উঠোনে বেরিয়ে আসতে সেই ছদ্মদলের অধিনায়ক ওদের খবর দিল যে দুর্গ থেকে এক মাইল দূরে মোটর সাইকেলের চাকার দাগ দেখতে পাওয়া গেছে। কিন্তু মোটর সাইকেলটা ওই পর্যন্ত এসে আবার ফিরে গেছে। এই খবরটুকুই শুধু পাওয়া গেছে।
বন্ডের যাত্রা আবার শুরু হল কায়োতোর দিকে। টাইগার জানতে চাইল তার ট্রেনিং স্কুল বন্ডের কেমন লেগেছে।
বন্ড জানাল-মনে হল খুবই আন্তরিক প্রচেষ্টা। এ সব কৌশল শিখলে পরে খুব কাজ দেবে বলে আমার ধারণা। সে টাইগারকে জানাল, তোমাদের ওই নিজাও পূর্ব বার্লিনে গিয়ে বেশি সুবিধে করতে পারবে না।
টাইগার সারাদিন ধরে বড় ক্লান্ত হয়েছিল। তাই আর কিছু না বলে সে চুপ করে রইল।
.
শরীর বিদ্যা
কায়াতোর সবচেয়ে কায়দা দুরস্ত হোটেল হল মিয়াকো। সেই হোটেলেই রাতে বউ-এর থাকার বন্দোবস্ত হল। বন্ড এক পাইট জ্যাক ড্যানিয়েল আর এক বেনেডিক্ট ওর ঘরে পৌঁছে দেবার হুকুম করল। তারপর ক্লান্ত শরীরে কোনরকমে খাওয়া-দাওয়া সেরে বিছানা নিল।
পরদিন সকালে বিবেকের তাড়নায় তাড়াতাড়ি উঠে পড়ল। টাইগারকে সে কথা দিয়েছে ওসাকায় যাবার আগে ওরা একবার জাপানের সবচেয়ে প্রাচীন পতিতালয়ে ঢু মেরে যাবে। এরপর তো সারাদিনের মত শুধু চলা আর চলা– মধ্যবর্তী সমুদ্র পেরিয়ে সেই কায়ুশু-র দক্ষিণ দ্বীপে।
পুরোনো রাজধানীর অধুনা বিলুপ্ত নিষিদ্ধ পল্লীতে পতিতালয়ের লম্বা চওড়া মস্ত বাড়ি। ওরা ভেতরে ঢুকে পালিশ করা ঝকঝকে মেঝের ওপর দিয়ে এ-কক্ষ, ও-কক্ষ ঘুরে বেড়াল। কাঠের থামে থামে তলোয়ারের দাগ কেটে বসে গেছে। ওরা সে সব দেখল। টাইগারের কথা থেকে জানতে পারা গেল, ওগুলো হচ্ছে সামুরাইদের কীর্তি। কাম আর লালসায় অধীর হয়ে এইসব করতো ওরা।
মুরাসাকি মারু ৩,০০০ টনের আধুনিক জাহাজ; তাতে সবরকম বিলাসবহুল ব্যবস্থা। জাহাজটা ধিকধিক করে চলছিল বিভিন্ন সব দ্বীপের ভেতর দিয়ে। টাইগার এইখানে কোথায় যেন বলল চমৎকার-চমৎকার জলাভূমি আছে আত্মহত্যার জন্য যেগুলি বিশেষভাবে পরিকল্পিত। এর ফাঁকে টাইগার আর বন্ড গিয়ে বসল প্রথম শ্রেণীর ডিনার রুমে। টাইগার সাকে-র হুকুম করল। খেতে খেতে বন্ড টাইগারের কাছে জানতে চাইল গতকাল তোমার লোকগুলো যে তলপেটে এ তো প্রচণ্ড মার খেল কিন্তু তারা তো কাত হয়ে পড়ল না? কেন? টাইগার হেসে জবাব দিল– সামো কুস্তিগীরদের কথা জান তো? এসব কৌশল ওরাই আবিষ্কার করেছে শত শত বছর আগে। শরীরের তলদেশে যাতে কোনরকম চোট না লাগে; ক্ষতি না হয়, সেই রাস্তা আগে থেকে মেরে রাখা ওদের কাছে খুব জরুরী ব্যাপার ছিল। বয়ঃসন্ধির সময় থেকেই সামো কুস্তিগীররা তাদের পেশায় নির্বাচিত হতে থাকে। হয়ত তাদের শরীরের ওজন বা শক্তির জন্য কিংবা সামো পরিবার থেকে এসেছে বলেই হয়ত।
