-তা তুমি কি করবে ভাবছ? M বললেন, ছটিয়ে দেব। কথাটা তিনি বেশ নিষ্ঠুরভাবে বললেন। ধরে নেব কেউ ওকে গুলিতে ছিন্নভিন্ন করেছে। কিংবা কোন দুরূহ ব্যাধিতে ভুগছে। এই রকম লোকের জন্য কোন কাজ আমার নেই। ব্যাংকের নিরাপত্তার জন্য যে সব নতুন সংস্থা হয়েছে তারা কেউ নিতে পারে ওকে। বিখ্যাত নিউরলজিস্ট-এর ঝকঝকে নীল, বুদ্ধিদীপ্ত চোখের দিকে তাকালেন M। তার চোখে প্রতিরোধ। স্যার জেমস্ মোলোন আবার পিছনে হেলান দিয়ে বসলেন। জানালার বাইরে তাকিয়ে তিনি সিগারেটের ধোয়া ছাড়তে লাগলেন আপন মনে, কি যেন ভাবতে ভাবতে। এই বন্ড লোকটাকে তিনি পছন্দ করেন। দেখেছেন তার আত্ম-শক্তি এবং ভেতরের ধৈর্য কত ভয়ঙ্কর প্রতিকূল অবস্থা থেকে তাকে উদ্ধার করে এনেছে। সাধারণ লোক হয়ত সে ক্ষেত্রে ভেঙেই পড়ত। তিনি জানেন তেমন ভীষণ পরিস্থিতিতে পড়লেও তার মনের ধৈর্য ফের পেতে পারে। প্রকৃত সংকটে বাঁচার ইচ্ছা ওর মধ্যে জেগে উঠবে।
স্যার জেমস্ মন স্থির করে ফেললেন, তারপর M-এর দিকে ঘুরে বসলেন। ওকে আরেকটা সুযোগ দাও, M। দরকার হলে আমি তার দায়িত্ব নেব।
কি রকম সুযোগের কথা তুমি ভাবছ?
দেখ তোমার কাজকর্মের ধরন-ধারণ তেমন কিছুই জানি না, জানতেও চাই না। আমার নিজের কাজেই আমাকে ঢের গোপনীয়তা সামলাতে হয়। এমন কোন কোজ লোকটিকে দিতে পার না যা ভীষণ জরুরী অথচ করা প্রায় অসম্ভব। আমার কথা, ওকে একটি ধাক্কা দেওয়া দরকার। খাটতে খাটতে যেন কালঘাম ছুটে যায়। তাহলেই হয়ত ও এই নিজের দুঃখ-কষ্ট ভুলতে পারবে। নিজের দেশের প্রতি টান আছে ছোকরার। দেশের যাতে উপকার হয়, তেমন কোন কাজ দাও ওকে। তুমি পার না মাথা খাঁটিয়ে বের করতে তেমন কোন জরুরী কাজ? যাই হোক তুমি ওকে আর একটা। সুযোগ দাও।
মেরী গুডনাইট বসে টাইপ করছিল, সে লাফিয়ে উঠেছিল আসন ছেড়ে। কারণ কয়েক সপ্তাহ কোন সাড়াশব্দ না থাকার পর লাল টেলিফোনটা থরূথ করে হঠাৎ করে কেঁপে উঠেছিল। সে রিসিভারটা আস্তে করে তুলে নেয়। আমি তার সেক্রেটারি কথা বলছি। এরকম সাধারণ হয় না স্যার। আমার মনে হয় মিনিট কয়েকের মধ্যেই উনি এসে পড়বেন। এলে আপনাকে ফোন করতে বলব, স্যার? …রিসিভারটা সে নামিয়ে রাখে। সে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে। থেকে কয়েকটা কথাই মনে মনে আউড়ে চলে, জেমস্! জেমস! M তোমাকে খুঁজছেন। হঠাৎ তার বুকের মধ্যে ধ করে ওঠে। মেরী গুডনাইট বন্ডের মধ্যে ছুটে যায়। ড্রয়ার খুলে দেখে ছোট প্লাটিকের রিসিভার। এটার সাহায্যে সুইচবোর্ডের দ্বারা ওকে সংকেত পাঠানো যায়। জোরে জোরে চেঁচিয়ে ওঠে সে, তারপর নিজের ঘরে ফিরে আসে।
