ডালেসের আমলে যা করত ম্যাক কোনের আমলেও তাই করে? সেইরকমই প্রায়। তবে প্যাসিফিককে ওরা নিজেদের খিড়কির বাগান বানাতেই আজকাল বেশি ব্যস্ত।
সেখান থেকেই তো আপনার মাসকাটার যন্ত্রটা হাতাতে চান ওদের অগোচরে। প্রায় বাঘের ধরনেই হেসে উঠল টাইগার, বন্ডকেও হাসতে হল। এই চতুর শয়তান নিশ্চয়ই দুয়ে দুয়ে এক চার ফেলতে চাইছে। বন্ড বলল, টমাস কুক নামে আমাদের এক লোক ছিল এবং আরো অনেকে। তারা মিলেই এই বাগানের অনেকখানি আবিষ্কার করেছে। অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড দুটোই মস্ত বড় দেশ। আপনি নিশ্চয়ই জানবেন, এই গোলার্ধে আমাদের আগ্রহ যথার্থ ন্যায় সঙ্গত! প্রিয় কম্যান্ডার। আপনাদের বরাত তাই আমরা অস্ট্রেলিয়ায় আঘাত না হেনে পাল হারবারে হেনেছিলাম। আমরা যদি অসৎ কিছু করতাম তাহলে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড আমরা দখল করে নিতে পারতাম। এই দুটি জায়গা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তেমন উন্নয়নও হয়নি। আপনারা রক্ষা করতে পারতেন না। আমেরিকানরাও করত লো। টাইগার এক মস্ত বা ঠেলে দিল, তাতে সিগারেট। বন্ডের নিজের মরল্যান্ড স্পেশ্যাল ফুরিয়ে আসছিল। খুব শিগগির হয়ত স্থানীয় জিনিস ধরতে হত। সে একটা সিগারেট তুলে নিয়ে ধরাল।
মিঃ টনাকা, রাজনীতির ইতিহাস লেখে যারা, এসব তাদের ব্যাপার। আমার সাথে নেহাতই ছোটখাটো জিনিসের সম্পর্ক এবং সেই সব জিনিসের যাতে অতীত নয়, ভবিষ্যত নিরুপিত হয়। আমি সব বুঝতে পারছি কম্যান্ডার। সমান সমান করার চেষ্টাকে যে বন্ড পাশ কাটাল, তাতে টাইগার স্পষ্ট অসন্তুষ্ট হল। যাক, আপনি বলুন জাপান কেমন লাগছে? উপভোগ করছেন তো? ডিকো হেন্ডারসন থাকলে আমার মনে হয়, উপভোগ না করে উপায় নেই।
তা বটে। এমন লোক, এমনভাবে জীবন কাটায় যেন কালই মরে যাবে। এই হল বাঁচার মত বাঁচা। আমার খুব বন্ধু। ওর সঙ্গ আমার খুব ভাল লাগে। আমাদের কিছু কিছু ধাত এক। বন্ড পি করতে চেষ্টা করল, লোক সংঘ?
ঠিক তাই।
আপনাকে মনে হল খুব স্নেহ করে। আমি ওকে ভাল জানি না কিন্তু আমার মনে হয় ও বড় একা। দেখুন একা হওয়া এবং তার সাথে বুদ্ধিমান হওয়া খুব দুঃখজনক, খুব দুর্ভাগ্যের। যদি কোন মেয়েকে ও বিয়ে করে সুস্থিত হতে পারত তাহলেই ভাল হত না?
বন্ড এই ভেবে খুশি হচ্ছিল যে, কথাবার্তার ধরনটা ব্যক্তিতে এসে নেমেছে। তাহলে সে ঠিক পথেই এগোচ্ছে। অন্তত ক্ষমতার রাজনীতি নিয়ে কথাবার্তা বলার চেয়ে এটা ভাল রাস্তা। কিন্তু সেই দুঃসময় তো আসবেই। যখন তাকে মূল প্রসঙ্গের অবতারণা করতেই হবে। কিসে আপনার কাজে লাগতে পারি বলুন? সেই মাস কাটা যন্ত্রটা বুঝি?
