আনতে পারি?
পারি, স্নান গলায় বরলেন সিআইএ প্রধান।
কীভাবে?
আপনার প্রশাসনের ওপর সমস্ত দায়-দায়িত্ব চাপতে পারে, তাই পদ্ধতিটা আপনাকে আমি জানাতে চাই না মি. প্রেসিডেন্ট।
সায় দিয়ে মাথা ঝাঁকালেন প্রেসিডেন্ট। তবে কাজটা করতে হলে সিআইএ কে আমার নির্দেশ পেতে হবে।
আততায়ী পাঠানোর ঘোর বিরোধী আমি, সিআইএ চিফ বললেন।
ডগলাস ওটস ঠিক বলছে, জুলিয়াস শিলার মন্তব্য করলেন। আপনার ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ হবে আঁততায়ী পাঠালে।
আর কংগ্রেসে যে কী হৈচৈ হবে, বলার নয়, ডেইল নিকোলাস যোগ করলেন। পত্রিকাঅলারা আপনার পিণ্ডি চটকাবে।
কিছু সময় চিন্তা করে প্রেসিডেন্ট বললেন, ঠিক আছে, পরে ভাবা যাবে ওটা নিয়ে।
প্রসঙ্গ বদল করলেন তিনি, মেক্সিকো থেকে কিছু জানা গেল?
ওখানকার পরিস্থিতি অস্বাভাবিক শান্ত, সিআইএ প্রধান মারটিন ব্রোগান জবাব দিলেন। কোনো বিক্ষোভ মিছিল বা দাঙ্গা হয়নি। টপিটজিন তার ভাইয়ের মতোই অপেক্ষায় আছে।
ঝট করে মুখ তুললেন প্রেসিডেন্ট, চেহারায় হতচকিত ভাব। আমি কি ঠিক শুনলাম? ভাই?
চোখ ইশারায় ডেইল দিকে ইঙ্গিত করলেন মারটিন ব্রোগান। সন্দেহ হওয়ায় চমৎকার একটা পরীক্ষা চালিয়ে বাজিমাত করেছে ডেইল। আখমত ইয়াজিদ আর টপিটজিন পরস্পরের আপন ভাই, তারা কেউই জন্মসূত্রে মেক্সিকান বা মিসরীয় নয়।
