ঠিক। আর গ্রেড দুই স্টেশন এবং তার ওপরের মানে হচ্ছে, কলস্যুলেট জেনারেল এবং বৈদেশিক দূতাবাস। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে এগুলো সরিয়ে রেখেছেন, এটা বোধহয় ঠিক নয়। আপনাদের সাথে আমাদের বন্ধুত্বের চুক্তি আছে, বাণিজ্য চুক্তি আছে। এই জরুরী সংবাদ গোপন রাখাটা, আপনি কি মনে করেন না, খুব অসম্মানজনক কাজ?
বন্ড বলল, দেখুন মিঃ টনাকা, আপনিও জানেন আমিও জানি যে খবরটা কোথা থেকে পাওয়া গেল, তা যদি চেপে যাওয়া হয় তাহলে সেটা আর পাঁচটা বিশ্বস্তসূত্রে প্রাপ্ত হাত-ফেরতা খবরের মতই হয়ে দাঁড়ায়। ওয়াশিংটন অবশ্যই পাঠাবে এ-খবর লন্ডনে কিন্তু তাতে অনেকখানিই খাদ মেশানো থাকবে। কিন্তু আপনি নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, এ যে এক ভয়ংকর খাড়া ইংল্যান্ডের ওপর ঝুলছে এটা তারা স্রেফ চেপে যেতে পারে তাদের নিজেদের স্বার্থের কারণেই। অথচ ইংল্যান্ডের স্বার্থের এমন প্রতিটি মুহূর্ত ব্যয় করা উচিত যাতে এর পাল্টা কোন পরিকল্পনা রচনা করা যায়। এমনি একটা বিহিত করার কথা মনে আসছে।
আপনার কথা আমি উপলব্ধি করছি, কম্যান্ডার। এক্ষেত্রে অবশ্য আর একটা রাস্তা রয়েছে যাতে করে এই খবর আপনার সরকারের কাছে গিয়ে পৌঁছতে পারে। মিঃ টনাকার মুখ দুষ্টুমিতে ভরা। বন্ড টেবিলের ওপর ঝুঁকে পড়ল কিন্তু আমি যে কথা দিয়েছি।
মিঃ টাকার মুখের ভাব পাল্টে গেল। সমস্ত মুখটা এক অদ্ভুত বিষণ্ণতায় যেন থুবড়ে পড়ল। টনকা বলল, কম্যান্ডার ইংল্যান্ডে আমি খুব সুখে ছিলাম। ওখানকার লোক আমার প্রতি যথেষ্ট ভাল ব্যবহার করেছে অথচ আমি তার প্রতিদান দিয়েছি খুব খারাপভাবে। আমি রাজনীতির লোক নই। জানিনা সেই প্রায়শ্চিত্ত কিভাবে হবে? আপনার দেশের কাছে আমি যথেষ্ট ঋণী। এই সকালে এক গোপনীয় খভর ফাঁস করে দিয়ে আমি রাষ্ট্রদোহিতা করলাম। ডিকোর সাথে আর অগাধ বন্ধত্বই বোধহয় আমাকে এ কাজ করতে সাহায্য করেছে। তাছাড়া আপনার আন্তরিকতা, সততা– যে কাজ আপনাকে চাপানো হয়েছে তার প্রতি নিষ্ঠা দেখে বোধহয় আরো উৎসাহ বোধ করেছি। বৃটেনের কাছে এই কাগজটার গুরুত্ব যে কি আমি সম্পূর্ণ উপলব্ধি করতে পারি।
টাইগার টনাকা উঠে দাঁড়াল। এখনকার মত বিদায়, কম্যান্ডার, আশা করি আমাদের আরো দেখা সাক্ষাৎ হবে। শক্ত মুখখানা জ্বলজ্বল করে উঠল আবার। কম্যান্ডার সম্মান হচ্ছে ব্যবহারের এক অঙ্গ। হাওয়ার কাছে বাঁশকে তো মাথা নোয়াতেই হবে। তেমনি সেডার-কে নোয়াতে হবে টাইফুনের কাছে আপনার জন্য গাড়ির অপেক্ষা করছে। আপনাকে হোটেলে পৌঁছে দেবে। ডিকোকে আমার গভীর শ্রদ্ধা জানাবেন। আর ওকে বলবেন, আমি ওর কাছে এক হাজার ইবন পাব। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি মেরামতির জন্য। ওগুলো তো সরকারি সম্পত্তি।
টাকার শক্ত, শুকনো থাবাটা বন্ড নিজের হাতে নিল। তারপর মন থেকেই বলল, আপনাকে ধন্যবাদ মিঃ টাকা। বলে সেই গোপন চোরা কুঠুরি থেকে বেরিয়ে এল। তার মনে তখন চিন্তা ডিকো কত তাড়াতাড়ি মেলবোর্নে যোগাযোগ ব্যবস্থা করতে পারে। আর সেখান থেকে লন্ডনেই বা কত তাড়াতাড়ি যোগাযোগ হওয়া সম্ভব?
