তোমাকে এই সপ্তাহের মধ্যে জাপান যেতে হবে। চীফ অফ স্টাফ সমস্ত ব্যবস্থা নিজে হাতে করছেন। আমার সেক্রেটারি পর্যন্ত এ ব্যাপারে বিন্দুবিসর্গও জানে না।
জাপানি সিক্রেট সার্ভিস সম্বন্ধে তুমি যাবতীয় খবর পাবে জে সেকশনে। কর্নেল হ্যাঁমিলটনকে চীফ অফ স্টাফ বলে দেবে যাতে সে তোমার সব কথার জবাব দেয়। কিন্তু তুমি তাকে এই যাওয়ার ব্যাপারে একেবারে কিছু বলবে না।
M হাত দুটো টেবিলের ওপর জড় করেন। মোক্ষম কথাটি ছাড়বার আগে এটি তাঁর অতি পুরানো, পরিচিত ভঙ্গি। দেখে বন্ডের বুক যেন আরো লাফিয়ে ওঠে। টাইগার টনাকা বলে এক লোক আছে টোকিওতে, ওদের সিক্রেট সার্ভিসের প্রধান। প্রথমে অক্সফোর্ড তারপর যুদ্ধের সময় ফের ফিরে আসে ওদের হয়ে স্পাইগিরি করতে। যাই হোক লোকটা সি.আই.এ-র একেবারে কেনা গোলাম।
আমি রাজনীতির লোক নই। এক সি.আই.এ-র মারফত যেটুকু বার-টার করে বা শুনে-টুনে থাকবে, না হলে আমাদের সার্ভিস সম্বন্ধে ওরা বিশেষ কিছু জানে না। আর সেটা আমাদের পক্ষে খুব সহায়ক হবে না বলেই আমার মনে হয়। সেই ১২৫০ থেকে জাপানে আমাদের কোন স্টেশন নেই। যা যাবার সব গেছে আমেরিকানদের হাতে। তোমাকে কাজ করতে হবে অস্ট্রেলিয়াদের অধীনে। বন্ড বুদ্ধি দিয়ে বুঝতে পারছিল, এই কাজটার আড়ালে খুব কিছু একটা গোপনীয়তা রয়েছে। শুনে খুব জোরদার কাজ বলেই মনে হচ্ছে। কাজটা জরুরী বলেই মনে হচ্ছে। বন্ড জানাল যে, সে কাজটা হাতে নিয়ে একবার চেষ্টা করে দেখতে চায়।
M মাথা নেড়ে, ঝুঁকে পড়ে ইন্টারকম-এর বোতাম টিপলেন। চীফ অব স্টাফঃ 007-কে কি নম্বর দিয়েছেন? ঠিক আছে, ও সোজা আপনার সাথে দেখা করতে যাচ্ছে।
বন্ড দরজা খুলে বেরিয়ে এল। সোজা সে মিস মানিপেনীর কাছে চলে এল। তার গালে একটা চুমু খেয়ে বলল, মেরীকে একটা ফোন কর। বল, রাতে আমার সাথে ডিনার খেতে যাবে। আমি ওকে সাথে করে নিয়ে খাব। বন্ড ঘর পেরিয়ে চীফ অফ স্টাফের অফিসে গিয়ে ঢোকে।
মিস মানিপেনী ইন্টার-অফিসে টেলিফোনটা তুলে খবরটি জানিয়ে দেয়; জানাতে গিয়ে তার গলা শিউরে ওঠে। মেরী, আমার মনে হচ্ছে আবার সব হয়ে গেছে। জেমস্ এখন চীফ অফ স্টাফের ঘরে।
বিল ট্যানার প্রাক্তন কর্নেল ট্যানার, এই সিক্রেট সারভিসে বন্ডের সবচেয়ে বড় বন্ধু। বিল বলে দিয়েছে যেন তাকে বিরক্ত করা না হয়। বিল বন্ডকে দেখে খুশিতে হেসে ওঠে। বলে এই কাজটা একটু আলাদা ধরনের কাজ। ওই ডাব 0 সেকশন থেকে তোমার এবার বেরিয়ে আসা দরকার ।