বন্ড হাসল। হ্যাঁ, তাই। আর সেই বিশেষ যন্ত্রটার ট্রেডমার্ক হচ্ছে, ম্যাজিক, ৪৪। প্রস্তুতকারীদেরই দেওয়া।
আজ সকালেই আমার হাতে একটা জিনিস এসে পৌঁছেছে। এই যন্ত্রের যে কতদূর সামর্থ্য, এটা তার একটা বড় উদাহরণ। টাইগার টনাকা ড্রয়ার খুলে একটা ফাইল বার করে আনে। রোমান হরফে গোকুহি কথাটি লেখা আছে।
বন্ড ধরে নেয় গোকুহি কথাটির প্রতিশব্দ একান্ত গোপনীয়। টাকা ফাইল খুলে দুটো হলদে রঙের কাগজ বার করে আনে। একটা কাগজ বন্ডের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে, আমাকে কথা দিতে হবে যে এখন যা আপনি পড়তে যাচ্ছেন তা আপনি ঘুনাক্ষরে কারোর কাছে প্রকাশ করবেন না।
আপনি বললে আমাকে তো কথা দিতেই হবে মিঃ টাকা। কাগজটাতে লেখা ছিল এইরকম : দু নম্বর গ্রেড ও এবং তার ওপরের সব স্টেশনের জ্ঞাতার্থে। যাকে পাঠানো হচ্ছে সে নিজেই কেবল পড়বে। তারপর নষ্ট করে ফেলবে। নষ্ট হয়ে গেলে তা সাঙ্কেতিক লিপির সাহায্যে জানা যাবে। সংকেত, শনি সরেছে। এবার কাজের কথা পয়লা সেপ্টেম্বর সুপ্রীম সোভিয়েতে এক নম্বরের প্রকাশিত ভাষণের মর্ম অনুযায়ী এতদ্বারা সুদৃঢ়ভাবে জানানো হচ্ছে যে, দুটো মেগাটোনের অস্ত্র এখন আমাদের হাতে। সেটা পরীক্ষামূলকভাবে ছোঁড়া হবে বিশে সেপ্টেম্বর। অনেক উঁচু থেকে ছোঁড়া হবে, নোভাআসমলায়া অঞ্চলে। আশংকা করা যাচ্ছে এর গুড়ো ছড়িয়ে পড়বে এবং আর্টটিক নর্থ প্যাসেফিক ও আলাসকার জনগণ তাই নিয়ে সোরগোল তুলবে, এ-ও অনুমান করা হচ্ছে। সকলে জানুন যে, আই.বি.এম.-এর এরকম এক অস্ত্র লন্ডনে গেলে নিউক্যাসল এবং কার্লাইল এর দক্ষিণ বরাবর বিস্তীর্ণ জায়গার সমস্ত ধন প্রাণ সম্পূর্ণ ধ্বংস হবে এবং এর দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি যদি কাছাকাছি আবার্ডিন-এ গিয়ে পড়ে তাহলে বৃটেনে-এর এবং সমগ্র আয়ার্ল্যান্ডের অনিবার্য ধ্বংস সূচিত হবে। এই তথ্য এক নম্বর শিগগিরই ব্যবহার করবেন কূটনৈতিক কৌশল হিসাবে। যাতে বৃটেন থেকে আমেরিকান ঘাঁটি এবং সমস্ত মারণাস্ত্র অবিলম্বে অপসারিত হয় এবং বৃটেনেও যাতে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ কার্যকরী হয়। এতে করে অ্যাংলো-আমেরিকান আঁতাত এক বিরাট পরীক্ষার সম্মুখীন হবে এবং হয়ত পরিশেষে তার সমাধি রচিত হবে। কারণ ধরে নেওয়া যেতে পারে আমেরিকা নিজেকে বিপদগ্রস্ত করে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি নেবে না। এই কূটনৈতিক কৌশলে অবশ্যই খানিকটা ঝুঁকি আছে, তবু এতে যদি সফল হওয়া যায় তাহলে এই কৌশল য়ুরোপে এবং পরে প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রয়োগ করা হবে। যে সব দেশ একলা আছে, তাদের বেছে বেছে আলাদা করা হচ্ছে। তারপর তাদের ভয় দেখানো এবং নৈতিকতাহরণের কাজ চলবে এই কৌশলটি যদি খাটে, তবেই অদূর ভবিষ্যতে ইউ. এস. এস. আর-এর নিরঙ্কুশ নিরাপত্তা আমেরিকার সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব হবে। সুতরাং ইউ-এস.এস.আর-এর শক্তির নীতির ওপরেই বরাবর জোর দিয়ে যাবেন এক নম্বর, সব সরকারি এজেন্সীই তাই করবে। এই কৌশলের প্রাথমিক প্রয়োগের অন্তত চার দিন আগে বৃটেনে কর্মরত সমস্ত সোভিয়েত নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া হবে। তার কোন কারণ দর্শানো হবে না। তাতে বেশ সন্ত্রাস ও উত্তেজনার সৃষ্টি হবে। সেটা আমাদের অভিপ্রায়। উদ্দিষ্ট দেশে একই উপায়ে উত্তেজনা প্রশমনের কাজ চলবে, সেটা দ্বিতীয় কৌশল–তার কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। আপাতত তোমাদের কোনরকম সাবধানতা অবলম্বনের প্রয়োজন নেই শুধু তোমাদের মনকে গোপনে গোপনে তৈরি কর। বিদ্যুৎ হেনেছে এই সংকেত পাওয়া মাত্রই তা করতে হবে। চল্লিশ–চার এই সারকিট দিয়ে সেই সংকেত তোমার নিজের নামেই যাবে। লেখার শেষে সই; কেন্দ্র। বন্ড কাগজটা দূরে সরিয়ে দিল। চোখ তুলতে নাৈকার চোখে চোখ পড়ল। সে তাকে আগ্রহ ভরে দেখছে। এক নম্বর বোধহয় ক্রুশ্চেভ?
