টাইগার টনাকা খুব খুশি হয়ে হাসল, ভালই বলেছ বড়ো-সান। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, মিঃ টাকা এই কম্যান্ডার বন্ডকে আপনি বাজিয়ে দেখুন। যদি সে সফল হয় তাহলে বুঝব বৃটেনে এখনো আচ্ছা আচ্ছা রহিশ লোক এক আধজন আছে। বুঝব তাদের হাতে এই মূল্যবান জিনিস নিরাপদেই থাকবে। আর যদি সে ব্যর্থ হয়, আপনি তাহলে তার অনুরোধ বিনীতভাবে প্রত্যাখ্যান করবেন। বন্ড অধীর হয়ে উঠল বলল, তোমাদের এই বাজিয়ে দেখার ব্যাপারটা কি?
টাইগার টনাকার মেজাজ খানিকটা নরম হয়েছে। টাইগার বলল, তোমাকে ওই মৃত্যুপুরীতে প্রবেশ করতে হবে, তারপর সেখানেই নিকেশ করতে হবে সেই ড্রাগনকে।
.
জাপানি হামাম
রাস্তা খাঁ-খাঁ করছে; হয়ত দিনটা ভালই যাবে। টাইগার খুব আটপৌরে পোশাক পরে চলেছে। সীটে ঠিক তার পাশে রাখা ছোট্ট একটি ব্যাগ। ওরা যাচ্ছে এক হামামে। টাইগার বলেছে জায়গাটা খুবই নিরিবিলি। ওখানে গিয়ে বেশ তৃপ্তি পাওয়া যাবে। ফাঁকে ফাঁকে বন্ডকে যতদূর সম্ভব জাপানি বানাবার চেষ্টা করা হবে।
যতদূর নজির মিলেছে তাতে মনে হয় ডাক্তার লোকটা সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত। ডাক্তারকে যে খতম করা হবে সেটা সরকারীভাবে স্থির হয়েছে, কিন্তু সে কাজ কোন জাপানিকে দিয়ে করানো যাবে না। কেন তা স্পষ্ট বোঝা যায়। সুতরাং বন্ড একেবারে ঠিক সময়ে এসে হাজির হয়েছে। এই ধরনের বিশেষ গুপ্ত কাজ-কর্ম তার হাত পাকা, যদি কোনক্রমে জাপানি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে তাহলে বিদেশে গুপ্তচর বৃত্তির এক উপযুক্ত গল্প ফেঁদে ব্যাপারটা ধামা চাপা দেওয়া যাবে। হয়ত তার বিচার হবে, শাস্তিও হবে তারপর চুপি চুপি তাকে দেশ থেকে চালান করে দেওয়া যাবে। আর যদি সে না পারে তাহলে হয়ত ডাক্তার আর তার প্রহরীরা তাকে মেরে ফেলবে। সেটা খুব যা-তা হবে। যাই হোক বন্ডকে। এই কাজে লাগানো হচ্ছে। তার বদলে সে পাবে সেই ম্যাজিক ৪৪। বন্ড শেষ চেষ্টা হিসাবে বলতে চেয়েছিল যে একাজে সাফল্য অসম্ভব। টাইগার জবাব দিয়েছে এ বিষয়ে আগেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। টাইগার বন্ডের সঙ্গেই আছে। বন্ড যেন নিশ্চিন্ত থাকে। হামামের বাইরেটা দেখতে পুরোনো ধাচের জাপানি বাড়ির মত। একটা খোলা দরজার গোড়ায় হলুদে আলো ছিটকে আছে তার ওপারেই চকচকে, চওড়া কাঠের মেঝে। তিনটি হাস্যময়ী নারী, পরনে তাদের চিরাচরিত পোশাক–ওদের দেখে মাথা নোয়াল। তখন ভোর পাঁচটা। টাইগারের কিছু কিছু মন্তব্যের পর বন্ড পায়ের জুতা খুলে ফেলল। তারপর টাইগার তাকে যা করতে বলল, তাই করল অর্থাৎ মোজা পায়ে সে একটি মেয়ের পিছু পিছু চলল ঝকঝকে দালান দিয়ে। খোলা জায়গার মধ্যে একটা পার্টিশন দেখে মনে হয় হামামের এক যুগ্ম সংস্করণ। অকিঞ্চিৎকর কাঁচুলি আর আঁটসাঁট সংক্ষিপ্ত সর্ট পরে এক তরুণী। গায়ে তার আর কিছু নেই। আভূমি নত হয়ে মেয়েটি বলল, মাফ করবেন। তারপর বন্ডের প্যান্টের বোম খুলতে লাগল। বন্ড তার সুন্দর হাতখানা যেখানে ছিল। সেখানেই ধরে ফেলল। আর একজন বয়স্কা রমণী পার্টিশানটা টেনে দিতে যাচ্ছিল। বন্ড সেদিকে তাকিয়ে ডাকল টনাকা মান। টাইগারকে আনা হল। টাইগারের পরনে শুধু ইজের। বন্ড বলল, টাইগার শোন। আমার তো মনে হচ্ছে আমি এবং এই সুন্দরী ললনা বেশ ভালই খাপ খেয়ে যাব। কিন্তু আমাকে শুধু বল মেনুটা কি?