.
টাইগার মানে বাঘ
এক মাস কেটে গেল। এখন মিঃ টনাকা শুধু টাইগার। আর কম্যান্ডার বন্ড হয়েছে, বন্ডো-সান। টাইগার জেমস্ বন্ডকে তার নামের মানে বুঝিয়ে দিয়েছে। বন্ডো-সান কথাটা বড় বেশি জাপানি শব্দ বন-সান -এর মত শুনতে। যার মানে পুরেহিত এবং যার পাকা দাড়ি আছে। বন্ডের শেষে ওই যে কাঠখোট্টা ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে, জাপানিদের পক্ষে তা উচ্চারণ করাও খুব সোজা হয় না। বিদেশী শব্দের ক্ষেত্রে আমরা তখন ওকারান্ত জুড়ে দিই। সেই জন্য তুমি হয়েছ বভো-সান।
কয়েক সপ্তাহ কেটে গেছে অথচ বন্ড যে কাজে এসেছে সেটা তেমন উল্লেখযোগ্যভাবে এগোয়নি। কেবল বন্ড, টাইগার আর ডিকোর বন্ধুত্ব ঘনিষ্ঠ হয়েছে। কাজের অবসরে এরা পেয়েছে টাইগার ওকে এক নাগাড়ে লক্ষ্য করে যাচ্ছে।
ডিকো বন্ডকে বলেছে, বন্ধু আমার মনে হয় তুমি এগোচ্ছ। তলায় তলায় কিছু একটা ঘটে চলেছে। আন্দাজে বলা যায় যে, ব্যাপারটা এখন টাইগারের ওপরওয়ালাদের হাতে; কিন্তু টাইগার তোমার দিকে। আর টাইগারের ক্ষমতা অসীম। প্রথম সাক্ষাতেই ও তোমাকে যে উপহার দিয়েছে তা অশ্রুতপূর্ব। কিন্তু টাইগারের প্রতি তোমারও শ্রদ্ধার ধন ক্রমশ জমছে।
ইতিমধ্যে বন্ডের হাতে যা তুলে দিয়েছে তার ঠেলা সামলানো কঠিন। ২০০ মেগাটন বোমার পরীক্ষা যথাসময়ে হয়েছিল এবং মসুকো ঠিকই ভেবেছিল। জনসাধারণ তাই নিয়ে প্রবল চেঁচামেচি করে। ইংল্যান্ডে যত সোভিয়েত কর্মী ছিল, সাথে সাথে তাদের বাড়ির বিশ মাইল চত্বরের মধ্যে আটক করে ফেলা হয়। কনসুলেট, দূতাবাস এবং তাদের বিভিন্ন বাণিজ্য দপ্তরের আশেপাশে পুলিশ থিথি করতে থাকে। তার বদলে অবশ্য ব্রিটিশ কূটনীতিক, সাংবাদিককে রাশিয়ায় নতুন করে আটক করে ফেলা হয়।
এর কদিন পর বন্ডকে আবার ডেকে পাঠানো হয়। টাইগারের সেই গোপন পাতাল গৃহে। তুমি অবশ্য এ-কথা দ্বিতীয়বার কোথাও উচ্চারণ করবে না -টাইগার দুষ্টু দুষ্টু হেসে বলেছে, কিন্তু যে খবরটা তুমিই শুধু জানতে তার আরো খবর হচ্ছে এই যে, ওদের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য সব কাজ কৌশলে বন্ধ রেখেছে।