জেমস বন্ড এতদিন সব ভুলে ছিল। কিন্তু আজ আগস্টের শেষ দিন। সকালেই তার মনে পড়েছে আজ থেকে আট মাস আগে ট্রেসী তাকে ছেড়ে গেছে। রিজেন্ট পার্কে কুইন মেরীর গোলাপ বাগানে বসে বসে এতদিনের সেই ভুলে থাকা জিনিসগুলোই আজ তার মনকে আগাগোড়া আচ্ছন্ন করে ছিল। কাউকে কিছু না বলে গত কয়েক মাস ধরে সে। আরলে স্ট্রীট, উইগমোর স্ট্রীট, উইমপোল স্ট্রীট-এর পথে পথে ঘুরে বেরিয়েছে। শরীরটা তার মনে হচ্ছিল একেবারে। গোল্লায় গেছে। ভাল ঘুম হয় না। ডাক্তার বলেছে ঘুমের বড়ি খেতে, বলবর্ধক টনিক কিনতে আর শেষ ভরসা ছিল হিপনোটিস্ট। এইমাত্র বন্ড যেখান থেকে এল সব সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়ে। লোকটির ব্যবস্থা হচ্ছে, বন্ডকে তার পৌরুষত্ব। আবার ফিরে পেতে হবে এবং তার জন্য ওকে স্ত্রী সঙ্গম করতে হবে। সিঁড়ি দিয়ে খুব ধীরে ধীরে উঠতে বলেছে। লোকটির একটানা বকবকানি শুনতে শুনতে বন্ড খুব বিরক্ত বোধ করছিল। অফিসে যাবার আগে তাই সে বাগানে। নিরিবিলি জায়গায় বসেছিল। বন্ড ঘড়ি দেখল, ঘড়িতে এখন তিনটে বাজে। দারুণ গরম পড়েছে, সে একেবারে ঘেমে গেছে। দক্ষিণ ফ্রান্সের কোথাও এখন যেতে পারলে হত। ট্রেসী যাবার পর সেই ভয়ঙ্কর মাসটা ওরা তাকে ছেড়ে দিয়েছিল। তখন সে গিয়েছিল জ্যামাইকা। ওখানে চমৎকার গোলাপ রয়েছে দেখার মত। যাক এখন অফিসে ফিরে যাওয়াই ভাল। বন্ড উঠে দাঁড়াল। বন্ড অফিসে তার নিজের ঘরে এসে ঢুকল। মেরী গুডনাইট ওর দিকে ঠাণ্ডা চোখে তাকাল, শান্ত গলায় বলল, M তোমাকে খুঁজছেন। আধঘণ্টা আগে ফোন করেছিলেন। হয়ত কোন জরুরী খবর আছে! মেরী বন্ডকে উৎসাহ জোগাবার প্রাণপণ চেষ্টা করে। বন্ড টেলিফোনটা তুলে নেয়।
007 বলছি, স্যার।
আমি খুব দুঃখিত, স্যার। দাঁতের ডাক্তারের কাছে যেতে হয়েছিল।
আমি জানি স্যার, খুব দুঃখিত। টেবিলে ফেলে গিয়েছিলাম ওটা।
হ্যাঁ, স্যার।
খুব ধীরে ধীরে রিসিভারটা নামিয়ে রাখে। মিস মানিপেনী মুখ তুলে তাকায়। সে দারুণ রেগে গেছে; মুখে রাগ ঢাকবার চেষ্টাও নেই। ভেতরে যেতে পার।
বন্ড ঢোকবার আগে একবার প্যাড দেওয়া দরজাটার দিকে তাকায়। এই দরজার ওপারে সে কতবার তার ভাগ্যের ঘোষণা শুনেছে। বন্ড ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল।
.
অসম্ভবের অভিযান
M-এর পরনে নীল স্যুট। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন মস্ত জানালাটার ধারে। বন্ডকে দেখে তিনি বসতে বললেন। বন্ড তার নিজের জায়গায় বসল, চারদিকে চোখ বুলিয়ে হঠাৎ বন্ড-এর খুব খারাপ লাগল।
M তার চেয়ারে এসে বসে বন্ডকে বললেন, আমি তোমাকে ডাল-0 সেকশন থেকে সরিয়ে নিচ্ছি। আপাতত আমি তোমাকে কূটনৈতিক দপ্তরে প্রমোশন দিচ্ছি। চার অংকের নম্বর এবং বছরে আরো এক হাজার বেশি বেতন। তুমি এই দপ্তর সম্পর্কে তেমন কিছু জানো না। ওখানে আর মাত্র দুজন লোক আছে। তুমি ইচ্ছা করলে তোমার এই অফিস এবং তোমার এই সেক্রেটারিকে রাখতে পার। আমি সেটাই বরং বেশি চাইব।