বন্ড খুব জোরের সাথেই বলল, একেবারেই না। এই প্যাঁচ থেকে বেরিয়ে এসেই আমি আবার পুরনো নম্বর ফেরত চাইব। এখন বল দেখি আমি যে অস্ট্রেলিয়ান সাহায্য পাব সেটা কেমন করে? কিছু মাল হাতাতে পারলে সেগুলি পাচার করব কেমন করে? স্টেশন এইচ -এর যাবতীয় কিছু ওর কাছে থাকতে পারে। যদি ও চায় তাহলে ওর কোন লোককে হংকং-এ পাঠাতে পারে। আমরা একসঙ্গে বসে ঠিক করতে পারি। হ্যাঁমিলটন তোমাকে সব বলে দেবে। টোকিওতে তুমি যার হয়ে কাজ করবে সে একজন অস্ট্রেলীয় নাম হেন্ডারসন, রিচার্ড লাভলেস হেন্ডারসন। তোমার সাথে থাকবে অস্ট্রেলীয়ান পাসপোর্ট, তুমি যাবে ওখানকার দু নম্বর লোক হয়ে। এতে করে তুমি কূটনৈতিক মর্যাদা পাবে। তুমি যদি মালগুলো পাও, হেন্ডারসন তাহলে মেলবোর্নের ভেতর দিয়ে সেগুলো আমাদের কাছে পাচার করে দেবে। আমরা ওকে যোগাযোগের আলাদা এক লোক দেব। টকা লোকটাকেই কৌশল খাঁটিয়ে সব ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে জিনিসগুলো ঠিক ঠিক অস্ট্রেলীর দূতাবাসে গিয়ে পৌঁছায়। প্রধান সমস্যা যেটা, যাতে টনাকা সোজা সি.আই.এ.-র কাছে চলে না যায়, গিয়ে তাদের না বলে তোমার এই অভিসন্ধির কথা। পৃথিবীর কোথায় কোথায় তারা আমাদের ওপর তার জড়িয়ে খবর আড়ি পেতেছে তার ফাইল। এই ব্যাপারে যদি আমাদের ফাঁসিয়ে ছাড়ে আমরাও তাহলে ফাইলগুলো ম্যাককোনের মুখের ওপর ছুঁড়ে দেব। কিন্তু তোমার কাজের লক্ষ্যই হবে, এসব যাতে না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা।
এক সপ্তাহ পরে বন্ড লন্ডন বিমান বন্দরে ফোর জেট টারবোফ্যাম ডি সি-৮-এ বসে জাপানি ভাষায় অজস্র কথা শুনে যাচ্ছিল। হাওয়ার গতিবেগ হঠাৎ গোলমাল হলে কেউ যদি অসুস্থ হয়ে সেইজন্য সুন্দর বাঁশের প্রতীক চিহ্নের ওপর সাজানো রয়েছে ডাক্তারী বাকস।
স্টুয়ার্ডেস আনত হয়ে বন্ডের হাতে একটি সুদৃশ্য সুন্দর পাখা বেতের ঝুড়িতে ছোট এক গরম তোয়ালে তুলে দেয়। আর দেয় দামী ও রকমারি খাবারের তালিকা। তার সাথে একটি চিরকুট। তাতে লেখা, অনেক রকমের সিগারেট, সুগন্ধী এবং মুক্তা বিক্রির জন্য পাওয়া যাচ্ছে। তারপর যাত্রা; উত্তর মেরুর ওপর দিয়ে বিমানটি যাবে টোকিওতে।
প্লেনটা যখন ৩০,০০০ ফিট উঁচুতে ভাসছে, তখন বন্ড প্রথম দফার ব্রান্ডি এবং জিঞ্জার-এল আনতে হুকুম দিল। এতে নদীপথটুকু বেশ চলে যাবে।
.
আমি পিটি, তুমি পেটো
গিনজার কাছাকাছি এক ছোট রাস্তা, তারই মাঝখানে ভীড়ে ভর্তি এক ছোট বার। অস্ট্রেলিয়ার মহারাণীর কূটনৈতিক বাহিনীর লোক রিচার্ড লাভলেসা হেন্ডারসন সেই বার-এর চারদিকে ক্ষিপ্তভাবে তাকাতে থাকে। রাগে তার ঠোঁটের পাশ দুটো স্কুলে এসেছিল। সে বলে ওঠে, ব্যাটা আহাম্মক আমাদের পেছনে যে মাইক লেগেছে। সেই পেটো টনাকা মাইক বসিয়েছে আমাদের কথায় আড়ি পাততে। টেবিলের তলায় পায়ার সাথে জড়ানো পাতলা একটা তার দেখতে পাচ্ছ? বার এর ওপরে ওই ঘুলঘুলিটা দেখ। আর ঐ যে হাতকাটা লোকটাকে দেখছ, নীল স্যুট আর কালো টাই আঁটা ভদ্রলোক চেহারার, ও হচ্ছে টাইগারের লোক। টাইগার ওদের প্রত্যেককে সি.আই.এ. বাবুদের মত পোশাক পরিয়ে রাখে।
