কিন্তু কিন্তু পালের গোদাটা যে ভেগে গেল। তিনটের সময় ওরা হোটেলে গেল। ট্রেসীর জন্য খবর আছে। হোটেলে পৌঁছেই যেন মার্ককে স্ট্রাসবার্গে ফোন করে। ঘরে গিয়ে ট্রেসী ফোন করল। এই যে বাবা এখানে আছে। প্রায় আস্তই আছে। ফোনটা দিল বন্ডের হাতে।
হ্যালো
না, পালিয়ে গেছে ওকে ধরতে পারলে না, প্রশ্ন করল মার্ক।
সাবাড়?
সাবাড়। জুরিখ থেকে তোমার সেই বন্ধুর কোন খবর পাওয়া গেল না। আমাদের দু জন গেছে তার মধ্যে চেচে একজন। এই হল খবর, পরে সব বলব।
সেই বান্ধবী ইরমার খবর কি?
কোন খোঁজ পেলাম না। ভালই হয়েছে, নয়তো অন্যদের মত অবস্থা হত।
তা ঠিক। ধন্যবাদ মার্ক, কাল দেখা হবে।
হবে তো?
বন্ড ফোন রেখে দিল। এদিক ওদিকে সে দেখে নিল। ট্রেসী ঘরে ঢুকল গোসল করে, দরজা ভেজিয়ে দিয়ে এল নিজের ঘরে। সুটকেস খুলে জামা আর ট্রাউজার বের করল বন্ড। গোসলের ঘরে ঢুকে গেল।
শিগগির গোসল করে পোশাক পরে টেবিলে বসল কাগজ পেসিল নিয়ে M-কে টেলিপ্রিন্টারে খবর পাঠাবে বলে। তারই খসড়া করে নিল।
রাস্তায় এসে গেল সে।
যদি অন্য চিন্তা তার মাথায় না ঘুরত, তবে রাস্তার উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে থাকা স্ত্রী লোকটিকে সে অবশ্যই দেখত।
খর্বাকৃতি, ঘন সবুজ গাউন পরা এক মহিলা। বন্ডকে হঠাৎ দেখে অবাক হয়ে গেল। হয়ত এই সময়ে বন্ডকে দেখতে পাবে আশা করেনি।
আস্তেই হাঁটছিল বন্ড। সুতরাং জনবহুল ফুটপাতে তাকে ফলো করা স্ত্রীলোকটির পক্ষে কোনই অসুবিধা হল না। দেখে মনে হয় এসব কাজ করতে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দুইই আছে।
বন্ড একটি নতুন বাড়িতে ঢুকে গেল।
একটু পরে বন্ড বের হয়ে আসতে সে আবার তার পিছু নিল।
বন্ড হোটেলে ঢোকার পর স্ত্রীলোকটি ট্যাক্সি নিয়ে ফিরে গেল তার হোটেলে। ফোন করল দূর পাল্লার নেককোমো, মেট্রোপোল হোটেলে।
বন্ড ট্রেসীর ঘরেই গিয়ে ঢুকল।
তোমার মাথার কাছে ফুল রেখেছিলাম, অনুযোগ করল সে। কেন তুমি জানালায় রেখে দিয়েছ?
তাজা থাকবে বলে, আর সুন্দর দেখাবে।
ঠিক তোমার মত সুন্দর।
কনুইতে এখনও ব্যথা আছে। ঠিকমত তোমার সাথে প্রেমও করতে পারছি না।
তবে বেঠিকভাবেই কর। কিন্তু আজ রাতে নয়। বিয়ের পর। এদিন আমি একটু কুমারী মনে করি নিজেকে।
তাই তো আছ। ভাল নাবেসেও প্রেম করা যায়, কি বল?
ভালবাসার গল্প পরে হবে।
বন্ড হেসে উঠল। একটি হাতে ট্রেসীকে ধরে দীর্ঘ চুমু খেল। তারপরেই সরে এল ওর কাছ থেকে। এই আমার কথার ভূমিকা। তুমি একটু সবুর কর ট্রেসী। ড্রিংকের পর আমরা যাব ডিনার খেতে আর সেখানে গিয়ে দুজনে গল্প করব, কি গল্প জান?
কি বল?
