সাধারণ ফলকে ফুল (নেরিয়াম ইন্ডিকাম) : চিরসবুজ গাছ। শিকড়, ছাল, রস, ফুল, পাতা সবই ভীষণ বিষাক্ত। বুকের পক্ষে ক্ষতিকর। ভারতে কুষ্ঠ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, গর্ভপাত ঘটায়। ভারত, হাওয়াই।
রোজারী পী, ক্র্যাবস আই। লতানে গুল্ম। লাল চকচকে বিচি হয়। ওজন গড়ে ১.৭৫ গ্রেন। ভারতীয় স্যাকরারা দাঁড়িপাল্লার মাপ হিসাবে ব্যবহার করে। বিচিগুলো গুঁড়িয়ে ছাতু করে তাতে পানি মিশিয়ে বেলনার মত করা যায়। এগুলো যদি মানুষের বা জন্তুর চামড়ার ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়া যায় তাহলে চার ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু। ভারত, হাওয়াই, জিমসন-উইড। নানা ধরনের কাঁটাসুদ্ধ ধুতুরা-র চারা। উত্তর আফ্রিকা, ভারতে পাওয়া যায়। তাছাড়া, মেকাসিকোতে ওলোলিকুই এবং ডি তাতুলা মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায়। সব কটাতেই মনের বিভ্রম ঘটায়। ডি. স্ট্র্যামোনিয়াম ধুতুরা থেকে ধূমপান করে আরব ও মোয়াহিলি-রা।
পূর্ব আফ্রিকার নিগ্রোরা খায় এর পাতা। হাসিমোর সাথে এর বিচি মেশানো হয়। আর ভারতবর্ষীয়রা এর পাতা থেকে সিদ্ধি বা ভাঙ বানায়। ডি. তাতুলা জাপোটেক ইন্ডিয়ানদের কোর্ট কাছারিতে সাচ্চা দাওয়াই হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ডি তাতুলা থেকে প্রস্তুত এরকম পানীয়তে আসক্ত হলে চিরতরে নপুংসক করে দেয়।
গ্লোরিওসা সুপারা ও অদ্ভুত সুন্দর লতানে লিলি। শিকড়ে, বোঁটায়, পাতায় কড়া মাদক সুপারবাইন থাকে। তাছাড়াও থাকে কোল কি সাইন এবং কোলাইন। তিন গ্রেন কোলকিমাইনে মৃত্যু অনিবার্য। হাওয়াই। স্যান্ড-বস স্ত্রী ও সমস্ত গাছময় থাকে সক্রিয় এসি টোক্যাতারটিক। ব্রাজিলে তা মাছের বিষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাছাড়াও আছে ক্রেপিটিন, একই বিষ রাইসিন গ্রুপের। গিলে খেলে ক্ষতি হয় না কিন্তু কাটাকুটির মধ্য দিয়ে যদি রক্তে মেশে তাহলে মারাত্মক হয়। ৭-১৩ দিনের মধ্যে মৃত্যু হবে। মধ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রাইড অব ইন্ডিয়া, চায়নাবেরী ট্ৰী, চায়না ট্রী ও ছোট গাছ। সুন্দর মন সবুজ পাতা, সুন্দর গন্ধ বের হয়। ফলে থাকে বিষাক্ত মাদক যা সমস্ত স্নায়ুকেন্দ্রকে অচল করে দিতে পারে। হাওয়াই, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা।
ফিজিক নাট (জাত্ৰোফা কারকাস) ঝোপে পরিপূর্ণ গাছ। এর কাঁচা বীজে ভয়ংকরভাবে পেট নামায়। তাতেই ক্লান্ত হয়ে লোক মারা যায়। ক্যারিবিয়ান। মেক্সিকাম টিউবার, ক্যামেটিলো : বন্য আলু। সাধারণভাবে যথেষ্ট জন্মায়। চাঁদের আলো পড়ে সেই আলু তোলা হয়। যে ক দিন ঘরে রাখা হয় তাতে বিষক্রিয়া শুরু হয়। বিষের রকম? সোলেনাইন মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা।
ডিভাইন মাশরুম : ছাতা ধরনের জিনিস। কাঁচা কিংবা গরম দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। কানের ও চোখের প্রচণ্ড শক্তি বাড়ে তারপর দুঃস্বপ্ন ও মনের বিভ্রম ঘটায় কয়েক ঘণ্টা ধরে। শেষে অসম্ভব বিষণ্ণতায় গ্রাস করে ফেলে। বিষের সক্রিয় ধরনটি জানা যায় না। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা।
বন্ড পড়া শেষ করে কাগজগুলো টাইগারকে ফিরিয়ে দিয়ে বলে ডাক্তার শ্যাটারহ্যান্ডের বাগানখানি তো দেখছি বড় ভাল জায়গা। সৃষ্টিকর্তা জানেন!