অনেক অনুশীলনের পর ওরা ওদের জননেন্দ্রিয়কে পূর্বের জায়গায় অর্থাৎ যেখান থেকে উদ্ভব সেইখানে ঢুকিয়ে দেয়। তারপর লড়াইয়ে নামার আগে ওরা ওই দুর্বল স্থানটিকে ভাল করে বেঁধে নেয়। যাতে প্রত্যঙ্গটি তার গুপ্তস্থানে ঠিক ঠিক থাকতে পারে। পরে ওরা আবার সেটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।
লড়াই-টড়াই করতে হলে কিংবা ধরা পড়লে শরীরের ঐ বিশেষ অংশটি সম্বন্ধে এজেন্টরা ভীষণ ভয় পায়। এটা আমার নিজের অভিজ্ঞতা। তুমি তো জান, ওই পুরুষাঙ্গের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়ে খবরাখবর আদায় করা কি সোজা!
সূর্য তখন অস্ত যাচ্ছে; ওরা গিয়ে পৌঁছল বেপ, পুতে, কায়ুশু-র দক্ষিণ দ্বীপ বেপ পু। টাইগার বলল, এই হচ্ছে সময়। এখন উষ্ণ প্রস্রবণ, তার থেকে ভলকে-ভলকে বের হচ্ছে বাম্প, ছোট ছোট সব খনিজনির দেখতে পাওয়া যাবে। খুব ভোরে আমাদের ফাকুওকার পথে রওনা হতে হবে। সকালে আর কোন সময় পাওয়া যাবে না। ফাকুওকার পথেই তাদের যাত্রার পরিসমাপ্তি। নামটা শুনে বন্ড একটু কেঁপে উঠল। এই ঘুরে ঘুরে দেখে বেড়ানো আর সাকে খাওয়ার শিগগিরই ইতি হবে। সেই চরম সময় দ্রুত এগিয়ে আসছে।
বেপপু শহরের মাথায় দশ দশটা দর্শনীয় নরক । এই আখ্যা সরকারীভাবে জারি করা। ওরা সেগুলো এক এক করে দেখল। পাথরে ঘেরা, কাদায় মাখামাখি এক জায়গায় নীরব নিশ্চল ছোট্ট এক হা মুখ–তার ওপর জোরাল আলো ফেলে সেটাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। একদল লোক সেটা দেখছিল, ওরাও গিয়ে তাদের সাথে জুটল। যা বলেছিল তাই, পাঁচ মিনিটের মধ্যে মাটির তলা থেকে একটা গুড় গুড় শব্দ উঠল আর সাথে সাথে গরম ধোঁয়া ওটা কাদার এক পাহাড় বিশ ফুট উঁচুতে উঠে ছিটকে পড়ল ঘেরা জায়গাটার ভেতর। ফিরে আসার সময় একটা লালরঙের মস্ত চাকার দিকে বন্ড-এর নজর পড়ল। খুব করে শেকল আর তালাচাবি মারা। উষ্ণ প্রস্রবণের গতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ওই চাকা। চাকাটাকে ঘুরিয়ে যদি নিচে নামানো হয় তাহলে সমস্ত জিনিসটাই হয়ত ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ ক্ষমতা যদি বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে ওতে নাকি এক হাজার পাউন্ড টি. এন. টি-র সমকক্ষ শক্তি জন্মায়। তখন আগ্নেয়গিরিটা ফেটে পড়তে পারে।
টাইগার বলল, বন্ডো-সান আজ এই বিশেষ যাত্রায় আমি তোমার আপ্যায়নের এক বিশেষ বন্দোবস্ত করেছি। জাহাজ থেকে রেডিও যোগে আমি খবর করেছি। আজ ফাগু ভোজন হবে।