বিয়ের আংটি, একটা বিছানা আর বালিশ
চুপ কর তো।
সন্ধ্যেটা মনোরমভাবে কাটল তাদের।
কিন্তু অদ্ভুত এক আনন্দে ভরে গেল তার মন। এমন আনন্দের স্বাদ সে জীবনে কোনদিন পায়নি। এই প্রথম তার জীবন পূর্ণ হতে চলেছে। ভাবতে লাগল। তার সুখ-দুঃখের সাথী হবে একজন।
পরদিন মার্ক তার বিরাট ট্রেলর নিয়ে পৌঁছল। হোটেলের পেছনে কোনরকমে রাখা হল ট্রেলর। পুরো দিনটা হৈ হট্টগোলে কেটে গেল। আর সন্ধ্যেবেলা বের হল তিনজন বিয়ের আংটি কেনার জন্য। তারপর কিনতে হবে বিয়ের ড্রেস, হোটেলে বন্ড ও ট্রেসী ফিরে এল। মার্ক বলল, সে পরে ফিরে আসবে। হোটেলে ঢুকতেই ফোন বেজে উঠল। বন্ড ফোন তুলে নিল।
মার্ক নিচে যাওয়ার জন্য ডাকছে। সে যেন একবার হোটেলের লাউঞ্জে চলে আসে। কিছু অত্যন্ত জরুরী কথা আছে। না, ট্রেসীকে না আনলেও চলবে।
বন্ড নিচে নেমে দেখল তার জন্য মার্ক অপেক্ষা করছে। জায়গাটা একদম জনশূন্য। শোন বন্ড, তোমার সাথে আলাদাভাবে কথা বলার সুযোগ হয়নি। আমি কিন্তু তোমার শ্বশুর হয়ে যাব। সেটা মনে আছে তো? শুধু একটু খুলে বল দেখি, কি বলবে? তোমার ব্যাংকের নাম কি আছে।
চুপ করে থাক। একদম আজেবাজে বলবে না। তুমি যদি মনে করে থাক তোমার কাছ থেকে আমি অনেক টাকা নেব তা যে কোন পাউন্ডেই হোক না কেন, তাহলে সেটা তোমার ভুল ধারণা। আমার জীবনটা একদম নষ্ট হয়ে যাক এটা আমি মনে করি না। জীবনে অতিরিক্ত টাকা বয়ে আনে অভিশাপ। আর তুমি তা আমার জীবনের ওপর চাপিয়ে দেবে না। আমার যথেষ্ট টাকা আছে। তা আমার জীবন চালাতে কোন অসুবিধে হবে বলে মনে করি না।
মার্ক এবার সত্যি রেগে গেল। তুমি মদ খাচ্ছ। বর্তমানে তুমি মাতাল হয়ে আছ, তুমি কি বলে যাচ্ছ তা তুমি নিজেই জান না। তোমাকে আমি যা দেব তা আমার জমানোর পাঁচ ভাগের এক ভাগ। এবার তোমার মাথায় গেছে তো? এটা আমার কাছে কিছুই নয়। ট্রেসী জীবনে যা চেয়েছিল তাই পেয়েছে। আমি চাই বিয়ের পরই সে তেমনিভাবে থাকবে। সে আমার একমাত্র সন্তান। তোমার সীমিত সরকারী টাকাতে কত কিছু তুমি করবে? এটি মনে কর তোমার বিয়ের উপহার। আর অন্য কিছু ভাববে না। আমার এই উপহার তোমাকে নিতেই হবে।
দেখ মার্ক তুমি যদি এই টাকা আমাকে দাও তবে আমি তা অন্যকে দান করে দেব। তুমি যদি মনে কর তবে তাই কর।
কি জেমস্, তবে তুমি আমার কাছ থেকে কি নেবে? তাহলে তোমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানের জন্য স্টার্ট ফান্ড করে রেখে দেবে।
সেটা তো আরো বাজে ব্যাপার। যদি আমাদের সন্তান হয় তবে আমি চাই না তাদের গলায় ফাঁসের দড়ি পড় ক। আমার কোনদিন অর্থ বেশি নেই আর প্রয়োজনও নেই। আমরা শুধু তোমার কাছেই আসব। কেমন হবে তো? জীবনে কতরকম বিপদই না দেখা দেবে, আসুক, দুর্ঘটনা আরো কত কি? গ্রামের নির্জন কোন স্থানে একটা ছোট আস্তানা রাখার ইচ্ছে আছে বহুদিন থেকে। তখন আমাদের কিছু টাকার দরকার হয়ে পড়বে। তারপর যদি বাচ্চা হয় তবে তখনই সাহায্যের দরকার হতে পারে। কি বল তুমি তাই না? এমন হলে কি রকম ভাল ব্যাপার হবে বল তো। তেমনি করুণ বিষণ্ণ চোখে-মুখে মার্ক তাকিয়ে থাকল।