টাইগার খুব ঠাণ্ডাভাবে বলল, বডো-সান, কোনরকম জিজ্ঞাসাবাদ না করে হুকুম তামিল করার আদব কায়দা তোমার শেখা উচিত। আগামী কয়েক দিন আমাদের সম্পর্কের সেটাই হল সারবস্তু। ওই বাক্সটা দেখতে পাচ্ছ তোমার। জামাকাপড় ছাড়িয়ে ও তোমাকে ওই বাক্সের ভেতর পুরে দেবে। বাক্সের তলায় আছে কাঠকয়লার নরম আঁচ। তুমি। ঘেমে নেয়ে উঠবে। দশ মিনিট পরে মেয়েটি তোমাকে ওখান থেকে বার করে আনবে। তারপর মাথা থেকে পা পর্যন্ত। আচ্ছা করে ভোলাই করে দেবে। তারপর নাওয়ার পর মেয়েটি ভাল করে মুছিয়ে দিয়ে কৌচে ফেলে দলাইমালাই। করবে। যত আরাম করে চাও। এরপর তুমি শুতে যাবে। ঘুম থেকে উঠে খেতে পাবে ডিম, বেকন আর কফি। মেয়েটিকে তুমি একটা ভোরের চুমু উপহার দিয়ে দাড়ি কামাতে বসবে। এই পর্যন্ত।
মেয়েটির বয়স ১৮। নাম মারিকো ইচিবান। মারিকো মানে গত আর ইচিবান মানে এক নম্বর। এখানকার সব মেয়েদের নম্বর দেওয়া আছে। এরপর তুমি আর আমাকে বিরক্ত কর না। আমিও এখন তোমার মত একই ভাবে আরাম। করব, নতুন ধরনের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা তুমি পেতে চলেছ। যাও এর পরিপূর্ণ স্বাদ নাও। উপভোগ কর সব কিছু। হায়, রাতটা ভীষণ ছোট, তবু ছেড়ে দিও না। খুব করে জড়িয়ে ধর। এই রাতের সব আনন্দের শেষে কাল সকালে তুমি যখন জাগবে তখন তুমি হয়ে গেছ এক নতুন মানুষ। মারিকোর ছটপটে আঙুল যখন তার প্যান্ট আর শার্ট খুলতে ব্যস্ত, তখন বন্ড মেয়েটির চিবুক তুলে ধরে আচ্ছা করে চুমু খেল।
কাঠের বাক্সটা আর যাই হোক খুব আরামের। কিছুক্ষণ পরে তাতে বসে বন্ড ঘামতে লাগল। বন্ডের মনে পড়ল কুইন মেরীর গোলাপবাগানে তার যত নিরানন্দ স্মৃতির কথা। M-এর সাথে সাক্ষাৎকারের কথাও তার মনে পড়ল।
সামনের দেওয়ালে আয়না। মারিকো সেই দিকে তাকিয়ে তার চুল আর ভুরু নিয়ে খেলা করছিল। বন্ড বলল, মারিকো! বের কর। মারিকো হাসল, মাথা নোয়ালো। কোনরকম তাড়া না করে বুকের কাঁচুলি খুলে ফেলল। তারপর এসে দাঁড়াল বাক্সটার কাছে। মারিকো হাত বাড়িয়েই রেখেছিল। বন্ড সেই দিকে এগোতে এগোতে দেখল মারিকোর বুক শক্ত হয়ে উঠেছে। মারিকো বাক্স থেকে বন্ডকে ওর দিকে টেনে নিল।