তুমি নিশ্চয়ই দক্ষিণ আমেরিকার পিরানা মাছের কথা শুনে থাকবে? এক ঘণ্টায় তারা একটা ঘোড়াকে খুবলে খেয়ে শুধু হাড়টুকু ফেলে রাখে। এই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম সেরামালমাস। এরা খুব তাড়াতাড়ি বংশবৃদ্ধি করে। ডাক্তার সাহেব এদেশী সোনালি মাছ ছেড়ে সেই মাছই বরাদ্দ করেছেন তার লোকের জন্য। বুঝতে পেরেছ, আমি কি বলছি?
না। বন্ড বলল। কিছুই বুঝিনি। এসব করার পেছনে ডাক্তারের উদ্দেশ্যটা কি থাকতে পারে?
.
ড্রাগন নিকাশ পালা
ইয়কোহামার রাস্তায় গাড়ি চলাচলের গোলমাল থেমেছে। রাত তখন তিনটে। জেমস্ বন্ড কিন্তু একটুও ক্লান্ত হয়নি। ওই অদ্ভুত সুইস ডাক্তারের গল্পে সে একদম মশগুল হয়ে গিয়েছিল। যার বিষয়ে টাইগার বলেছিল, মৃত্যু সংগ্রহ করে। তাকে মজা দেবার জন্য নিশ্চয়ই টাইগার এই ভয়ংকর গল্প ফেঁদে বসেনি! শেষ তো হবে এক সময়! কি আছে এ গল্পের শেষে।
টাইগার মুখ মুছল হাত দিয়ে, তারপর বলল, আজকের জাপান টাইমস-এ একটা খবর পড়েছ? আত্মহত্যার ঘটনা।
না।
অল্পবয়সী এক ছেলে, এই বছর আঠার বয়স। টোকিও শহরের বাইরে থাকে। ওর বাড়ির কাছাকাছি এক বাড়ি তৈরির কাজ হচ্ছিল–ডিপার্টমেন্ট স্টোরের বাড়ি। ছেলেটা নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে সেখানে গিয়ে দাঁড়ায়। ভিত গাঁথার ইট-পাটকেল গুড়ো করার জন্য একটা ইঞ্জিন তখন চালু ছিল। ছেলেটা হঠাৎ সকল মিস্ত্রির সমুখেই মাঝখান থেকে ছুটে গিয়ে সেই ইঞ্জিনের তলায় মাথা পেতে দেয়। ইট পাটকেল সমেত ছেলেটার মাথা একেবারে তেথলে যায়।
কি ভয়ংকর ঘটনা! কেন? সে তার পূর্বপুরুষদের মুখে চুনকালি লেপে দিয়েছে। এই তার কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্ত। আত্মহত্যা হচ্ছে জাপানি লোকেদের জীবনের বড় একটা দুঃখজনক দিক। টাইগার চুপ করে। কিংবা বলতে পার মহৎ দিক। এটা নির্ভর করছে তুমি কিভাবে দেখবে তার ওপর। ওই ছেলেটির এবং পরিবারের সম্মান খুব বেড়ে যাবে পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে। সম্মান যা-তা ভাবে বাড়লেই হল? ভেবে বল, বন্ডো-সান। তোমাদের মরনোত্তর ভিক্টোরিয়া ক্রশগুলো কি আমরা যে তোমাদের মত অত গণতান্ত্রিক নই। টাইগারের গলায় একটু যেন শ্লেষের ভাব। তোমরা হয়ত বলবে, প্রাচীনপন্থী কিন্তু আমাদের কাছে যা কিছু অসম্মানজনক তা মুছে ফেলাই পবিত্র কর্তব্য। নিজের জীবন উৎসর্গ করার মত আন্তরিক আর কিছুই নেই। তোমার কৃতকর্মে অনুতাপ প্রকাশ করার এই একমাত্র রাস্তা। সব কিছু তোমাকে দিয়ে দিতে হবে।
